ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মধ্যে ওপেক প্লাস দেশগুলোর তেল উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১:০৮, ২ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৯, ২ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মধ্যে ওপেক প্লাস দেশগুলোর তেল উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণা

প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।

ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বড় ধরনের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলার ফলে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ওপেক প্লাসের আটটি দেশ অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক আগে থেকে নির্ধারিত রবিবারের এক বৈঠকে জানায়, তারা এপ্রিল মাসে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল অতিরিক্ত উৎপাদন করবে, খবর জাপান টুডে’র। এই পরিমাণটি বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। তেল উৎপাদন বৃদ্ধিকারী দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া এবং ওমান।

পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী দুটি জাহাজে হামলাসহ পুরো অঞ্চলজুড়ে চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশে তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে অপরিশোধিত তেল এবং গ্যাসোলিনের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

রাইস্ট্যাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়, যা বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীর উত্তরে ইরানের অবস্থান। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরানের তেল ও গ্যাস এই পথেই যাতায়াত করে।

এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সামরিক মহড়ার অজুহাতে ইরান সাময়িকভাবে এই প্রণালীর কিছু অংশ বন্ধ করে দিয়েছিল। এই নৌপথে পুনরায় কোনো বিঘ্ন ঘটলে বাজারে তেলের সরবরাহ কমে যাবে এবং দাম বৃদ্ধি পাবে।

রাইস্ট্যাড এনার্জির ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হোর্হে লিওন এক ইমেইল বার্তায় জানান, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়, যা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধমনী। বর্তমানে বাজার কেবল কাগজে-কলমে থাকা অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে চিন্তিত নয়, বরং তেল আসলে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে কি না তা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। যদি উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, তবে অতিরিক্ত উৎপাদন খুব একটা কাজে আসবে না। এক্ষেত্রে উৎপাদনের লক্ষমাত্রার চেয়ে রপ্তানি রুট সচল থাকা বেশি জরুরি।

ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যার সিংহভাগ যায় চীনে। ইরানের রপ্তানি বন্ধ হলে চীনকে অন্য উৎসের সন্ধান করতে হবে, যা জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রবিবার রাতে যখন তেলের লেনদেন শুরু হবে, তখন দাম অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। রাইস্ট্যাড-এর বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। গত শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ৭২.৮৭ ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন