শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০:৪৪, ২৮ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪৫, ২৮ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত।
এই যৌথ প্রতিশ্রুতিটি এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন যাতে তারা এই জলপথটি সুরক্ষিত করতে সহায়তা করে। তেহরান প্রায় এক মাস আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই পথটি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে, খবর ইউরো নিউজের।
শুক্রবার জি-৭ বৈঠক শেষে আয়োজক দেশ ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট বলেন, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার মতো সাধারণ স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে অত্যন্ত ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমা নৌ-চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে এমন বিশ্বে বসবাস করা অসম্ভব, বিশেষ করে এমন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যা সেই দেশগুলোর সাথে সম্পর্কিত নয় যাদের এই নৌ-চলাচল অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
শর্তসাপেক্ষ নিরাপত্তা: জি-৭ রাষ্ট্রগুলো জানিয়েছে যে, তারা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা দিতে এবং বাণিজ্যিক পথটি উন্মুক্ত করতে সহায়তা করবে, তবে তা কেবলমাত্র চলমান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর।
প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান: ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট (Jean-Noël Barrot) জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক এই মিশনটি হবে সম্পূর্ণ "প্রতিরক্ষামূলক" এবং এটি আন্তর্জাতিক আইন মেনে পরিচালিত হবে। অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসার পরই কেবল এই অভিযান শুরু হবে।
জার্মানির অবস্থান: জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুলও নিশ্চিত করেছেন যে, সামরিক সংঘাত বন্ধ হওয়ার পর ওরমজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জার্মানি ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।
প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। বর্তমানে এই পথটি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের চাপ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী সচল করতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়।
অর্থনৈতিক প্রভাব: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল এবং সারের একটি বিশাল অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালীটি বন্ধ থাকায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার সংকট দেখা দিচ্ছে।