শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫:২১, ১ মার্চ ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে ইরান লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। সপ্তাহের শুরুতে রোববার আরব বিশ্বের শেয়ারবাজারগুলো খোলার পরপরই এই উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা গেছে।
মিশরের কায়রো স্টক এক্সচেঞ্জ লেনদেনের শুরুতে ৫.৬ শতাংশ পড়ে যায়। এর আগে সৌদি আরবের শেয়ারবাজার 'তাদাওয়াউল' সূচক প্রায় ৫ শতাংশ কমলেও পরবর্তীতে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে। জ্বালানি খাত বাদে সৌদি বাজারের প্রায় সব খাতের শেয়ারেরই দাম কমেছে; তবে তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনায় আরামকোর শেয়ার দর ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে, খবর সুইডেন হেরাল্ডের।
ভূ-রাজনৈতিক এই অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা কমিয়ে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারেও। বিটকয়েনের দাম কমে ৬৩,০০০ ডলারে নেমে আসে, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। তবে রোববার এটি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৬৭,২০০ ডলারে পৌঁছায়।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী হওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে গ্যাস ও তেলের অনেক সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। গত শুক্রবারই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭৩ ডলারে উঠেছিল, যা বছরের শুরুর তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি এবং ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের তেল পরিবহনের একটি বিশাল অংশ হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যায়। এই কৌশলগত পথে কোনো বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হবে। এমনকি সরাসরি কোনো বাধা না থাকলেও, এই অঞ্চলের বাড়তি ঝুঁকি পরিবহন ও বিমা খরচ বাড়িয়ে দেবে।
লোহিত সাগর এবং সুয়েজ খালের নৌপথ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পাশাপাশি ইসরায়েল তাদের বড় প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় গ্যাসের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এই অস্থির সময়ে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ঝোঁকেন। ফলে সুইস ফ্রাঁ এবং স্বর্ণের দাম বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বড় লোকসান এড়াতে বিনিয়োগকারীরা সরকারি বন্ড বা সিকিউরিটিজের দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে সুদের হারের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এটি একটি নেতিবাচক প্রবণতা এবং বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদ সম্পদের দিকেই বেশি নজর দেবেন।