শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১:১৫, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৭, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
দেশের পোশাক রপ্তানিকারকেরা শনিবারে বলেছেন সমগ্র জাতি যখন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, ঠিক তখনই দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরে একটি গভীর অচলাবস্থার উপক্রম হয়েছে। উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলছেন, 'চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ' কর্তৃক রোববার থেকে ঘোষিত লাগাতার ধর্মঘট ও বহির্নোঙরে কার্যক্রম বন্ধের ডাক বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, বন্দরে কর্মরত প্রতিটি শ্রমিক-কর্মচারী আমাদের অর্থনীতির অগ্রযাত্রার সম্মুখ সারির সহযোদ্ধা। তাই নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে শিল্প, বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে আন্দোলনকারী ও বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সকল পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার ভিত্তি নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।
বাাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত কারক ও রপ্তানিকারক সমিতি, বাাংলাদেশ নিটওয়ার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি,বাাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস এসাসিয়েশন ও বাাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন প্রধান উপদেষ্টা বরাবর এক খোলা চিঠিতে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছে। এতে বলা হয়েছে, “বিগত সাত দিন ধরে আমরা ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ উদ্ভূত সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সংলাপ ও সমন্বয় সভা করেছি, যাতে করে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আস্থার সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে আন্দোলনকারীরা বন্দরের বহির্নোঙরে বার্থিং ও পণ্য খালাস বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।”
এই অচলাবস্থার ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উক্ত চারটি সংগঠন বলছে:
দেশের ৯৯ শতাংশ কনটেইনার এবং ৭৮ শতাংশ সমুদ্রপথের বাণিজ্য এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হলে তৈরি পোশাকসহ সকল প্রধান রপ্তানি খাত অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালবাহী জাহাজ খালাস না হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে, যা দ্রব্যমূল্যকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ঠেলে দেবে।প্রতীকি
বন্দরে জাহাজ জট ও কার্যক্রম স্থগিতের ফলে প্রতিদিন আমদানিকারকদের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ‘ডেমারেজ চার্জ’ হিসেবে পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি বিশাল বোঝা।
“এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত বিরোধটি বর্তমানে কর্মচারী ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সাংঘর্ষিক অবস্থানে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও তদন্তের উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলেছে বলে আমরা মনে করি,” বলে খোলা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের এই ৪ দিন আগে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো প্রকার ব্যাঘাত যাতে না ঘটে সেজন্য ‘বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আমরা আপনার (প্রধান উপদেষ্টার) ব্যক্তিগত ও সরাসরি হস্তক্ষেপ একান্তভাবে প্রার্থনা’ করেছেন রাপ্তানিমুখী শিল্প উদ্যোক্তাগণ।