শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ২১:৫৬, ২ জানুয়ারি ২০২৬
‘৯০ এর সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতারা খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। ছবি : বাসস
খালেদা জিয়ার কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছে নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতারা।
আজ শুক্রবার বেলা ১২টায় নব্বইয়ের ডাকসুর ভিপি ও সেই সময়ে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের নেতত্বে নেতারা শেরে বাংলা নগরে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফাতেহা পাঠ এবং পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।
নব্বইয়ের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতাদের মধ্যে হাবিবুর রহমান হাবিব, জহির উদ্দিন স্বপন, খায়রুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, খন্দকার লুৎফর রহমান, নাজমুল হক প্রধান, মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আমরা নব্বইয়ের সর্বদলীয় ছাএ ঐক্যের নেতারা আজকে এখানে দেশনেত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। তার কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করেছি। তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেছি।’
আমান বলেন, ‘স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার যে আন্তরিকতা সেটা আজকে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ১৬ বছর শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, প্রহসনের বিচারে তাকে জেলে পাঠিয়েছে, জেলে নির্যাতন করা হয়েছে, ন্যূনতম চিকিৎসা তাঁকে দেয়া হয়নি। তাঁকে স্লো পয়েজিংয়ে মাধ্যমে হত্যার অপচেষ্টা করা হয়েছিলো, সেই নির্যাতনের দায় আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা কখনো এড়াতে পারবে না। অবশ্যই শেখ হাসিনাকে জবাব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে কী প্রমাণ হয়েছে? তাঁর জানাজায় যে- কোটি মানুষের উপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন ঐক্যের প্রতীক, ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন স্বাথীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মাদার অব ডেমোক্রেসি, গণতন্ত্রের মা।’
আমান বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন, আমার ঠিকানা বাংলাদেশ, আমি বিদেশে যাবো না। বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই। যার জন্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমানকে কিভাবে নির্যাতন করেছে তা আপনারা জানেন। তাকে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে। আজকে উনি দেশে ফিরেছেন দেখেছেন কী অভূতপূর্ব সাড়া জেগেছে জনগণের মধ্যে, জনগণ তাকে বরণে করেছে স্বস্ফূর্তভাবে।’
গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরদিন তাঁকে রাষ্ট্রীয় মরযাদায় স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
খালেদা জিয়ার মত্যুতে বিএনপি ৭দিনের শোক পালন করছে। দলের কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা অধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তালন করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)- এর পরিচালনা পর্ষদ।

বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে আজ শুক্রবার সকালে সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এ সময় বিজিএমইএ’র সভাপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান, পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী এবং পরিচালক সাকিফ আহমেদ সালাম।
কবর জিয়ারত শেষে বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সাংবাদিকদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী। দেশের পোশাক শিল্পের বিকাশেও তার অবদান অনস্বীকার্য। রাষ্ট্রীয় শোকের এই সময়ে আমরা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি আল্লাহপাক যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন। মোনাজাত শেষে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে মরহুমার স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করেন।