শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ১৩:১৬, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৬:০২, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবি: সংগৃহীত (বাসস)।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শোক পালনের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী কর্মসূচি প্রণয়ন করা হবে। এছাড়া, বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মকে উপজীব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক সেমিনার ও অন্যান্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আজ মঙ্গলবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআ’সহ সব হল/হোস্টেল এবং আবাসিক এলাকার মসজিদে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় কোরআনখানি, দোয়া ও মোনাজাত করা হবে। অন্যান্য ধর্মীয় উপসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হবে।
এছাড়াও, আগামীকাল বাদ জোহর মানিক মিয়া এভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণের সুবিধার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এফবিসিসিআই’র শোক
বাংলাদেশের তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।
আজ মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় এফবিসিসিআই জানায়, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান এবং দীর্ঘ সংগ্রাম জাতি কৃতজ্ঞতচিত্তে স্মরণ করবে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন সৎ, দেশপ্রেমিক ও আপসহীন নেত্রীকে হারালো।
শোকবার্তায় বলা হয়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সাহসী নেতৃত্ব ও নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের মাধ্যমে জাতিকে সবসময় মুক্তির অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে ব্যবসায়ী সমাজও তাঁর পাশে থাকার অভিজ্ঞতা লাভ করেছে।
এফবিসিসিআই মরহুমার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করে এবং মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করে বলেন, আল্লাহ যেন বেগম খালেদা জিয়াকে বেহেশত নসিব করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও সাহস দান করেন। শোকবার্তায় এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খানের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
বাংলাদেশের তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথিকৃৎ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় আপসহীন নেত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
আজ এক শোকবার্তায় বিজিএমইএ পরিবার তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা সমগ্র পোশাক শিল্প পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। দেশ একজন অভিভাবক ও কালজয়ী দেশপ্রেমিক নেতাকে হারালো। জাতীয় জীবনে এই অপূরণীয় শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।
বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের বিশ্বব্যাপী প্রসারে তার আন্তরিকতা এবং সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্তগুলো আমাদের এই শিল্পের অগ্রযাত্রায় চিরকাল মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের ইতিহাসে তার অর্থনৈতিক দর্শন ও কর্মময় জীবন অম্লান হয়ে থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে এবং আধুনিক শিল্পায়নের পথ সুগম করতে বেগম খালেদা জিয়া অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তার সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ পথচলা শুরু হয়, যা বেসরকারি খাতকে বিকাশের অবারিত সুযোগ করে দেয়।
দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের বিশ্বব্যাপী প্রসারে বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন পোশাক খাতের জন্য সহায়ক শুল্ক নীতি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদানের ফলেই এ খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া নারী শিক্ষার প্রসার ও অবৈতনিক শিক্ষা চালুর মাধ্যমে তিনি দেশের এক বিশাল নারী জনগোষ্ঠীকে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তরিত করার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। যা পোশাক শিল্পে নারী কর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে এবং নারীর ক্ষমতায়নে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান কোনোদিন বিস্মৃত হওয়ার নয়। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দেশপ্রেমের যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে তার আমৃত্যু সংগ্রাম এবং অসামান্য ত্যাগের জন্য বাংলাদেশ ও জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল তাকে স্মরণ করবে।