ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

কেরানীগঞ্জে আগুন

অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার ‘প্রধান ফটক ছিল তালাবদ্ধ’

দৈনিক প্রথম আলোর সৌজন্যে

প্রকাশ: ২২:৫৫, ৪ এপ্রিল ২০২৬

অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার ‘প্রধান ফটক ছিল তালাবদ্ধ’

কেরানীগঞ্জের আকরাম গ্যাসলাইটার কারখানায় বিষ্ফোরণ ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অন্তত ৫ জন শ্রমিক মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত।

অগ্নিকাণ্ডের সময় ঢাকার কেরানীগঞ্জের আকরাম গ্যাসলাইটার কারখানার প্রধান ফটক তালাবদ্ধ ছিল বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকেরা। তাঁরা বলছেন, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়ার পর শ্রমিকেরা কারখানার দেয়াল টপকে বের হন।

শনিবার বেলা একটার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলীর ডিপজল গলির কারখানাটিতে আগুন লাগে। আগুন নেভানোর পর কারখানার ভেতর থেকে পাঁচ শ্রমিকের পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একাধিক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।

বিকেল পাঁচটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনে পুড়ে কারখানার টিনের শেড ধসে পড়েছে। কারখানার ভেতরের মালামাল ও যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। সেখান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। কারখানায় থাকা রাসায়ানিকের ড্রাম এদিক–সেদিক ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কারখানার ভেতরে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কারখানা ও এর আশপাশের এলাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘিরে রেখেছে।

কারখানার শ্রমিক সুমন মিয়া (২১) বলেন, ‘আমি সকাল সাড়ে আটটার দিকে কাজে আসি। বেলা পৌনে একটার দিকে বিকট শব্দ হয়। এরপর মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় আমি দৌড়ে দেয়াল টপকে কারখানা থেকে বেরিয়ে আসি।’

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে কারখানার এক শ্রমিক বলেন, ‘দুপুরের দিকে হঠাৎ কইরা কঠিন আওয়াজ হুনি। তহন ডরাইয়া যাই। হেরপর দেহি কারখানার লুকজন মেইন গেটের দিকে দৌড়াইতাছে। মেইন গেট বন্ধ থাকায় ওরা দেয়াল বাইয়া বাইরে যায়। ওগো দেহাদোহি আমিও দেয়াল বাইয়া বাইর হইয়া যাই। কিন্তু তহন কম বয়সের শিশু কর্মচারীরা আর বাইর হতে পারে নায়। ওরা ওইহানে আটকা পইরা যায়।’

অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার প্রধান ফটক বন্ধ ছিল উল্লেখ করে ডিপজল গলি এলাকার বাসিন্দা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, এর আগেও এই কারখানায় আগুন লেগেছিল। তাঁরা কারখানাটি এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য মালিককে একাধিকবার বলেছিলেন, কিন্তু তিনি শোনেননি।

কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশনমাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা সোয়া একটায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান ফটক খোলা পেয়েছি। গেইটের সামনে লোকজনের ভিড় ছিল। ফটক বন্ধ বা তালা দেওয়া ছিল কি না, জানি না।’

বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায়। তিনি বলেন, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় গত বছর কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বছরখানেক পর আজ কারখানাটি থেকে দগ্ধ পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হলো। তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের কারখানা ফের কে খুলে দিল? এ কারখানা পুনরায় সচলের জন্য যে বা যারা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যত বড় হাতই জড়িত থাকুক না কেন, সেই হাতকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফতাব আহমেদ বলেন, মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন বলেন, কারখানাটি পরিচালনার জন্য বৈধ কোনো কাগজপত্র ছিল না। কারখানার ভেতরে কোনো অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থাও ছিল না।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন