শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১:৪৮, ২৮ মার্চ ২০২৬
মিশরের কায়রো শহরের একটি ক্যাফে। ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ায় মিশরে জরুরি জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় এই সপ্তাহান্ত থেকে জরুরি শক্তি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা কার্যকর করতে যাচ্ছে মিশর।
প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবৌলি জানিয়েছেন, ২৮ মার্চ থেকে এই পদক্ষেপগুলো এক মাস পর্যন্ত চলবে, যার মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি খরচ কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ হ্রাস করা।
এর ফলে কায়রোর রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, শপিং মল এবং কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক খান এল খালিলি বাজার রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। পিরামিডের 'লাইট অ্যান্ড সাউন্ড' শো-সহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোও নির্ধারিত সময়ের আগে বন্ধ হয়ে যাবে, খবর রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনালের।
সরকারি অফিসগুলো সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ হবে এবং কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার (রিমোট ওয়ার্ক) অনুমতি দেওয়া হবে। রাস্তার আলো কমিয়ে দেওয়া হবে এবং রাস্তার ধারের বিজ্ঞাপনী স্ক্রিনগুলো বন্ধ রাখা হবে।
কায়রোর উপকণ্ঠে একটি বড় প্লাস্টিক কারখানার ব্যবস্থাপক আরএফআই (RFI)-কে জানিয়েছেন যে, আপাতত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় এই সপ্তাহান্ত থেকে জরুরি শক্তি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা কার্যকর করতে যাচ্ছে মিশর
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানোর সাথে সাথে এই ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হলো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতেই তেহরান হরমোজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রধান পথ।
প্রণালীটি বন্ধ হওয়ার পর থেকে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। মিশরের মাসিক প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির বিল যুদ্ধ শুরুর আগের ৫৬০ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আল আহলি ফারোস ইনভেস্টিগমেন্ট ব্যাংকের গবেষণা প্রধান এবং অর্থনীতিবিদ হানি জেনেনা বলেন, ২০২৬ সালের অক্টোবরের আগে জ্বালানির দাম না বাড়ানোর সরকারি প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও গত ১০ মার্চ প্রতি লিটারে ৫.৫ মার্কিন সেন্ট দাম বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রণালীটি যদি বন্ধ থাকে তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে দাম আবারও বাড়তে পারে।
পর্যটন নিয়ে উদ্বেগ
২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় মিশরের পর্যটন খাত বেশ শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। দেশটির অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান প্রায় ৮.৫ শতাংশ। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির আশঙ্কায় পর্যটকরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন। নতুন এই জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপগুলো পর্যটকদের অভিজ্ঞতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ম্যারিয়ট এবং কসমোপলিটান-সহ কায়রোর বড় হোটেলগুলো জানিয়েছে যে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় তাদের নিজস্ব জেনারেটর রয়েছে এবং বাইরের দোকানপাট বন্ধ হলেও হোটেলের রেস্তোরাঁগুলো অতিথিদের জন্য খোলা রাখা হবে।
জেনেনা বলেন, দোকান ও রেস্তোরাঁগুলোকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া যৌক্তিক, কারণ তারা বার্ষিক বিদ্যুতের প্রায় ৫-৬ শতাংশ ব্যবহার করে। অন্যদিকে মিশরের প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যয় হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে। তার মতে, এই পদক্ষেপ এক মাস কার্যকর থাকলে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, পর্যটন কেন্দ্র এবং রেস্তোরাঁগুলোকে এই বিধিনিষেধ থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে, যাতে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
জেনেনা উল্লেখ করেন যে, ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ের তুলনায় এবার সরকার অনেক দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। সে সময় ধীরগতির প্রতিক্রিয়ার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং মুদ্রার মান কমে গিয়েছিল। তার মতে, মিশর এখন সংকট ব্যবস্থাপনায় অনেক বেশি দক্ষ হয়ে উঠেছে।