শিরোনাম
নিউইয়র্ক টাইমস্
প্রকাশ: ২১:৪০, ১২ মার্চ ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
সুপ্রিম কোর্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধিকাংশ শুল্ক বাতিল করার এক মাস আগে আমদানি হ্রাস এবং রপ্তানি বৃদ্ধির এই চিত্র দেখা গেছে। কমার্স ডিপার্টমেন্টের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে পণ্য ও পরিষেবায় মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি ২৫ শতাংশ কমে ৫৪.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের কারণে বাণিজ্যে বড় ধরনের যে অস্থিরতা চলছে, এটি তারই একটি প্রভাব।
জানুয়ারিতে রপ্তানি ৫.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০২.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার মূলে ছিল সোনা, কম্পিউটার এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর রপ্তানি। অন্যদিকে আমদানি ০.৭ শতাংশ কমে হয়েছে ৩৫৬.৬ বিলিয়ন ডলার। এই দুইয়ের প্রভাবে মাসিক বাণিজ্য ঘাটতি অর্থাৎ আমদানি ও রপ্তানির মধ্যকার ব্যবধান কমে এসেছে।
মিস্টার ট্রাম্প দীর্ঘকাল ধরে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতিকে অর্থনৈতিক দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখে আসছেন এবং শুল্ক আরোপের মাধ্যমে এটি কমানোর চেষ্টা করেছেন। তবে অর্থনীতিবিদরা এই কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, বাণিজ্য ঘাটতি মূলত সরকারি ব্যয় বা ডলারের মূল্যের মতো অন্যান্য অর্থনৈতিক শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হয়।
গত বছর পণ্য খাতে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড উচ্চতায় ছিল। যুক্তরাষ্ট্র চড়া দামের কম্পিউটার চিপ এবং ওজন কমানোর ওষুধ আমদানি অব্যাহত রাখায় এবং শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই আমদানিকারকরা বিদেশি পণ্য মজুদ করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
জানুয়ারিতে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের পেছনে সোনা ও মূল্যবান ধাতুর বাণিজ্যের বিশেষ ভূমিকা ছিল। গত এক বছরে বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে সোনার দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় মার্কিন আমদানি-রপ্তানিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে।
জানুয়ারিতে সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর রপ্তানি সম্মিলিতভাবে ৮.৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে, যা মার্কিন কম্পিউটার ও বিমানের রপ্তানি বৃদ্ধির (৪.২ বিলিয়ন ডলার) চেয়ে অনেক বেশি। সামগ্রিকভাবে সেই মাসে মার্কিন পণ্য রপ্তানি ১৪.৬ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পায়।
এই তথ্যগুলো এমন একটি শুল্ক ব্যবস্থার অধীনে বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরেছে যা এখন অনেকটাই অপ্রচলিত। ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে, গত বছর প্রায় প্রতিটি বিদেশি রাষ্ট্রের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের জন্য জরুরি আইন ব্যবহার করে মিস্টার ট্রাম্প তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
আদালতের নির্দেশে ট্রাম্প প্রশাসন সেই আইনের অধীনে থাকা দুই অঙ্কের শুল্কগুলো প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়, যা ভবিষ্যতের বাণিজ্য নীতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট সেই জরুরি আইন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার আওতায় ছিল ৩০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য।
প্রশাসন এখন অন্যান্য বাণিজ্য আইনের সমন্বয়ে তাদের পুরনো শুল্কগুলো পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা করছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরপরই মিস্টার ট্রাম্প ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের ঘোষণা দেন, তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এটি মাত্র ১৫০ দিন কার্যকর থাকতে পারে।
গত বুধবার ট্রাম্প প্রশাসন ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে। তারা ১৬টি প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারের বিরুদ্ধে 'অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা' (এক্সেস ক্যাপাসিটি) নিয়ে নতুন তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই দেশগুলোর অতিরিক্ত উৎপাদনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের বড় ও স্থায়ী বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, তারা সেই দেশগুলোর নীতিগুলো খতিয়ে দেখবে যা তাদের উৎপাদন খাতকে নিজেদের চাহিদার চেয়ে বেশি পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করছে।
ইউএসটিআর আরও জানিয়েছে যে, তারা সম্ভবত বৃহস্পতিবারের মধ্যেই ৬০টি দেশের জোরপূর্বক শ্রম বিরোধী আইনের বিষয়ে আরেকটি বাণিজ্য তদন্তের ঘোষণা দেবে। এছাড়া ডিজিটাল পরিষেবা এবং অন্যান্য বিষয় সংক্রান্ত আরও তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।