ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১:৩৫, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: ফাইল।
২০২৬ সালের প্রাণবন্ত সোনক্রান (সংক্রান্তি) উৎসবকে (১৩ – ১৫ এপ্রিল) সামনে রেখে থাইল্যান্ড যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন সবার নজর এখন থাইল্যান্ডের পর্যটন কর্তৃপক্ষের (Tourism Authority of Thailand) কৌশল পরিবর্তনের দিকে।
পর্যটকদের নিছক সংখ্যার পেছনে না ছুটে এখনকার মূল লক্ষ্য হলো সেবার মান এবং গভীরতা বাড়ানো—অর্থাৎ সাফল্যের মাপকাঠি এখন ভিড়ের আকার নয়, বরং পর্যটকদের ব্যয় ও অভিজ্ঞতার মান, খবর ট্যুরিজম-রিভিউ ডট কম-এর।
বিশ্ববাজারের পরিবর্তন, পর্যটকদের অভ্যাস বদল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিযোগিতার কারণে থাইল্যান্ড এই নতুন পথ বেছে নিয়েছে। এই পথচলার মূল ভাবনা হলো "দ্য নিউ থাইল্যান্ড", যেখানে পরিকল্পিত ও টেকসই প্রবৃদ্ধিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
টিএটি (TAT) গভর্নর থাপানি কিয়াতফাইবুল এই পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন: "আমরা মানসম্মত অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করছি, উন্নত বাজার সম্প্রসারণ করছি এবং 'ট্রাস্টেড থাইল্যান্ড' কাঠামোর মাধ্যমে নিরাপত্তা, গুণমান ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করছি। একই সাথে, আমাদের বৈশ্বিক যোগাযোগের মূল বার্তা 'হিলিং ইজ দ্য নিউ লাক্সারি' পর্যটকদের পরিবর্তনশীল চাহিদাকে প্রতিফলিত করে এবং থাইল্যান্ডকে এমন একটি গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করে যেখানে মান এবং মানসিক প্রশান্তি উভয়ই পাওয়া যায়।"
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং ভোক্তাদের সতর্ক অভ্যাস সত্ত্বেও, ২০২৫ সালে থাইল্যান্ডের পর্যটন খাত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করেছিল। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ২০২৬ সালের বর্তমান প্রবণতাগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমনের ক্ষেত্রে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে। তবে এখন পর্যটকদের মধ্যে ভ্রমণের সময়কাল কমিয়ে আনা এবং কঠোর বাজেট মেনে চলার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন পর্যটকের সংখ্যার চেয়ে জনপ্রতি আয় বাড়ানোর দিকেই বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে।
২০২৬ সালের শুরুর দিকের গতিধারা
২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) থাইল্যান্ডে ৯.৩১ মিলিয়ন বিদেশী পর্যটক এসেছেন। এদের মধ্যে শীর্ষে ছিল চীন (১.৪৯ মিলিয়ন), এরপর মালয়েশিয়া (৯৬০,০০০)। রাশিয়া থেকে এসেছে ৭২৬,০০০ এবং ভারত থেকে ৬২৬,০০০ পর্যটক। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এসেছেন ৪১২,০০০ জন। যদিও যুক্তরাজ্য, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপান থেকে আসা পর্যটকদের সংখ্যা তুলনামূলক কম, তবে তাদের ব্যয়ের হার ছিল অনেক বেশি, যা পর্যটন আয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।
সোনক্রান উৎসবের অর্থনৈতিক প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ
সোনক্রান অর্থাৎ থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উদযাপনের সময় রাজপথে যখন পানির উৎসব শুরু হয়, তখন ভ্রমণের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। হোটেলগুলো পূর্ণ হয়ে যায়, বিমানবন্দরে উপচে পড়া ভিড় থাকে এবং রাস্তাঘাট ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ২০২৬ সালের জন্য কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছে। মূল রুটগুলোতে টোল ফি মওকুফ করা হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত বাস এবং ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে যাতায়াত সহজ হয়। অভ্যন্তরীণ পর্যটন বাড়াতে বিমানবন্দরগুলো বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে। লক্ষ্য হলো ঐতিহ্যের কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়েই ভ্রমণকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করা।
তবে এই উৎসবের নিচে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং থাই মুদ্রার মান শক্তিশালী হওয়ায় পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ ব্যয়ভার বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। পাতায়া এবং এর আশেপাশের পর্যটন কেন্দ্রের মালিকরা চাপের মুখে আছেন। অনেক ব্যবসায়ীর কাছে সোনক্রান উৎসব এখন কেবল একটি ব্যস্ত সময় নয়, বরং আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার এবং সামনের মন্দা সময়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার একটি বড় সুযোগ।
যদিও পর্যটকের মোট সংখ্যা স্থিতিশীল রয়েছে, তবে তাদের খরচের ধরন বদলে গেছে। পর্যটকরা এখন অনেক বেশি হিসাব করে খরচ করছেন, যার ফলে পর্যটন কেন্দ্রগুলো পূর্ণ থাকলেও জনপ্রতি আয় আগের চেয়ে কমেছে। পর্যটন শিল্পের একটি পরিচিত কথা এখন এখানে বেশ প্রাসঙ্গিক: "কত মানুষ এলো সেটা বড় কথা নয়—বড় কথা হলো তাদের খরচ করার ক্ষমতা।"