শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ২৩:১৭, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত।
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে বাসার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। দগ্ধ বাকি তিনজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দগ্ধ শিপন হোসেন (৩১) মারা যান। তিনি গৃহকর্তা সাখাওয়াতের ছোট ভাই।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিপন হোসেনের শরীরের ৮৩ শতাংশ দগ্ধ ছিল।
এর আগে গত বুধবার সকাল ১১টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গৃহকর্তা সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে আরেক ছোটভাই সামির আহমেদ সুমনের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার রাতে মারা যান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি। তাদের শরীরের শতভাগ দগ্ধ ছিল। সোমবার রাতে মারা যান ৫০ শতাংশ দগ্ধ শাওন। শাওন সাখাওয়াতের ছেলে। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় সাখাওয়াতের স্ত্রী শতভাগ দগ্ধ অবস্থায় নুরজাহান আক্তার রানী মারা যান।
গত সোমবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকার এইচ ব্লকে এসি মসজিদ সংলগ্ন ছয়তলা ভবন ‘হালিমা মঞ্জিল’-এর তৃতীয় তলায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় নয়জন দগ্ধ হন।
বর্তমানে দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে সাখাওয়াত হোসেনের মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা (১০), সামির আহমেদ সুমনের মেয়ে আয়েশা (৪) ও ছেলে ফারহান আহমেদ আনাস (৬)। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর প্রথমে দগ্ধদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা তখন সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানান। পরে দগ্ধ সবাইকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
ঘটনার কারণ উদঘাটনে ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।