শিরোনাম
বিবিসি নিউজ বাংলা
প্রকাশ: ০৯:২৬, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
শেকল পরিয়ে আরও ৩১ বাংলাদেশিকে ফেরত' সমকালের শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে আরও ৩১ বাংলাদেশিকে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারা পৌঁছান।
তবে তাদেরকে হ্যান্ডকাফ ও শরীরে শেকল পরিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। এর আগে চলতি বছর আরও ২২৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আরও জোরদার করেন। ট্রাম্পের এ নীতির অংশ হিসেবে এরই মধ্যে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বহু মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেশে ফেরত কর্মীদের ব্র্যাকের পক্ষ থেকে পরিবহন সহায়তাসহ জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়। ফেরত আসা এই কর্মীদের মধ্যে অধিকাংশই নোয়াখালীর। এছাড়া সিলেট, ফেনী, শরিয়তপুর, কুমিল্লা সহ বিভিন্ন জেলার কর্মী আছেন।
বিজ্ঞাপন
ফেরত আসা বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, তাদেরকে প্রায় ৬০ ঘণ্টা হাতে হ্যান্ডকাফ ও শরীরে শেকল পরিয়ে দেশে আনা হয়। ঢাকা বিমানবন্দরে এনে তাদের শেকলমুক্ত করা হয়।
'আপাতত খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেয়া হচ্ছে না' নয়াদিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আপাতত লন্ডনে নেয়া হচ্ছে না। জানা গেছে, শারীরিক অবস্থা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত না হওয়ায় মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার চিন্তা বাদ দিয়েছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই ধীরে উন্নতি হচ্ছে। মূল সমস্যা– একটি জটিলতা কেটে গেলে নতুন করে আরেকটি জটিলতা দেখা দেয়।
রোগের প্যারামিটার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আরেকটি বেড়ে যায়। দীর্ঘ দিনের পুরনো লিভারের জটিলতা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কিডনি নিয়ে উদ্বিগ্ন আছে মেডিকেল বোর্ড।
খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ৮০ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ দিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
এভারকেয়ারে বর্তমানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত দেশি-বিদেশি দুই ডজনের মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন বৈঠক করে চিকিৎসায় পরিবর্তন আনছে। একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার প্যারামিটারগুলো খারাপ আসছে না, তবে একেবারে ঝুঁকিমুক্তও হচ্ছেন না।
'দাবার ঘুঁটি ইন্দো-প্যাসিফিক' যুগান্তরের শিরোনাম।
খবরে বলা হচ্ছে, ইন্দো-প্যাসিফিক বা ভারত-প্রশান্তমহাসাগীয় অঞ্চলের অন্যতম অংশীদার বাংলাদেশ। বিশ্বের অন্যতম দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এই অঞ্চলে তাদের আধিপত্য চায়। একই অঞ্চলের অংশীদার হিসাবে ভারতের চাওয়াও কম নয়। তিন দেশেরই বাংলাদেশের কাছে নানা চাওয়া আছে।
তবে ঘুরেফিরে ভারত-প্রশান্তমহাসাগীয় অঞ্চলে কার কতটুকু অধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, কে কতটুকু সুবিধা পাবে-তা নিয়েই সম্পর্কের পারদ ওঠানামা করছে এখন। দেশের বেশির ভাগ পর্যবেক্ষকের ধারণা, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে পারদের এই ওঠানামার গতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে তৈরি হয়েছে কিছুটা অস্থিরতা।
অনেকের মতে, বিভিন্ন মহল থেকে ষড়যন্ত্রের কথা এজন্যই বলা হচ্ছে। কার্যত ভূরাজনীতির দাবার ঘুঁটি হলো ইন্দো-প্যাসিফিকের নিয়ন্ত্রণ।
সাম্প্রতিক বছরে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ঘিরে নিজস্ব কৌশল তৈরি করছে। এসব কৌশলের মধ্যে সামুদ্রিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সংযোগ বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদ দমন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো-না-কোনোভাবে তিন দেশেরই ইন্দো-প্যাসিফিকের এসব স্বার্থ জড়িত।
'ভোটযুদ্ধে বড় ইস্যু ৭১' এটি আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগবিহীন ভোটের মাঠে এনপি ও জামায়াতে ইসলামী এখন একে অপরের মূল প্রতিপক্ষ । নির্বাচনে জয়ের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিপক্ষের দুর্বলতা ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলো জোরেশোরে সামনে আনছে তারা ।
এরই অংশ হিসেবে দুই পক্ষের জমে ওঠা কথার যুদ্ধে স্থান পেয়েছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ । ২০২৬ - এর ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার । সব ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা করা হবে নির্বাচনের তফসিল , অর্থাৎ বিশদ সময়সূচি ।
তফসিল ঘনিয়ে আসায় প্রকাশ্যে- নেপথ্যে চলছে দলগুলোর জোটের তৎপরতা । ক্রমেই জমে উঠেছে অনানুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা । দলগুলোর নেতারা দেশজুড়ে সফর করছেন , জনসভায় অংশ নিচ্ছেন ।
এই প্রচারে নিজেদের কৃতিত্ব আর অঙ্গীকারের বয়ানের পাশাপাশি দলগুলো পরস্পরের দোষ চিহ্নিত করে সমালোচনার তির ছুড়ছে । চেষ্টা করছে জনসমর্থন নিজের পক্ষে টানতে । বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য বিতর্কিত জামায়াতে ইসলামী ।
দলটি তখন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সেই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নির্বাচনের মৌসুমে জনসমর্থন সৃষ্টির প্রচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাদের অতীতের ঘনিষ্ঠ মিত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
'নির্বাচনে বেশি আসন জিতবে বিএনপি, মত ৬৬% মানুষের' প্রথম আলোর শিরোনাম।
প্রথম আলোর উদ্যোগে 'কি মেকারস কনসালটিং' পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে বিএনপি জয়ী হবে বলে মনে করেন দেশের বেশির ভাগ মানুষ। মানুষের পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় দল হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।
অন্যদিকে অর্ধেকের বেশি মানুষ মনে করেন, বিএনপি জয়ী হলে দেশের ভালো হবে। আর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী জিতলে দেশের ভালো হবে।
জরিপের প্রশ্নের মধ্যে একটি ছিল, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দল সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আসনে জয়লাভ করবে বলে মনে করেন? সেই দল কত আসন পেতে পারে, সেটি অবশ্য প্রশ্নে ছিল না।
জবাবে প্রায় ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, সবচেয়ে বেশি আসনে জয়লাভ করবে বিএনপি। নারী, পুরুষ, নানা বয়স শ্রেণিভেদে প্রায় সবারই কাছাকাছি মত এসেছে। উত্তরদাতাদের প্রায় ২৬ শতাংশের মত, বেশি আসন পাবে জামায়াতে ইসলামী।
ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম 'Graft taints the graft watchdog' খবরে বলা হচ্ছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিজেই এক সংকটের মুখোমুখি। কারণ দুদক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ এবং অবৈধ সুবিধা গ্রহণের নতুন অভিযোগ উঠে আসছে। যার মধ্যে দুর্নীতির তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তাও রয়েছেন।
এমন অভিযোগে শুধু ২০২৫ সালেই ছয়জন দুদক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে তিনজন সেপ্টেম্বরে। তাদের মধ্যে একজন পরিচালক-স্তরের কর্মকর্তাও রয়েছেন।
গত ১৭ বছরে ২৪৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ, অনৈতিক সুবিধা এবং দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে দুদক। দণ্ডিতদের মধ্যে ৩৪ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে, আবার অনেকে বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি বা বেতন কমানোর মতো শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন। বর্তমানে ১০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি।
দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন সংস্থাটির কর্মকর্তাদের দুর্নীতির নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের অভিযোগ সামনে এলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, অন্যান্য অভিযুক্তদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদেরও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। কারণ এ ধরনের ঘটনা প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতায় আঘাত করে।
দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান (বিলুপ্ত) এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'শুধু বিভাগীয় পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়; তাদের বিচারের জন্য আদালতে হস্তান্তর করতে হবে।'
'জাপা ও জেপির নেতৃত্বে নতুন জোট 'জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট'' ইত্তেফাকের শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা) ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি-জেপির নেতৃত্বে ছয়টি নিবন্ধিত দলসহ মোট ১৮টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে 'জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)' নামে নতুন একটি জোট আত্মপ্রকাশ করেছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানে ইমানুয়েলস পার্টি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদসম্মেলনে এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।এনডিএফের প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুখপাত্র জাপা মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং প্রধান সমন্বয়ক জনতা পার্টি বাংলাদেশ (জেপিবি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন।
জোটের শরিক দলগুলো হলো-জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় পার্টি-জেপি, জনতা পার্টি বাংলাদেশ (জেপিবি), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, গণফ্রন্ট, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জাতীয় ইসলামী মহাজোট, জাসদ (শাহজাহান সিরাজ), ডেমোক্রেটিক পার্টি, অ্যালায়েন্স ডেমোক্রেটিক পার্টি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পার্টি, বাংলাদেশ স্বাধীন পার্টি, ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক পার্টি-ইউডিপি, জাতীয় সাংস্কৃতিক জোট ও গণআন্দোলন।
মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম 'মা-মেয়ে হত্যার পর স্কুল ড্রেস পরে পালায় ঘাতক'। খবরে বলা হচ্ছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন এম জেড আজিজুল ইসলাম।
চারদিন আগে আয়েশা নামের এক নারী গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যোগদান করে। গতকাল সকালে আজিজুলের স্ত্রী মালাইলা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজ (১৫)কে ছুরি দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় গৃহকর্মী আয়েশা।
পালিয়ে যাওয়ার আগে ঘাতক আয়েশা বাথরুমে গোসল করে নিহত নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে পালায়। শাহজাহান রোডের ৩২/২/এ বাসার সপ্তম তলার ৭/বি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মালাইলা আফরোজ পেশায় গৃহিণী ও নাফিসা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তবে কি কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে জানা যায়নি এবং ঘাতক আয়েশাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
নিহত নাফিসার বাবা উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক আজিজুল ইসলাম বলেন, বাসায় একজন কাজের মহিলা দরকার ছিল। সাধারণত গেটে অনেকে কাজের সন্ধানে আসেন। চারদিন আগে একটি মেয়ে আসে।
বোরকা পরিহিত মেয়েটি বাসার দারোয়ান খালেকের কাছে কাজের সন্ধান করলে সে আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এরপর আমার স্ত্রী মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে কাজে রেখে দেয়। পরে স্ত্রীর মুখে শুনেছি, মেয়েটার নাম আয়েশা। বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তার গ্রামের বাড়ি রংপুর।
'তিন চাপে ধুঁকছে অর্থনীতি' কালের কণ্ঠের শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, উচ্চ সুদের হার, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থানের সংকট—এই তিন চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার পরিণতিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুতে যে অর্থনৈতিক শ্লথগতি দেখা দিয়েছিল, তার রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু সূচকে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গেলেও বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে স্পষ্টভাবেই। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) বার্ষিক প্রকাশনা বাংলাদেশ স্টেট অব দ্য ইকোনমিতে এই চিত্র উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে আসে মাত্র ২ শতাংশে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বাজারে স্থবিরতার প্রভাব সরাসরি পড়ে শিল্প ও সেবা খাতে। একই সময় কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ০.৭৬ শতাংশ, শিল্পে ২.৪৪ শতাংশ এবং সেবায় ২.৪১ শতাংশ।
তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিক থেকে অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি দ্বিতীয় প্রান্তিকে লাফ দিয়ে ৭.১ শতাংশে উঠে আসে, তৃতীয় প্রান্তিকে তা ছিল ৬.৯১ শতাংশ। সার্বিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধিও তৃতীয় প্রান্তিকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪.৯ শতাংশে।
তবু এই পুনরুদ্ধারের পেছনে থাকা গতি এখনো টেকসই নয় বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। বিশেষ করে বিনিয়োগ খাতে উচ্চ সুদের চাপ অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
'দেশের আর্থিক খাতে সম্পদের আকার সাড়ে ৪২ লাখ কোটি টাকা, বাস্তবে কত?' বণিক বার্তার শিরোনাম।
খবরে বলা হচ্ছে, দেশের ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা খেলাপির খাতায় চলে গিয়েছে। আদায় অযোগ্য হওয়ায় অবলোপন (রাইটঅফ) করা হয়েছে আরো অর্ধলাখ কোটি টাকার ঋণ। খেলাপি হয়েছে ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) এক-তৃতীয়াংশের বেশি ঋণও।
লুণ্ঠনের শিকার হয়েছে বীমা কোম্পানি ও পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অর্থও। আর্থিক খাতের অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের চিত্র প্রায় একই। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে দেশের আর্থিক খাতের প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ কোটি টাকা সম্পদের কতটা বাস্তবে রয়েছে।
দেশের আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট সম্পদের পরিমাণ কত, সে বিষয়ে একীভূত কোনো তথ্য ছিল না। সম্প্রতি এ সম্পদের মোট আকার নির্ধারণে উদ্যোগী হয় বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির পরিসংখ্যান বিভাগের তৈরি করা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশের ব্যাংক, বীমা, এবিএফআইসহ পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২ লাখ ৪২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকায়।
এর ৯৬ শতাংশই বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট। আর ১ দশমিক ৬০ শতাংশ সম্পদের অংশীদারত্ব রয়েছে সাধারণ ও জীবন বীমাসংশ্লিষ্ট কোম্পানির। এক্ষেত্রে দেশের পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট কোম্পানির সম্পদ অংশীদারত্ব মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ।