শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ১৫:১১, ১ মার্চ ২০২৬
জাতিসংঘ সদর দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত।
মধ্যপ্রাচ্যে শনিবারের ভয়াবহ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান সব পক্ষকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এ ধরনের হামলা কেবল ‘মৃত্যু, ধ্বংস আর মানবিক বিপর্যয়ই’ ডেকে আনবে।
জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ সকালে ইরানজুড়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সামরিক হামলা এবং পরবর্তীতে ইরানের পাল্টা আঘাতের ঘটনায় আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।’
তিনি বলেন, ‘যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতের চূড়ান্ত মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। বোমা আর ক্ষেপণাস্ত্র কোনো বিরোধের সমাধান হতে পারে না। এগুলো কেবল মানুষের দুর্দশাই বাড়ায়।’
ভলকার তুর্ক আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ওপর এই ভয়াবহ পরিণতি এড়াতে আমি সব পক্ষকে সংযত হওয়ার এবং বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসুন। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও আপনারা সেখানে সক্রিয়ভাবে সমাধানের পথ খুঁজছিলেন।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘শান্তি স্থাপনে ব্যর্থ হলে এই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়বে। এর ফলে কেবল ইরানেই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে অকল্পনীয় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঝুঁকি তৈরি হবে।’
গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতার মাধ্যমে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এই সংঘাত শুরু হলো।
ভলকার তুর্ক স্মরণ করিয়ে দেন যে, যুদ্ধে সাধারণ জনগণের সুরক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা যুদ্ধের নিয়ম লঙ্ঘন করবে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন যেকোনো ঝুঁকি কমাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ, এর প্রভাব পুরো অঞ্চলের মানুষের ওপর পড়বে। আমরা নেতাদের প্রতি ধ্বংসের পথ ছেড়ে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’