শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১:৩৯, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
রাশিয়ার জাতীয় পতাকা। ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রিটেন বুধবার সমন্বিতভাবে রাশিয়া-ভিত্তিক ওয়েব কোম্পানি মিডিয়া ল্যান্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এই কোম্পানি র্যানসমওয়্যার (ransomware) কার্যক্রমে সহায়তা করছে বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউএস ট্রেজারির অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (OFAC) এই রুশ কোম্পানির নেতৃত্বের তিনজন সদস্য এবং এর তিনটি সহযোগী সংস্থাকেও কালো তালিকাভুক্ত করেছে, রিপোর্ট সিংগাপুর স্ট্রেইট টাইমসের।
মার্কিন ট্রেজারির সন্ত্রাসবাদ ও আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জন হার্লি (John Hurley) বলেন, "মিডিয়া ল্যান্ডের মতো এই তথাকথিত 'বুলেটপ্রুফ হোস্টিং পরিষেবা প্রদানকারীরা' সাইবার অপরাধীদের জন্য অপরিহার্য পরিষেবা সরবরাহ করে, যা তাদের যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্র দেশগুলোর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আক্রমণ করতে সাহায্য করে।"
ব্রিটেনও সমান্তরাল ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে। তারা তাদের রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার অধীনে এজা গ্রুপ এলএলসিকে (Aeza Group LLC) যুক্ত করেছে এবং তাদের সাইবার ব্যবস্থার অধীনে ছয়টি নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে মিডিয়া ল্যান্ড এবং আরেকটি হোস্টিং প্রদানকারী এমএল.ক্লাউড এলএলসি (ML.Cloud LLC), এর সাথে বিদ্বেষপূর্ণ সাইবার কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত চারজন ব্যক্তি।
যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সকল লক্ষ্যের জন্য সম্পদ জব্দ (asset freezes) এবং পরিচালক পদে অযোগ্য ঘোষণার আদেশ অন্তর্ভুক্ত, পাশাপাশি এই চার ব্যক্তির উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এজা গ্রুপ ইন্টারনেট এবং ট্রাস্ট পরিষেবাগুলিতেও বিধিনিষেধের সম্মুখীন হচ্ছে, যা ব্রিটিশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তিগত সহায়তা বা হোস্টিং পরিষেবা প্রদান থেকে বিরত রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমএল.ক্লাউড হলো মিডিয়া ল্যান্ডের একটি সহযোগী সংস্থা যার প্রযুক্তিগত অবকাঠামো প্রায়শই মিডিয়া ল্যান্ডের সাথে একত্রে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে র্যানসমওয়্যার এবং ও অন্যান্য আক্রমণও অন্তর্ভুক্ত।
লন্ডনে অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এজা গ্রুপ বা এমএল.ক্লাউড কেউই মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। মিডিয়া ল্যান্ডের সাথেও তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে যে তারা তাদের অংশীদারদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একই ধরনের ব্যবস্থা আরোপ করছে, কারণ হাসপাতাল, স্কুল এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আঘাত হানা র্যানসমওয়্যার নেটওয়ার্কগুলোকে ভেঙে দেওয়া জরুরি।