ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

বাকবিশিস-এর

অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান

দৈনিক আজাদীর সৌজন্যে

প্রকাশ: ০৯:৪০, ৩ এপ্রিল ২০২৬

অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান

প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের অজুহাতে বর্তমান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালুর প্রস্তাবে বাংলাদেশ কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা হলে শিক্ষার ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হবে। এটি শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও পিছিয়ে দেবে বলেও উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোভিড–১৯ মহামারীর সময় অনলাইন শিক্ষার অভিজ্ঞতা আমাদের স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনলাইন ক্লাস কার্যকর নয়। দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী, বিশেষ করে গ্রামীণ, দুর্গম, দরিদ্র, শহরাঞ্চলের বস্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এলাকার শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট, স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে অনলাইন ক্লাসে তাদের অংশগ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়ে, যা শিক্ষায় বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ব্যবহারিক ও ল্যাবভিত্তিক ক্লাস, যা উচ্চশিক্ষার অন্যতম মূল অংশ, অনলাইনে একেবারেই সম্ভব নয়।

বাকবিশিস মনে করে, জ্বালানি সাশ্রয়ের নামে শিক্ষা খাতকে বলি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার যদি সত্যিকারের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে চায়, তাহলে সরকারি অফিস–আদালত, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং অপ্রয়োজনীয় খাতে সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ব্যক্তি পর্যায়ের পরিবহন ব্যবহার সীমিত করে পাবলিক পরিবহন ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করা যেতে পারে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অনলাইনে নিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল। বাকবিশিস নেতারা উল্লেখ করেন সরকার অবিলম্বে অনলাইন ক্লাস চালুর সকল সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি। 

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন