ডেকান ক্রনিকল
প্রকাশ: ২১:২৭, ১২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩২, ১২ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত।
নতুন এই কাউন্টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সেনলিং’ (Cenling)। এটি কারাকোরাম পর্বতশ্রেণীর কাছে এবং Pakistan Occupied Kashmir ও আফগানিস্তান সীমান্তের অত্যন্ত সন্নিকটে অবস্থিত, যা এর কৌশলগত গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, খবর ডেকান ক্রনিকলের।
গত এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে মুসলিম প্রধান সিনজিয়াং অঞ্চলে চীনের স্থাপিত এটি তৃতীয় নতুন কাউন্টি। এর আগে গত বছর 'হেয়ান' এবং 'হেকাং' নামে দুটি নতুন কাউন্টি গঠন করেছিল চীন। সে সময় ভারত এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, এই জেলাগুলোর আওতাভুক্ত এলাকাগুলোর কিছু অংশ ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে হেয়ান কাউন্টির বড় একটি অংশ বিতর্কিত আকসাই চিন মালভূমির মধ্যে পড়েছে, যা ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকে চীন দখল করে রেখেছে এবং বর্তমানে এটি ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
এটি বিতর্কিত ৬০ বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপিইসি (CPEC)-এরও প্রারম্ভিক বিন্দু, যা পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে গেছে এবং ভারত শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘সেনলিং’ কাউন্টি গঠন সীমান্ত নিরাপত্তা ও শাসনের প্রতি বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান মনোযোগের প্রতিফলন।
সাংহাইয়ের ফুদান ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অধ্যাপক লিন মিনওয়াং বলেন, এই পদক্ষেপ এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে চীনের গভীর উপলব্ধিরই বহিঃপ্রকাশ। তার মতে, বৃহত্তর পরিসরে এই সিদ্ধান্তটি সীমান্ত এলাকাগুলোর ওপর চীনের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন এই কাউন্টিটি ভৌগোলিকভাবে আফগানিস্তানের সংকীর্ণ ওয়াকান করিডোরের সাথে যুক্ত। সিনজিয়াং সীমান্তবর্তী এই ৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূখণ্ডটি তাজিকিস্তান এবং পিওকে-কে পৃথক করেছে, যা চীনের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু।
অতীতে বেইজিং একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, ‘ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট’ (ETIM)-এর উইঘুর যোদ্ধারা আফগানিস্তান থেকে সিনজিয়াংয়ে প্রবেশের পথ হিসেবে ওয়াকান করিডোর ব্যবহার করতে পারে।
ওয়াশিংটনের স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ইউন সান জানান, নতুন এই কাউন্টি গঠনের উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে একটি শক্তিশালী সরকারি কাঠামো তৈরি করা যাতে কার্যকর শাসন ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়। তিনি বলেন, এর ফলে সীমান্ত অঞ্চলে সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা জোরদার হবে, যা ঐতিহাসিকভাবেই জাতিগত অস্থিরতা এবং মধ্য এশিয়া থেকে আসা বিদেশি যোদ্ধাদের অনুপ্রবেশের ঝুঁকির মুখে থাকে।