ঢাকা, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

১৭ ফাল্গুন ১৪৩২, ১১ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে: মির্জা ফখরুল
Scroll
ইরানের পরিস্থিতিতে স্থগিত ফ্লাইট পুনঃনির্ধারণে সরকারের নজরদারি
Scroll
মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছুদের সহায়তায় মন্ত্রণালয়ের হটলাইন চালু
Scroll
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
Scroll
শীর্ষ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Scroll
খামেনির মৃত্যু: করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ, গুলিতে নিহত ৯
Scroll
ইরানে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানাল বাংলাদেশ
Scroll
ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালকে ৫শ’ বেডে উন্নীত করা হবে : মির্জা ফখরুল
Scroll
রমজানের পরই সিটি করপোরেশন নির্বাচন : ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ
Scroll
দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা নেয়ার মাত্র ১৩ দিনেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি
Scroll
প্রধানমন্ত্রী ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মাঝেও বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন
Scroll
মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক শেয়ার বাজারে দরপতন, তেলের দাম বাড়তি
Scroll
সব পক্ষকে ‘যৌক্তিক আচরণের’ আহ্বান জাতিসংঘের
Scroll
জাহাজ কোম্পানি তাদের জাহাজ পারস্য উপসাগর থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ
Scroll
জেদ্দা-রিয়াদ-মাস্কাটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট চলবে আজ থেকে
Scroll
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের স্কুলে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৮
Scroll
ইরানের মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টাহামলা
Scroll
পত্রিকা: ’জ্বালানিতে বড় সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ’
Scroll
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন
Scroll
মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ আকাশসীমা বন্ধ করেছে, অধিকাংশ ফ্লাইট বাতিল

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯:০৬, ১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০৯:১১, ১ মার্চ ২০২৬

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত।

শনিবার সকালে তেহরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনেইকে `ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ব্যক্তি' হিসেবে অভিহিত করে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর এই ঘোষণা আসে,' খবর ইউরো নিউজের। 

খামেনেইর মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে শনিবার রাতে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ লিখেন, "ইতিহাসের অন্যতম পৈশাচিক ব্যক্তি খামেনেই মারা গেছেন।" ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, খামেনেইর বাসভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করার পর সেই ছবি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দেখানো হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় এক টেলিভিশন ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, "আজ সকালে এক শক্তিশালী আকস্মিক হামলায় তেহরানের হৃদপিণ্ডে স্বৈরাচারী আলী খামেনেইর আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে... এবং অনেক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যে এই স্বৈরাচার আর বেঁচে নেই।" এনবিসি এবং এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ এই হামলায় নির্মূল হয়েছে। পরবর্তী নেতৃত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কিছুটা বিদ্রূপ করে বলেন, "আমি জানি না, তবে কোনো এক সময় হয়তো তারা আমাকেই ফোন করে জিজ্ঞেস করবে আমি কাকে (ক্ষমতায়) দেখতে চাই।"

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, এই হামলায় খামেনেই ছাড়াও রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর, খামেনেইর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী শামখানি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহসহ সাতজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

এদিকে খামেনেইর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তেহরানের বিভিন্ন অংশে উল্লাসের খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১১টার দিকে অনেক মানুষ তাদের জানালা থেকে হাততালি দিয়ে এবং গান বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তবে এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান থেকে মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এমনকি বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলার খবরও পাওয়া গেছে।

১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ৮৬ বছর বয়সী খামেনেই ছিলেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং নীতি নির্ধারণী সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অধিকারী।

উল্লেখ্য যে, হামলার পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রথমে খামেনেই বেঁচে আছেন বলে দাবি করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তারা মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন।

বিবিসি যোগ করেছে: আমেরিকা এবং ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে এই ভয়াবহ হামলার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করেছে বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন:

পারমাণবিক কর্মসূচি নির্মূল করা: ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করার সব সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। গত বছর (জুন ২০২৫) মার্কিন অভিযানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার দাবি করা হলেও, গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে যে ইরান সেগুলো পুনরায় তৈরি করছে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাচ্ছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক হুমকি: ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টাকে আমেরিকা তাদের নিজ দেশ এবং ইউরোপের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে। এছাড়া ইরান সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধ করাও এই হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল।

সরকার পতন বা 'রেজিম চেঞ্জ': ট্রাম্প সরাসরি ইরানের জনগণকে তাদের ভাগ্য নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার এবং সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এই হামলাকে ইরানের সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এছাড়াও ট্রাম্প ১৯৭৯ সালের মার্কিন দূতাবাস দখল এবং ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন ব্যারাকে বোমা হামলার মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকেও এই সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা হিসেবে তুলে ধরেন।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন