ঢাকা, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৩ ফাল্গুন ১৪৩২, ২৭ শা'বান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
জামায়াত আমির ও নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ তারেক রহমানের
Scroll
দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিমকে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা
Scroll
মঙ্গলবার সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি
Scroll
নির্বাচনে বিএনপি ৪৯.৯৭ শতাংশ, জামায়াত ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে: ইসি
Scroll
জ্বালানি সংকটে কিউবার বিখ্যাত চুরুট মেলা স্থগিত
Scroll
সুষ্ঠু ও ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজনে সংশ্লিষ্টদের প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে ধন্যবাদ জ্ঞাপন
Scroll
মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য ও বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ: আইন উপদেষ্টা
Scroll
আজ ডা. শফিকুর ও নাহিদের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান
Scroll
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নিয়োগ বাতিল বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা
Scroll
বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের
Scroll
আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু উদ্বোধন করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
Scroll
জাপানে চালু হচ্ছে বুলেট কার্গো ট্রেন
Scroll
সংসদ সদস্যদের শপথ মঙ্গলবার, একই দিনে হতে পারে সরকারের শপথও
Scroll
গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ভোটের হারে পার্থক্যের কারণ কী?
Scroll
সংবাদ সম্মেলনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া তারেক রহমানের বক্তব্য
Scroll
এই নির্বাচনে উদারপন্থি গণতন্ত্রেরই বিজয় হয়েছে : মির্জা ফখরুল
Scroll
মিউনিখ বৈঠক: চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার অঙ্গীকার
Scroll
তারেক রহমানকে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন
Scroll
জাপানের যৌথ যুদ্ধবিমান প্রকল্প এগিয়ে নিতে সম্মত ব্রিটেন ও ইতালি
Scroll
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ একে অপরের পরিপূরক: মিউনিখে রুবিও

নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা

বাসস

প্রকাশ: ০৯:০৬, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৯:০৭, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস রোববার যমুনায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অন্যান্য সংগঠনের সদস্যদের সাথে বৈঠক করেন। বাসস।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা কেউই চিরস্থায়ী নই। কিন্তু নতুন প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা প্রয়োজন। তারা যেন জানে এই দেশ কোথা থেকে আসলো, কীভাবে যুদ্ধ হয়েছে। যুদ্ধ তো একটা না, সামনে আরও যুদ্ধ আসবে। আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকে।

আজ রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা একথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম।

বৈঠকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল (অব:) আজিজুর রহমান, বীর উত্তম, ক্যাপ্টেন (অব:) নুরুল হুদা, মেজর (অব:) সৈয়দ মুনিবুর রহমান, মেজর (অব:) কাইয়ুম খান, সাদেক আহমেদ খান, হাবিবুল আলম, বীর প্রতীক, মেজর (অব:) ফজলুর রহমান, বীর প্রতীক। 

এছাড়া বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর জেনারেল (অব:) জামিল ডি আহসান, বীর প্রতীক, মেজর (অব:) সৈয়দ মিজানুর রহমান, পিএসসি, মেজর (অব:) এ কে এম হাফিজুর রহমান, মনোয়ারুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর, সদস্য সৈয়দ আবুল বাশার, সিরাজুল হক, মো: মনসুর আলী সরকার, অনিল বরণ রায়, নুরুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ হিল সাফী, জাহাঙ্গীর কবির, প্রকৌশলী জাকারিয়া আহমেদ বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা খুঁজে বের করা এবং ভুয়াদের চিহ্নিত করতে উদ্যোগ নেওয়া। বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্ভব শ্রদ্ধা করেন। এ কারণে শ্রদ্ধাকে পুঁজি করে অতীতে অনেকে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছেন। এটা যেন আর ভবিষ্যতে না ঘটে সেই ব্যবস্থা আমাদের করে যেতে হবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যখন এটাতে সুযোগ দেখল তখন এটাকেই ব্যবহার করল। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আর প্রতিষ্ঠান থাকল না; খেলার পুতুল হয়ে গেল। খেলার পুতুল থেকে এগুলোকে আবার প্রতিষ্ঠান করাই আমাদের চেষ্টা ছিল।’

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ইতিহাস লিখতে পারা, ইতিহাসের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া একটি পবিত্র কাজ। এটা করতে পারা অত্যন্ত গর্বের। আর কয়েক বছর পর নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু তাঁদের স্মৃতি আমাদের ধরে রাখতে হবে। এজন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেদিকে আমাদের এখন থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি যেন আমাদের জাতির মধ্যে অবিনশ্বর থাকে।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, 'বিগত সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বুলি আওড়িয়ে মানুষের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বঞ্চিত করেছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধা এ নিয়ে মর্মাহত ছিলেন, কষ্টে ছিলেন। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সকলে মিলে জঞ্জালমুক্ত করতে চাইছি। মুক্তিযোদ্ধাদের হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করছি।'

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন, সংস্কার বাস্তবায়ন এবং গণভোটের আয়োজন করায় প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তাঁরা বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার চিহ্ন থাকবে না। সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে জুলাই সনদ অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে জানান তারা।

গণভোটে “না” জয়ী হলে তা হবে দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে ব্যক্তিগত পরিসরে গণভোটে “হ্যাঁ” এর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেয়ার কথাও জানিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা একেবারে নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে আছি। সংবিধান সংস্কারের একটি সুযোগ আমরা গণ-অভ্যুত্থান থেকে পেয়েছি। সকল রাজনৈতিক দল ঐকমত্য কমিশন কাজ করেছে। এখন সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের আয়োজন করছে। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংস্কার না হলে, পরিবর্তন না হলে ঘুরে ফিরে একই জায়গায় থেকে যাবো, আর বের হতে পারব না।’

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপনি আন্তর্জাতিকভাবে যে বলয় তৈরি করেছেন সেজন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা, একটা দেউলিয়া অর্থনীতিকে সবল করার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের যুদ্ধ করার লক্ষ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক মুক্তিলাভ। কিন্তু এখন জনগণ একদিকে, মুক্তিযোদ্ধা একদিকে, স্বাধীনতা আরেকদিকে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অপ-রাজনীতির কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের আইসোলেট করে ফেলা হয়েছে।’

বৈঠকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা আক্ষেপ করে জানান, ১৬ বছরে সম্মান এমনভাবে নষ্ট হয়েছে যে পরিচয় দিতে পারতাম না। মানুষ জিজ্ঞেস করত, "আসল না নকল?"

ক্যাপ্টেন (অব:) নুরুল হুদা বলেন, ‘বাকস্বাধীনতা, ৫৭ বছরে যেটা পাইনি সেটা আপনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। সবাই এখন কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে, নিজেদের নেতা- উপযুক্ত লোক খুঁজে নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত সরকারে যারা এসেছেন মুক্তিযুদ্ধকে টুইস্ট করেছেন। আমরা মতবিনিময় করে সংজ্ঞা পরিবর্তনের সুপারিশ করেছিলাম। আপনি সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করেছেন। আগামীতে কী হবে জানিনা। কিন্তু এখন মুক্তিযোদ্ধাদের ভুল বোঝার যে সুযোগ ছিল আপনার সরকার সেটা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে; সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’

তিনি বলেন, 'আমরা যে বয়সে যুদ্ধ করেছিলাম, চব্বিশে সেই বয়সের ছেলেরাই জুলাই-গণ-অভ্যুত্থান করেছে। আমাদের মতো এই তরুণরাও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছে, পুরানো বয়ান-সিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এরা আমাদেরই উত্তরসূরি। অনেকেই একাত্তর-চব্বিশকে মুখোমুখি করতে চায়। তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে।’

বৈঠকে তিন সংগঠনের নেতারা তাঁদের কাজ ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, গৌরবজ্জল ইতিহাস ও অধ্যায়কে এই প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেয়াই এখন মূল উদ্দেশ্য।

তাঁরা জানান, একাত্তরে সশস্ত্র সংগ্রাম হয়েছিল কিন্তু এটা জনযুদ্ধও ছিল। সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতি-স্মারক সংরক্ষণ ও গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিল হয়েছে। ঘুরে ঘুরে কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদগুলো যাচাই করা হচ্ছে, সবকিছু নোট নেয়া হচ্ছে, জটিলতা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং কীভাবে এগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার হয় তা নিয়ে কাজ চলছে। পরবর্তীতে যারা আসবেন তাদের জন্য একটি ছক ও কর্মপন্থা রেখে যেতে চেষ্টা করবেন বলেও জানান তাঁরা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদের শক্ত থাকতে হবে, যেন অতীতের মতো কেউ এসে গণ্ডগোল করতে না পারে। যে সম্পদ আছে সেটা যেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে, মানুষ যেন শ্রদ্ধা করতে পারে, স্মরণ করতে পারে সেজন্য ব্যবহার করতে হবে। দেশের স্থায়ী মঙ্গলের জন্য ব্যবহার করতে হবে। অর্থের দিক থেকে, সম্পদের দিক থেকে এই সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে এবং এটা ক্রমান্বয়ে বাড়াতে হবে, কাজের পরিধিও বাড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কাজ হবে কিন্তু নাগরিক হিসেবেও কাজ করে যেতে হবে। আর কয়দিন পরেই আমি সরকারে থাকব না। এটা আমার জায়গা ছিল না কখনোই। আমি ঘটনাচক্রে জড়িত হয়ে গেছি। তবে আমি নাগরিক হিসেবে আমার কর্তব্য পালন করে যাব।’

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন