ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

৫ শ্রাবণ ১৪৩৩, ০৩ সফর ১৪৪৮

মেরামত শেষে যুদ্ধবিধ্বস্ত রুটে ইরানের রেল পরিষেবা আবারও শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১:০২, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২১:০৭, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

মেরামত শেষে যুদ্ধবিধ্বস্ত রুটে ইরানের রেল পরিষেবা আবারও শুরু

প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।

গত কয়েক দিন ধরে ইরানের কর্তৃপক্ষ প্রায় ৪০ দিনের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সেতু, রেলপথ এবং অন্যান্য অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সোমবার জানিয়েছে যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রেলপথের বিভিন্ন অংশ মেরামতের পর গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে রেল পরিষেবা পুনরায় শুরু করা হয়েছে, খবর ডেকান ক্রনিকলের। 

গত বুধবার থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত সেতু, রেলপথ এবং অন্যান্য অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করে। ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আজারবাইজান অঞ্চলের রেলওয়ের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, তাবরিজ শহর থেকে রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বের মাশহাদ অভিমুখী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA)-র তথ্য অনুযায়ী আলিরেজা সোলেইমানি বলেন, "চার থেকে পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর এই ট্রেনগুলো আবার চলাচল শুরু করেছে। তেহরান-তাবরিজ-ভান ট্রেনটিও গত রাতে পুনর্নির্মিত ট্র্যাক ব্যবহার করে তেহরান থেকে তুরস্কের ভানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।" তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে কোয়ম প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর খসরো সামারি জানান, তেহরানের দক্ষিণে কোয়ম শহরের কাছে একটি রেল সেতুও শনিবার পুনর্নির্মাণের পর খুলে দেওয়া হয়েছে, যা সম্পন্ন করতে ৪০ ঘণ্টারও কম সময় লেগেছে।

গত শুক্রবার তাসনিম একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা গেছে যে, ইরানের মধ্যঞ্চলীয় ইসফাহান প্রদেশের কাশান শহরের ইয়াহিয়া আবাদ সেতু দিয়ে একটি ট্রেন পার হচ্ছে। সংবাদ সংস্থাটি দাবি করেছে যে গত মঙ্গলবার ওই সেতুটি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং দ্রুত পুনর্নির্মাণের পর প্রথম ট্রেনটি আজ ওই সেতু অতিক্রম করেছে। রাজধানী তেহরানে বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। যে ভবনগুলো অতিরিক্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো ঢেকে দেওয়া হয়েছে অথবা ইরানি পতাকা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি রবিবার বলেছেন যে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পুনর্নির্মাণ করতে তিন মাস থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে। তিনি আরও জানান যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১২৫,০০০-এরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই আবাসিক, তবে এর মধ্যে স্কুল, হাসপাতাল এবং অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনাও রয়েছে।

 

 

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন