শিরোনাম
বিবিসি নিউজ বাংলা
প্রকাশ: ০৯:৪৯, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
ওসমান হাদির মৃত্যুতে বৃহষ্পতিবার দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা প্রথম আলো ও ডেইলী স্টারে আগুন দেয়া হয়। বিবিসি নিউজ বাংলার সৌজন্যে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘোষণা আসার পর একদল হামলাকারী দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে ভাঙচুর করে আগুন দেয়, এতে প্রথম আলোর একটি ভবন পুরোপুরি পুড়ে গেছে।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকার কারওয়ানবাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর চারতলা ভাবনটি পুরোপুরি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু জায়গা থেকে তখনও ধোয়া উঠতে দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসের একটি টিমকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত, ভবনটিতে প্রকাশনী ও বইয়ের অনলাইন বাজার প্রথমা এবং প্রথম আলোর মার্কেটিং ও মানবসম্পদ বিভাগের কার্যালয় ছিল।
এর আগে, ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতভর দেশের বিভিন্ন স্থানে ভবনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কারওয়ানবাজারে অবস্থিত দেশের দুটি শীর্ষ গণমাধ্যমের অফিস ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়। এসময় সেখানে অবস্থানরত সংবাদকর্মীরা আটকা পড়েন।
পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের ক্রেনের সাহায্যে উদ্ধার করেন এবং আগুন নেভান। হামলাকারীদের সংবাদমাধ্যমের অফিসের ভেতরে লুটতরাজও করতে দেখা গেছে।
এসময় সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও হেনস্তা করা হয়।
পরে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে শুক্রবার সকালে প্রথম আলোর সামনে র্যাবের একটি টিম এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য থাকলেও কোনো সেনা সদস্যকে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পর্যাপ্ত তথ্য নেই বলে জানান ডিউটি অফিসারও।
এছাড়াও রাত একটার দিকে ধানমন্ডিতে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
হামলার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ছায়ানটের ফেসবুকে দেওয়া এক ঘোষণায়, ভবনটিতে পরিচালিত 'ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তনের' ক্লাসসহ সংগঠনের সব কার্যক্রম পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আবারও ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয় আগে দুইবার গুড়িয়ে দেওয়া ধানমন্ডি-৩২'এ থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি। সকাল সাড়ে আটটার দিকেও বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেওয়া লাইভে কয়েকজনকে ইট দিয়ে বাড়ির অবশিষ্ট দেয়াল ভাঙতে দেখা যায়।
কেবল রাজধানীতেই না, হামলার শিকার হয়েছে চট্টগ্রামের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়ও। কার্যালয়ের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর কিছু লোক এসে ভবনে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়লে হামলাকারীরা ইট-পাটকেল মারে। পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে ধরিয়ে দিলে রাত দুইটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এছাড়াও রাত সোয়া ১১টার দিকে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিনের বাসায় আগুন দেওয়া হয়। গুড়িয়ে দেওয়া হয় রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস।
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া
সারারাত এসব ঘটনার চলার পর রাত সাড়ে চারটার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেইজ থেকে দেওয়া এক বার্তায় লেখা হয়, "ওসমান হাদীকে যারা খুন করেছে তাদের হাতে দেশকে তুলে দিয়েন না"।
"ভাঙচুর আর আগুন সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে তারা মূলত বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। তারা এই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে চায়। ৩২ আর ৩৬ এক জিনিস না এইটা আপনাদের বুঝতে হবে"।
প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীরও। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজে তিনি লেখেন, "ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দুস্কৃতিকারিরা আবারো দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ নৈরাজ্যের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। দুস্কৃতিকারিদের নির্মম হামলায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি নিহতের ঘটনা সেই অপতৎপরতারই বহিঃপ্রকাশ"।
"দুস্কৃতিকারি সন্ত্রাসীদের কঠোর হস্তে দমনের বিকল্প নেই" বলেও পোস্টটিতে লেখেন তিনি।
ফেসবুকে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান লিখেছেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়ার তাওফিক দান করুন। ধৈর্যই মজলুমের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। ধৈর্য ধরার কোনোই বিকল্প নেই"।
"দেশটা আমাদের সকলেরই অস্তিত্বের অংশ। আশা করি সকলেই সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিবো"।