শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯:৫৭, ১০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৯, ১০ মার্চ ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার শঙ্কায় সোমবার সকালে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরান যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ায় সোমবার তেলের দাম ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেল প্রতি ১১৪ ডলার (প্রায় ৯৮ ইউরো) ছাড়িয়ে গেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন ও শিপিং ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছে, খবর ইউরো নিউজের।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরুর পর ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এটি শুক্রবারের সমাপনী মূল্য ৯২.৬৯ ডলারের তুলনায় প্রায় ২৩% বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হালকা ও মিষ্টি অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটও (ডব্লিউটিআই) ব্যারেল প্রতি প্রায় ১১৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল। এটি শুক্রবারের সমাপনী মূল্য ৯০.৯০ ডলারের চেয়ে ২৫% বেশি।
এজে বেল-এর মার্কেট প্রধান ড্যান কোটসওয়ার্থ ইউরোনিউজকে পাঠানো এক নোটে জানান, সপ্তাহান্তে ইরান সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে এবং তেলের দাম সাময়িকভাবে ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় আর্থিক বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, তেলের দাম ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করা মনস্তাত্ত্বিক এবং অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এটি মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়, যা মাত্র দুই সপ্তাহ আগের বাজার পরিস্থিতির তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন এক দিকে যাচ্ছে যেখানে যুক্তরাজ্যের সুদের হার এই বছরের বাকি সময় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং ২০২৭ সালে তা আরও বাড়তে পারে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে সুদের হার কমানোর যে প্রত্যাশা ছিল তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
কোটসওয়ার্থ আরও উল্লেখ করেন যে, বিনিয়োগকারীরা এখন ইরান সংঘাত আগের ধারণার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
তিনি যোগ করেন, বাজারে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। বিনিয়োগকারীরা গোল্ড বা রোলস-রয়েস এবং লয়েডসের মতো শেয়ার থেকে তাদের মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। শক্তিশালী মার্কিন ডলারের কারণে সোনার দামও কমেছে, কারণ অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য সোনা এখন আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
সোমবার ভোরে যুদ্ধের ভয়াবহতা বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। বাহরাইন অভিযোগ করেছে যে, ইরান তাদের একটি ডিস্যালিনেশন (লবণাক্ততা দূরীকরণ) প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে, যা দেশটির পানীয় জল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, গত রাতে ইসরায়েলি হামলার পর তেহরানের তেলের ডিপোগুলো থেকে এখনো ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৬% এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৮% বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এই নতুন মূল্যবৃদ্ধি ঘটল। পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও গ্যাস উৎপাদন এবং পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দেশ ও স্থানগুলো এই যুদ্ধের কবলে পড়ায় তেলের বাজারে এমন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে এই যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে।
রাইস্ট্যাড এনার্জি (Rystad Energy)-এর তথ্যমতে, প্রতিদিন প্রায় ১.৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল — যা বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০% — সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকির কারণে এই প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালীর উত্তরে ইরান অবস্থিত এবং এটি সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল-গ্যাস পরিবহনের প্রধান পথ।
এদিকে, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস সোমবার সকালে জানিয়েছে যে, জ্বালানি সরবরাহের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে জি-৭ (G7) ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) সাথে সমন্বয় করে জরুরি রিজার্ভ থেকে যৌথভাবে তেল ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা করবেন।