শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭:০৪, ৮ মার্চ ২০২৬
চেন্নাই সমুদ্র বন্দর। ছবি: সংগৃহীত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা আশা করছেন যে এই সপ্তাহে কিছু জাহাজ বিকল্প পথে চলাচল শুরু করবে।
মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় চালানের ওপর ‘জরুরি সংঘাত সারচার্জ’ আরোপ করায় ফ্রেইট বা পণ্য পরিবহন খরচ প্রায় ২৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, এমনকি যেসব কার্গোর বিল আগেই হয়ে গেছে সেগুলোর ওপরও এই খরচ চাপানো হচ্ছে, খবর ডেকান ক্রনিকলের।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হলেও রপ্তানিকারকরা আশা করছেন যে এই সপ্তাহ থেকে মুন্দ্রা বন্দর থেকে জওহরলাল নেহরু পোর্ট ট্রাস্ট (জেএনপিটি) এবং সেখান থেকে শারজাহর খোরফাক্কান বন্দর পর্যন্ত একটি বিকল্প রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হবে। কিছু ফ্লাইটেও সীমিত আকারে পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে।
তবে গত ১০ দিন ধরে চালান বন্ধ থাকায় মার্চ প্রান্তিকে ভারতের সামগ্রিক রপ্তানি প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিপিং লাইনগুলোর ওপর আরোপিত ইমার্জেন্সি কনফ্লিক্ট সারচার্জের কারণে ফ্রেইট খরচ তীব্রভাবে বেড়েছে। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস (এফআইইও)-এর মহাপরিচালক অজয় সাহাইয়ের মতে, জেএনপিটি এবং দুবাইয়ের মধ্যে একটি ২০ ফুটের কন্টেইনারের স্বাভাবিক ফ্রেইট রেট প্রায় ৭০০–৮০০ ডলার। কিন্তু বর্তমানে শুধুমাত্র সারচার্জই প্রায় ২,০০০ ডলার, যা মূল ভাড়ার প্রায় ২৫০ শতাংশ।
ভারতীয় রপ্তানিকারকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই চার্জগুলো এমনকি সেইসব চালানের ওপরও প্রয়োগ করা হচ্ছে যেগুলোর বিল হয়ে গেছে বা গন্তব্যে পৌঁছে গেছে, যা তারা অন্যায্য বলে মনে করছেন। সাহাই বলেন, শিপিং কোম্পানিগুলোর দায়িত্বশীল হওয়া উচিত এবং বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত, বিশেষ করে যখন রপ্তানিকারকরা ইতিপূর্বেই বড় ধরনের লোকসানের মুখে রয়েছেন। হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণেই মূলত শিপিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল, যা এই অঞ্চলের উত্তেজনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। সাহাই জানান, ৮ মার্চ থেকে মুন্দ্রা থেকে জেএনপিটি এবং সেখান থেকে খোরফাক্কান পর্যন্ত বিকল্প রুটে কিছু শিপিং লাইন পরিষেবা পুনরায় শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানে জট দেখা দিলে কার্গোগুলো ফুজাইরার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এই রুটটি হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে চলে, তাই এটি তুলনামূলক নিরাপদ। প্রাথমিকভাবে কৃষি ও পচনশীল পণ্যগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, কারণ সেগুলোর স্থায়িত্বকাল কম হওয়ায় দেরিতে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার সময় বিমানের বেলিতে করেও কিছু সীমিত পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে। তবে বিকল্প শিপিং রুট এবং বিমান পরিবহনের বিকল্পগুলো এখনও অত্যন্ত সীমিত। ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যগুলোর জন্য বিকল্প বাজার খুঁজে পাওয়াও কঠিন। মধ্যপ্রাচ্য ভারতীয় খাদ্য পণ্যের একটি প্রধান গন্তব্য কারণ সেখানে বিশাল সংখ্যক ভারতীয় প্রবাসী বাস করেন এবং ভোক্তাদের পছন্দও একই রকম। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের বাসমতি চাল রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই এই অঞ্চলে যায়। এই বাজারে প্রবেশাধিকার না থাকায় রপ্তানিকারকরা পণ্যগুলো অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে কলার মতো পণ্যের দাম ইতিমধ্যে কমে গেছে। রপ্তানির ওপর সামগ্রিক প্রভাব কতটুকু হবে তা নির্ভর করছে এই সংকট কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর। যদি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হয়, তবে আগামী মাসগুলোতে জমে থাকা চালানগুলো খালাস করা সম্ভব হতে পারে। তবে এই ১০ দিনের স্থবিরতা মার্চের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে, কারণ এই সময়টুকু মাসিক রপ্তানি কার্যক্রমের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ভারত সরকার রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ নিরসনে ৩ মার্চ একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করেছে। কর্তৃপক্ষ কাস্টমস, বন্দর, ব্যাংক এবং অন্যান্য অংশীদারদের সাথে সমন্বয় করছে যাতে কার্গো দ্রুত ফিরিয়ে আনা যায়, বন্দরের চার্জ কমানো যায় এবং যেসব রপ্তানিকারকের পেমেন্ট পেতে দেরি হচ্ছে তাদের আর্থিক স্বস্তি দেওয়া যায়। ব্যাংকগুলো শীঘ্রই ক্রেডিট বা ঋণের ক্ষেত্রে শিথিলতা দিতে পারে। সাহাই জোর দিয়ে বলেন যে, বাণিজ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কমাতে শিপিং লাইনসহ সকল অংশীদারকে দায়িত্বশীলতার সাথে সহযোগিতা করতে হবে।