ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২১ মাঘ ১৪৩২, ১৫ শা'বান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে
Scroll
নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবস্থা: তারেক রহমান
Scroll
শিক্ষা আইনের খসড়া: কোচিং সেন্টার ও নোট-গাইড বন্ধে কঠোর বিধান
Scroll
আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান এগিয়ে: দ্য ইকোনমিস্ট
Scroll
নাম পরিবর্তন: র‌্যাব হচ্ছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স, বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
Scroll
মানবজাতির সংযম ও সৌহার্দ্য অর্জনে নিবেদিত রাখার আহ্বান তারেক রহমানের
Scroll
আজ পবিত্র শবে বরাত
Scroll
সাভার-আশুলিয়াবাসীকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করতে চাই: এনসিপি প্রার্থী দিলশানা পারুল
Scroll
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে বিন্দুমাত্র শৈথিল্য নয়
Scroll
হামলার হুমকির মধ্যেই তুরস্কে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
Scroll
কৃত্রিম ফুসফুসের চিকিৎসা ব্যবহার নিয়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে: গবেষণা
Scroll
ট্রাম্প-মোদি সমঝোতা: রাশিয়ান তেল বর্জন এবং শুল্ক হ্রাস
Scroll
শবে বরাতে দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
Scroll
অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে সক্ষম হয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা
Scroll
আচরণবিধি ভঙ্গের ১৭৬ মামলায় ১৮ লাখ টাকা জরিমানা
Scroll
তরুণ ভোটারদের সঙ্গে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের চায়ের আড্ডা
Scroll
বিএনপি সরকার গঠন করলে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে: তারেক রহমান
Scroll
ঢাকা মহানগর ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের
Scroll
জানুয়ারিতে বাংলাদেশের রপ্তানিতে রেকর্ড ১১.২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি
Scroll
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের চাপে ভারত এখন দূরের বন্ধু-রাষ্ট্র খুঁজছে

ট্রাম্প-মোদি সমঝোতা: রাশিয়ান তেল বর্জন এবং শুল্ক হ্রাস

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯:০৯, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ট্রাম্প-মোদি সমঝোতা: রাশিয়ান তেল বর্জন এবং শুল্ক হ্রাস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়, তবে তিনি ভারতের পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ২৫% থেকে কমিয়ে ১৮% করবেন। এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার আয়ের উৎস বন্ধ করা এবং আমেরিকার সাথে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা, খবর ইউরো নিউজের। 
চুক্তির প্রধান দিকসমূহ:

তেল বাণিজ্য: ভারত সস্তা রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন। গত কয়েক বছর ধরে ভারত রাশিয়ার অন্যতম প্রধান তেল ক্রেতা ছিল।

শুল্ক হ্রাস: ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর পাশাপাশি দাবি করেছেন যে, ভারতও মার্কিন পণ্যের ওপর আমদানি কর কমিয়ে শূন্য করবে।

বড় বিনিয়োগ: ভারত আগামীতে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ: ট্রাম্পের মতে, রাশিয়ার তেলের রাজস্ব বন্ধ করা গেলেই ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।

ভারত ও মোদির প্রতিক্রিয়া:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই শুল্ক কমানোর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধের কথা উল্লেখ থাকলেও, মোদির বিবৃতিতে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ:
কূটনৈতিক তৎপরতা: ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সাথে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বাণিজ্যিক বিরোধ: যদিও ট্রাম্প ও মোদির সম্পর্ক ব্যক্তিগতভাবে উষ্ণ, কিন্তু বাণিজ্য শুল্ক এবং রাশিয়ার সাথে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল।

ট্রাম্প মনে করেন রাশিয়ার তেলের বাজার ধ্বংস করাই হলো যুদ্ধ থামানোর সেরা উপায়। এই কৌশলের অংশ হিসেবেই তিনি ভারতকে বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
আমেরিকার পক্ষ থেকে বারবার চাপ দেওয়া সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করায় ওয়াশিংটনের সাথে দিল্লির দীর্ঘদিনের বিরোধ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে যে, রাশিয়ার তেল বিক্রি থেকে আসা অর্থ ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও রাশিয়ার ওপর সরাসরি চাপ প্রয়োগের বদলে তিনি ভারতের মতো দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করে চাপ সৃষ্টির কৌশল বেছে নিয়েছেন।

জুলাই মাসে ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন কারণ আমেরিকার মতে ভারত তাদের বিশাল বাণিজ্যিক উদ্বৃত্ত কমাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। পরবর্তীতে আগস্ট মাসে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অপরাধে ভারত থেকে আসা পণ্যের ওপর আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর যোগ করা হয়, যার ফলে মোট শুল্ক বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ।

তবে সাম্প্রতিক চুক্তি অনুযায়ী ভারত যদি রাশিয়ার তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তবে এই শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা জাপানের মতো দেশগুলোর ওপর ধার্যকৃত ১৫ শতাংশ শুল্ক হারের কাছাকাছি। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৩৬ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে, যা দৈনিক প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল। এমনকি গত ডিসেম্বরে ভ্লাদিমির পুতিন দিল্লি সফরকালে ভারতকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন।

আমেরিকার এই কঠোর অবস্থানের সুযোগে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতকে ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন ভারতের আরও কাছে আসার চেষ্টা করছে কারণ তারা মনে করে ভারতের প্রভাব রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সাথে একটি গোপন বৈঠক করতে যাচ্ছেন যেখানে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এএফপি-কে জানিয়েছেন যে, গত আগস্টে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর ট্রাম্প যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তাও তুলে নেওয়া হবে।

ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক জ্বালানির চেয়ে প্রতিরক্ষা খাতের ওপর বেশি নির্ভরশীল। রাশিয়া ভারতের তেলের চাহিদার মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ মেটালেও দেশটির সামরিক সরঞ্জামের সিংহভাগ সরবরাহ করে থাকে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ভারত চুক্তি

আমেরিকার পক্ষ থেকে এই শুল্ক হ্রাসের ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যার মাত্র কয়েক দিন আগে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিএ) পৌঁছেছে। প্রায় দুই দশকের আলোচনার পর হওয়া এই চুক্তিটি বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই চুক্তির ফলে ইইউ-ভুক্ত ২৭টি দেশ এবং ভারতের মধ্যে টেক্সটাইল থেকে শুরু করে ওষুধ পর্যন্ত প্রায় সব পণ্যের অবাধ বাণিজ্য সম্ভব হবে। এছাড়া ইউরোপীয় ওয়াইন এবং গাড়ির ওপর ভারতের উচ্চ আমদানি শুল্কও এর ফলে হ্রাস পাবে।

বিশ্বের দুটি বৃহত্তম বাজারের মধ্যে এই চুক্তিটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমদানি কর বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট বাণিজ্যিক অস্থিরতার পর আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমানোর একটি ইচ্ছাকেই প্রতিফলিত করে। যদিও ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের বোঝা মূলত আমেরিকান ব্যবসায়ী এবং ভোক্তাদেরই বহন করতে হয়েছে, তবে এই ধরনের কর দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত বেশ কিছু বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। গত ডিসেম্বরে ওমানের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের সাথেও একটি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শেষ করেছে দেশটি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন