শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ০৯:১২, ২ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৯:১৪, ২ জানুয়ারি ২০২৬
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আজ শুক্রবার মিলাদ ও দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিএনপি।
বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে এ মিলাদ ও দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ্য থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্যসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও ঢাকা মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠন নেতৃবৃন্দ মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মাহফিলে উপস্থিত থাকবেন।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বাদ আসর বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরস্থ বাসভবনেও মিলাদ ও দোয়া মহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে, ছাত্রদল একই দিন বিকাল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করেছে।
এছাড়াও সারাদেশে সকল ইউনিট বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত আয়োজন করবে।
এদিকে,খালেদা জিয়ার স্মরণে ঢাবি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রার্থনা সভা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টায় সন্ধ্যা-আরতির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জগন্নাথ হলে অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থনা সভায় হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রার্থনার শুরুতেই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ গীতা থেকে পাঠ করেন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী প্রমিত দাস, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী পিয়েল বড়ুয়া এবং পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করেন ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী লিটন ত্রিপুরা।
এরপর বেগম খালেদা জিয়ার জীবনী নিয়ে মূল্যায়ন ধর্মী সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়। এই আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ শিল্পী দেবাশীষ পাল।
খালেদা জিয়ার আত্মার চিরশান্তি কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড. অসীম কুমার দাস এবং সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় দে রিপন।
প্রার্থনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. নেপাল চন্দ্র রায়, অধ্যাপক ড. শিমুল হালদার, অধ্যাপক ড. মিঠুন সরকার, সহকারী আবাসিক শিক্ষক ড. প্রমথ মিস্ত্রি, ড. উত্তম কুমার, সহযোগী অধ্যাপক মিঠুন কুমার সাহা, সহকারী অধ্যাপক চন্দন কুমার দাস ও রথীন্দ্র সরকার, সহযোগী অধ্যাপক ড. গৌতম কুমার কুন্ডু, ড. প্রসেনজিৎ সাহা প্রমুখ। এই প্রার্থনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের ভিপি পল্লব বর্মন উপস্থিত ছিলেন।
জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বলেন, আমরা আমাদের মাতৃতুল্য মাকে হারিয়েছি। খালেদা জিয়া তাঁর আপোশহীন কর্মগুণের মাধ্যমে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া একজন গৃহবধূ হয়েও বাংলাদেশের মানুষকে বার বার রক্ষা করেছেন। যতবার বাংলাদেশ বিপদে পড়েছে ততবারই তিনি বাংলাদেশের হাল ধরেছেন। সর্বস্তরের শিশু-কিশোরদের শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের ব্যবস্থা করেছিলেন খালেদা জিয়া।
দেশনেত্রীর সৃজনশীল চিন্তা এবং তাঁর রূচিবোধের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি চর্চার ধারাকে সমৃদ্ধ করেছেন খালেদা জিয়া যিনি আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছে।
দেশকে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র নির্মাণে খালেদা জিয়ার ভূমিকা এবং কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষক সঞ্জয় দে রিপন। তিনি বলেন, হিংসা এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি না করে খালেদা জিয়া মানবিক এবং গণতান্ত্রিক চিন্তা চর্চাকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন। সর্বোপরি তিনি মানবিক বোধের একজন মহীয়সী নেত্রী।
আবাসিক শিক্ষক ড. অসীম কুমার দাস বলেন, খালেদা জিয়ার সৌন্দর্যবোধ, পরিমিতি বোধ এবং সংযমী চিন্তা ও আচরণ বাংলাদেশের রাজনীতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর স্মৃতি আমরা বহন করছি এবং আমার বিশ্বাস খালেদা জিয়ার বিদায় বেলায় শুধু বাংলাদেশ নয় সারা পৃথিবী তাকে সম্মানের বিদায় জানিয়েছেন।