শিরোনাম
ডেইলী স্টার (বাংলা)-এর সৌজন্যে
প্রকাশ: ২০:১৫, ১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২০:২০, ১ মার্চ ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত।
পাকিস্তানে ইরানের সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। রোববার করাচি শহরে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভের সময় এ ঘটনা ঘটে, খবর দিয়েছে বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলী স্টার।
স্থানীয় একটি উদ্ধারকারী সংস্থার মুখপাত্র মুহাম্মদ আমিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা করাচির সিভিল হাসপাতালে অন্তত আট জনের মরদেহ পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।’ তিনি জানান, হতাহতদের বেশির ভাগেরই শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে কয়েক শত বিক্ষোভকারী করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেট ঘেরাও করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষ বেধে যায়।
আল জাজিরার এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটের কমপাউন্ডে ঢুকে পড়েছিলেন। এ সময় একজনকে কনস্যুলেট ভবনের একটি জানালায় আগুন ধরিয়ে দিতে দেখা যায়। এদিকে, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর ডা. শফিকুর রহমান আজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় খামেনির নিহতের ঘটনায় তিনি এই শোকবাণী দেন।
আজ সকাল ১১:২৫ মিনিটে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন:
“ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত।”
তিনি ইরানের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং দোয়া করেন যেন মহান আল্লাহ এই কঠিন সময়ে তাদের ধৈর্য ও শক্তি দান করেন।
পাকিস্তানের ইংরেজি পত্রিকা ডন লিখেছে: করাচিতে রবিবার মার্কিন কনসুলেটের কাছে বিক্ষোভকারী ও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে শুরু হওয়া প্রতিবাদের অংশ হিসেবে মাই কোলাচি রোডে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানজুড়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন:
“আজকের দিনটি পুরো মুসলিম উম্মাহ, পাকিস্তান ও ইরানের জনগণের জন্য অত্যন্ত শোকের একটি দিন।”
নকভি আরও বলেন যে, প্রতিটি পাকিস্তানি নাগরিক ইরানের মানুষের মতোই ব্যথিত। তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আমরা আপনাদের পাশেই আছি, কিন্তু দয়া করে আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। আপনারা প্রতিবাদ করতে পারেন, তবে তা যেন শান্তিপূর্ণ হয়।”
তুরস্কের ডেইলী সাবাহ লিখেছে: তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তেহরান এই হত্যাকাণ্ডের ‘ভয়াবহ প্রতিশোধ’ নেওয়ার অঙ্গীকার করায় সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতারা শান্তি বজায় রাখা এবং আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: রবিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা শহরের ‘কেন্দ্রে’ আঘাত হানছে।
ইরানের পাল্টা হামলা: ইরান তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইন জানিয়েছে যে তারা ইরানের ছোড়া একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত: ওমান জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া দুকম (Duqm) বন্দরে—যা মার্কিন নৌবাহিনীর লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়—ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
অনিশ্চয়তায় ইরান: খামেনির কোনো উত্তরসূরি নির্ধারিত না থাকায় ইরানের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সামরিক তৎপরতা
যুক্তরাজ্যের অবস্থান:
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি জানিয়েছেন, বাহরাইনে থাকা ৩০০ ব্রিটিশ সৈন্যের খুব কাছাকাছি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে। এমনকি সাইপ্রাসের ব্রিটিশ ঘাঁটির দিকেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান যেকোনো ইরানি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা:
শনিবার বড় ধরনের হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাধারণ মানুষকে তাদের ‘ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার’ এবং ১৯৭৯ সাল থেকে শাসিত ইসলামি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি বৈঠক:
ইইউ-এর ২৭টি দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা রবিবার একটি জরুরি বৈঠকে বসছেন। ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস ইরানের এই ‘নির্বিচার হামলার’ নিন্দা জানিয়েছেন এবং সংঘাত যেন আর না ছড়ায় সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
ভ্যাটিকানের উদ্বেগ:
পোপ লিও চতুর্দশ মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন। তিনি উভয় পক্ষকে এই সহিংসতার চক্র বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, "এটি যেন অপূরণীয় অতল গহ্বরে পরিণত না হয়।"