ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩:২২, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঐতিহাসিক মুখোমুখি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার দেশদুটিকে তাদের যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
দার বলেছেন, “উভয় পক্ষের জন্য যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও জানান, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে এবং আগামী দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ সহজতর করার চেষ্টা করবে, খবর ডেকান ক্রনিকল ও সিবিএস নিউজের।
এদিকে, হরমোজ প্রণালী অতিক্রম করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার: সেন্টকম
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে মাইন অপসারণ অভিযান শুরু করতে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার হরমোজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।
সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে, ডেস্ট্রয়ারগুলো প্রণালী পার হয়ে আরব সাগরে কার্যক্রম চালাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আন্ডারওয়াটার ড্রোনসহ আরও অতিরিক্ত মার্কিন বাহিনী এই অভিযানে যোগ দেবে বলে সেন্টকম উল্লেখ করেছে।
এই অভিযানটি এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শনিবার 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ জানিয়েছেন যে, প্রণালী থেকে মাইন অপসারণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মূলত "সারা বিশ্বের দেশগুলোর উপকার" করছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, ইরানের সব মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, "পানিতে হয়তো তাদের সামান্য কিছু মাইন আছে। আমাদের মাইনসুইপার সেখানে আছে। আমরা প্রণালীটি পরিষ্কার করছি।"
এদিকে এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) পরবর্তীতে একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে তারা "কঠোর" ব্যবস্থা নেবে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-র মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি-র নৌ কমান্ড জানায়, "হরমোজ প্রণালী দিয়ে সামরিক জাহাজ চলাচলের যেকোনো প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। হরমোজ প্রণালী বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিচালনা করার পূর্ণ কর্তৃত্ব আইআরজিসি নৌবাহিনীর রয়েছে।"
আইআরজিসি আরও যোগ করেছে যে, প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি শুধুমাত্র "নির্দিষ্ট শর্তাধীনে বেসামরিক জাহাজগুলোকে" দেওয়া হবে।এদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরান ও পাকিস্তানের সাথে ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদ সফর করেন। তবে টানা ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ ম্যারাথন আলোচনার পর রবিবার ভোরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি আরও যোগ করেন, ইরান "আমাদের শর্তগুলো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।"
সংবাদ সম্মেলনের কিছুক্ষণ পরেই ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর শনিবারই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি আলোচনায় বসেছিল। রবিবারের এই আলোচনার আগে দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ হয়েছিল ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে, যখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য নবনির্বাচিত ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে ফোন করেছিলেন।
গত মার্চের শেষের দিকে মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছিলেন যে, ওই জলপথে অন্তত এক ডজন সাবমেরিন মাইন স্থাপন করা হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণ করা হয়। এই মাইনগুলোর মধ্যে রয়েছে 'মাহাম-৩' (এক ধরণের নোঙর করা মাইন যা সেন্সরের মাধ্যমে কাজ করে) এবং 'মাহাম-৭' নামের একটি 'স্টিকিং মাইন', যা সমুদ্রের তলদেশে থাকে এবং লক্ষ্যবস্তু নাগালের মধ্যে না আসা পর্যন্ত সক্রিয় হয় না। দুটি সরঞ্জামই ইরানে তৈরি। এছাড়া প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ চলাকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন। তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেন এবং সতর্ক করেন যে, হরমোজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া না হলে "একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।"