শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ০৯:২৫, ১ মার্চ ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর পাল্টা আক্রমণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় শনিবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে হাজারো ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে।
প্যারিস থেকে এএফপি জানায়, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, সিরিয়া, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আকাশসীমা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা করেছে। তেহরানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাওয়ার পর এবং ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি রাজধানীতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আকাশে যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের ছুটে চলা দেখেছেন।
আকাশসীমা বন্ধ
ইরান ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ পুরো আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে।
ইসরাইলও বেসামরিক ফ্লাইটের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করেছে।
কাতার সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করেছে।
ইরাক পুরো আকাশসীমা বন্ধ করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত আংশিক ও সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে।
সিরিয়া ইসরাইল সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলের আকাশপথ ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।
কুয়েত আকাশসীমা বন্ধ করেছে।
জর্ডানের বিমানবাহিনী দেশের আকাশসীমা রক্ষায় মহড়া চালিয়েছে।
ফ্লাইট বাতিল
একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে,
কাতার এয়ারওয়েজ: দোহা থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত।
রাশিয়ার রোসাভিয়াতসিয়া: ইসরাইল ও ইরানে সব বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল।
এয়ার ইন্ডিয়া: মধ্যপ্রাচ্যের সব গন্তব্যে ফ্লাইট স্থগিত।
পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স: সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, দোহা ও কুয়েতে ফ্লাইট স্থগিত।
তুর্কি এয়ারলাইন্স: ১০টি মধ্যপ্রাচ্যের দেশে ফ্লাইট স্থগিত।
এয়ার ফ্রান্স: দুবাই, রিয়াদ ও বৈরুতগামী শনিবারের ফ্লাইট বাতিল; তেলআবিবে ফ্লাইট রবিবার পর্যন্ত স্থগিত।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ: তেলআবিব ও বাহরাইনে ফ্লাইট ৪ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ।
লুফথানা: তেলআবিব, বৈরুত, আম্মান, এরবিল ও তেহরানগামী ফ্লাইট ৭ মার্চ পর্যন্ত বাতিল।
এয়ার আলজেরি, নরওয়েজিয়ানসহ আরও কয়েকটি সংস্থা দুবাইসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানিয়েছে, জিএমটি ১২৩০ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ১১ হাজার ২০০টির বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত এবং এক হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের হামলা ‘বিপজ্জনক চেইন রি-অ্যাকশন’ সৃষ্টি করছে : রেড ক্রস প্রধান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা পুরো অঞ্চলে এক ‘বিপজ্জনক চেইন রি-অ্যাকশন’ সৃষ্টি করছে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) প্রধান।
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলিয়ারিচ শনিবার এক বিবৃতিতে দেশগুলোর প্রতি যুদ্ধের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান এবং ‘আরও মৃত্যু ও ধ্বংস’ ঠেকাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শনের অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা পুরো অঞ্চলে একটি বিপজ্জনক শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে, যার ফলে বেসামরিক মানুষের জন্য সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।’
স্পোলিয়ারিচ জোর দিয়ে বলেন, ‘যুদ্ধের নিয়ম মেনে চলা কোনো পছন্দের বিষয় নয়, এটি বাধ্যবাধকতা। আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, বিশেষ করে চারটি জেনেভা কনভেনশন, প্রযোজ্য।’
জেনেভাভিত্তিক আইসিআরসি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের (আইএইচএল) রক্ষক হিসেবে কাজ করে. যার লক্ষ্য সশস্ত্র সংঘাতের প্রভাব সীমিত করা এবং যেসব ব্যক্তি সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন না বা আর অংশ নিচ্ছেন না, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল, বাড়িঘর ও স্কুলের মতো বেসামরিক অবকাঠামোকে হামলা থেকে রক্ষা করতে হবে। চিকিৎসাকর্মী ও জরুরি সেবাদানকারীদের নিরাপদে তাদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে।’
স্পোলিয়ারিচ জানান, ইরান, ইসরাইল এবং অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে আইসিআরসির দল মাঠপর্যায়ে কাজ করছে এবং তাদের দায়িত্বসীমার মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন সংঘাতে সৃষ্ট দুর্ভোগের গতি ও পরিসরের সঙ্গে মানবিক সহায়তা তাল মিলাতে পারে না; শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আরও মৃত্যু-ধ্বংস ঠেকাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য।’