শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮:৫৮, ৮ মার্চ ২০২৬
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত।
এক সপ্তাহের পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে নতুন করে ১৫১ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ কমাতে এবং অস্থিতিশীল জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফেরাতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার ঘোষণা করেছেন যে, দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে যেন "এখন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর কোনো আক্রমণ বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ না করা হয়, যদি না সেসব দেশ থেকে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়," খবর ইউরো নিউজের।
এ ছাড়া, পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে ব্যাখ্যা করেন যে, "বর্বরোচিত আগ্রাসনের ফলে আমাদের কমান্ডার এবং নেতা প্রাণ হারিয়েছেন। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর বীরেরা আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করছেন; কমান্ডারদের অনুপস্থিতিতে তারা নিজেদের ইচ্ছামতো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে যা প্রয়োজন তা-ই করেছেন। তারা অত্যন্ত গর্ব ও শক্তির সাথে আমাদের দেশকে রক্ষা করেছেন।"
পেজেশকিয়ানের এই বার্তার কিছুক্ষণ পরেই ট্রাম্প তার 'ট্রুথ সোশ্যাল' ওয়েবসাইটে এক পোস্টে সতর্ক করে বলেন যে, যুদ্ধে আরও ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে। পেজেশকিয়ানের ক্ষমার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “আজ ইরানকে খুব শক্তভাবে আঘাত করা হবে!”
ট্রাম্প বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়েই লেখেন, “ইরানের খারাপ আচরণের কারণে এমন কিছু এলাকা এবং গোষ্ঠী এখন আমাদের ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নিশ্চিত মৃত্যুর’ বিবেচনায় রয়েছে, যা এর আগে কখনোই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ভাবা হয়নি।”
তিনি আরও দাবি করেন যে, পেজেশকিয়ানের এই ক্ষমা প্রার্থনা শুধুমাত্র আমেরিকা ও ইসরায়েলের নিরবচ্ছিন্ন হামলার কারণেই এসেছে। তিনি যোগ করেন, "তারা (ইরান) মধ্যপ্রাচ্য দখল ও শাসন করতে চেয়েছিল।"
তবে পেজেশকিয়ানের এই ঘোষণা ইরানের সামরিক কমান্ডাররা মেনে চলবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়; কারণ ঐতিহ্যগতভাবে তারা সরাসরি আয়াতুল্লাহর কাছ থেকে নির্দেশনা পেয়ে থাকেন। এক সপ্তাহ আগে যুদ্ধের প্রথম দিনে আমেরিকা ও ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ী নিহত হওয়ার পর থেকে বর্তমানে ইরানে কোনো সর্বোচ্চ নেতা নেই।
ইরানি প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের পরপরই দুবাই বিমানবন্দরে একটি ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয় এবং কাতার একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর জানায়।
যুক্তরাষ্ট্রের আরও তীব্র বোমা হামলার হুঁশিয়ারি
বর্তমানে এই যুদ্ধের কোনো শেষ দেখা যাচ্ছে না। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের "বিনা শর্তে আত্মসমর্পণ" ছাড়া তিনি কোনো আলোচনায় বসবেন না। এর পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে নতুন করে ১৫১ মিলিয়ন ডলারের (১২৯ মিলিয়ন ইউরো) অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, এই যুদ্ধের "সবচেয়ে বড় বোমা হামলা" এখনও বাকি আছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, তার দেশ নিজেদের রক্ষায় "প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা" গ্রহণ করবে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (AP) ভিডিও ফুটেজে পশ্চিম তেহরানের আকাশে আগুনের ঝলকানি ও ধোঁয়া দেখা গেছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা সেখানে একটি ব্যাপকভিত্তিক বিমান হামলা শুরু করেছে।