ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

২০ ফাল্গুন ১৪৩২, ১৪ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
Scroll
চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে আইনের আওতায় আনা হবে
Scroll
জ্বালানি চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চায় বাংলাদেশ: জ্বালানি মন্ত্রী
Scroll
২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি ১৫% উন্নীতের লক্ষ্য নির্ধারণ সরকারের
Scroll
‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
Scroll
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা ’আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী’: কানাডা
Scroll
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আনসার বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
Scroll
দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগ পত্র গৃহীত
Scroll
ইরানে ইসরাইলের ‘ব্যাপক বিমান হামলা’
Scroll
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টায় অফিসে থাকা বাধ্যতামূলক
Scroll
পত্রিকা: ’কোন চাওয়া পুরণ হলে যুদ্ধ থামাবেন ট্রাম্প’
Scroll
একটু পরপর সাইরেন, মাথার ওপর দিয়ে মিসাইল যাচ্ছে: প্রবাসী শ্রমিক
Scroll
বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী ভারত
Scroll
বয়স্ক, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও শিক্ষার্থীদের রেলে ২৫% ডিসকাউন্ট: রেলমন্ত্রী
Scroll
ইরানে চলমান যুদ্ধ মার্কিন জিডিপি হ্রাস ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি করতে পারে
Scroll
পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন ও কারিকুলাম প্রণয়ন করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
Scroll
পাহাড় কেটে রিসোর্ট নির্মাণ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না: পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী
Scroll
ভিআইপি প্রটোকল ছাড়া চলাচলের কারণে যানবাহনের গতি বেড়েছে: প্রতিবেদন
Scroll
শাহজালাল বিমানবন্দরে মঙ্গলবার ৩৮ ফ্লাইট বাতিল
Scroll
বিমান পরিবহন খাতের উন্নয়নে ঢাকা-ওয়াশিংটন আলোচনা

২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি ১৫% উন্নীতের লক্ষ্য নির্ধারণ সরকারের

বাসস

প্রকাশ: ২০:২৭, ৪ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২০:২৭, ৪ মার্চ ২০২৬

২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি ১৫% উন্নীতের লক্ষ্য নির্ধারণ সরকারের

বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ সিপিডি ও দ্য ডেইলি স্টার আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

 

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনে একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেছেন। 

এতে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং দেশকে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেলের দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী ভোগনির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেলটি টেকসই ছিল না এবং বিশেষ করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সঞ্চিত বিপুল ঋণের বোঝা দেশের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।’

বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ সিপিডি ও দ্য ডেইলি স্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন পর্যালোচনা : নবনির্বাচিত সরকারের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অগ্রাধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত বিনিয়োগনির্ভর অর্থনৈতিক মডেলে রূপান্তরের জন্য কাজ করছে বলে জানান তিতুমীর। তিনি বলেন, এ মডেল দেশীয় বিনিয়োগ এবং প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই)-উভয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই রূপান্তরের একটি প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বে সর্বনিম্ন স্তরের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ২০৩৫ সালের মধ্যে গড়ে ১৫ শতাংশ কর-জিডিপি অনুপাত অর্জনের সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কেবল গাণিতিক হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ধাপে ধাপে অগ্রগতির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে- প্রথমে ২ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির মধ্যবর্তী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের পথে এগোনো হবে।

তিতুমীর বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক কর সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি বর্তমান রাজস্ব কাঠামোর বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে জরুরি সংস্কারের আহ্বান জানান।

স্ট্যাটুটরি রেগুলেটরি অর্ডার (এসআরও)-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি এমন এক বাজারে পরিণত হয়েছে যেখানে প্রভাব কেনাবেচা হয়। ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ প্রথা কমিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার পরিচয় ও প্রভাবভিত্তিক ‘গ্রিনফিল্ড’ প্রণোদনার পরিবর্তে কার্যসম্পাদনভিত্তিক (এক্স-পোস্ট) ভর্তুকি ব্যবস্থায় যেতে চায়। তৈরি পোশাক খাতে সফল এ মডেলে সম্ভাবনার ভিত্তিতে নয়, বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

রাজস্ব আদায়ে শুধু বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)- এর ওপর নির্ভরশীলতার প্রবণতাকে বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব ইউনিটে সমানভাবে রাজস্ব আহরণ জোরদার করতে হবে।

বর্তমান দারিদ্র্য পরিস্থিতিতে প্রচলিত কৃচ্ছ্রসাধন নীতি কার্যকর সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বরং অপচয় রোধ এবং রাজস্ব নীতিকে পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)- এর বাস্তবায়ন হারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা জরুরি।

বিশেষভাবে জ্বালানি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি বোঝার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিপুল ব্যয় কমাতে সরকার তিনটি কৌশলগত পদ্ধতি গ্রহণ করছে।

শেষে তিনি দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান যে জনসাধারণের পণ্য ও সেবার অর্থায়ন যেন যথাযথ কর প্রদানের মাধ্যমে হয়, সে সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি করে সামগ্রিকভাবে সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন