শিরোনাম
লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) মহসিন আলী খান, পি এস সি
প্রকাশ: ১১:৪০, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই বিপ্লব এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। বৈষম্য বিষয় থেকে তৈরি হওয়া জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা আসলে ছিল দেশের ভিতরে বিভিন্ন সেক্টরে প্রয়োজনীয় সংস্কার। দেশের এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব নেয়ার পর, ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে দেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে বলে ঘোষণাও দিয়েছিল বর্তমান সরকার।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এখন প্রায় শেষের দিকে, জাতীয় নির্বাচন শেষ করে জনগণের নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে তারা যাদের দায়িত্ব শেষ করবে। এই দেড় বছরের মতো সময় ধরে এই সরকার বিভিন্ন সংস্কার নিয়ে কাজ করেছে বলে দেশের মানুষকে জানিয়েছে। কিন্তু সীমিত আকারে গনতন্ত্র ও নির্বাচনী সংস্কারের উদ্যোগ যা গনভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে সেটা নিয়েই মূলত কাজ হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়েছে জনগণের কাছে। যদিও গনভোটের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে এই সংস্কারের বিষয়টি। ফলাফল ইতিবাচক হলে, সংস্কার কিছুটা আলোর মুখ দেখতে পারে,আর তা না হলে সংস্কার মুখ থুবরে পড়ে থাকবে। যদি ফলাফল নেতিবাচক হয়,সেক্ষেত্রে আসলে দেশ বা জনগণ কি পেলো এই দীর্ঘ দেড় বছর সময়ে সেটা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন আছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
বাস্তবিক অর্থে জনগণের আকাঙ্ক্ষায় শুধু গনতন্ত্র ও নির্বাচনী সংস্কার ছিল না, ছিল দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য অন্যান্য সংস্কার (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার, বৈষম্য, প্রশাসনিক) কার্যক্রমও। বেশ কিছু সংস্কার নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন কমিশন গঠন করেছিল এবং কমিশনগুলো তাদের রিপোর্টও সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে আমরা জানি।
এখন প্রশ্ন হলো, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গনভোটের বিষয় ছাড়া অন্যান্য সংস্কারের বিষয়ে কি কি কাজ শেষ করেছে সেটা জনগণকে জানানো উচিত বলে আমি মনে করি। যদি সংস্কারের বিষয়ে এই সরকার জনগণের কাছে তাদের কাজের অগ্রগতি দিতে ব্যর্থ হয় তবে ভবিষ্যতে তারা জনগণের সামনে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারেন। তাই, সরকারের দায়িত্ববোধ, জবাবদিহিতা ও সচ্ছতার জন্য সকল সংস্কারের অগ্রগতি প্রকাশ করা প্রয়োজন।
যে কোন সরকার বা রাষ্ট্রযন্ত্রের দৃশ্যমান জবাবদিহিতা গনতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে বিষয়টা মাথায় রেখেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের অঙ্গীকার ও সে অনুযায়ী কি কি সংস্কার কাজ শেষ করা হয়েছে বা কতটুকু অগ্রসর হতে পেরেছে এবং কোন কোন বিষয়ে সংস্কার করা সম্ভব হয়নি কারণসহ তার বিস্তারিত প্রকাশ করা তাদের জন্যে বাধ্যতামূলক বলে জনগণ মনে করে।
তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অনুরোধ করবো দেশের সকল সংস্কারের বিষয়ে শ্বেতপত্র (White Paper) প্রকাশ করার মাধ্যমে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব তারা কতটুকু পালন করতে পেরেছে তা দেশের জনগণের কাছে উপস্থাপন করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।
মনে রাখবেন, "সবার উপরে দেশ"। (লেখক একজন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক)