শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩:০৯, ৩ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৩:১১, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি। সংগৃহীত।
স্থানীয় ও বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নির্ভরশীলতা কমাতে একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি স্থাপন করতে যাচ্ছে ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ঢাকা ওয়াসা)।
রাজধানীর মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা মৌজায় এই একাডেমিটি স্থাপন করা হবে। ‘ঢাকা ওয়াসা ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ একাডেমি প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক এই প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২১.৪২ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ঢাকা ওয়াসা ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে, খবর ইউএনবি’র।
বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা তাদের ওয়াটার মাস্টার প্ল্যান এবং সুয়্যারেজ মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের বিভিন্ন জটিল প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নির্মাণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি পানি শোধনাগার এবং একটি পয়ঃশোধনাগার নির্মাণ। এছাড়া পানির অপচয় রোধ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে শহরে ১৪৫টি ডিস্ট্রিক্ট মিটার এলাকা (ডিএমএ) চালু করা হচ্ছে, যার মধ্যে ৮৯টি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপশি স্মার্ট ওয়াটার মিটার এবং স্কাডা (SCADA) সিস্টেমের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই আধুনিক সিস্টেমগুলো পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকা ওয়াসার কর্মীদের পর্যাপ্ত কারিগরি জ্ঞান নেই। বর্তমানে পরিকল্পনা থেকে শুরু করে অপ্টিমাইজেশন পর্যন্ত প্রায় সব কাজই দেশি-বিদেশি পরামর্শকদের দিয়ে করাতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। নিজস্ব প্রশিক্ষণ একাডেমি না থাকায় অভ্যন্তরীণ দক্ষতা বাড়ছে না এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।
যদিও বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং পানি পরীক্ষার ল্যাবরেটরি রয়েছে, তবে তা আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন বা উচ্চতর গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত নয়। নতুন এই একাডেমি স্থাপনের মাধ্যমে একটি দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব হবে, যারা নিজেরাই জটিল সিস্টেমগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে। এতে পরামর্শক খরচ কমার পাশাপাশি সংস্থার অভ্যন্তরীণ সক্ষমতাও শক্তিশালী হবে।
প্রস্তাবিত এই একাডেমির লক্ষ্য হলো পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন সেবার ওপর গুরুত্ব দিয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করবে।
এই প্রকল্পের প্রধান অংশগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণ, ডরমিটরি বা আবাসন সুবিধা, পার্কিং এলাকা এবং একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপন। এছাড়া আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে স্থাপত্য নকশা, নির্মাণ তদারকি এবং বিশেষ কারিগরি পরামর্শের জন্য তহবিল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের অর্থায়ন পরিকল্পনায় সরকারি তহবিল থেকে ৯০ কোটি টাকা, প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৫৭১.৪২ কোটি টাকা এবং ঢাকা ওয়াসার নিজস্ব তহবিল থেকে ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
একাডেমিটি চালু হলে ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাশ্রয়ী পানি ও পয়ঃশোধনাগার প্রযুক্তি, ডিএমএ স্থাপন, লিক বা ছিদ্র শনাক্তকরণ, স্মার্ট মিটারিং এবং স্কাডা-ভিত্তিক সিস্টেম ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ পাবেন।
ঢাকা ওয়াসার নিজস্ব প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি এই একাডেমিকে একটি আঞ্চলিক জ্ঞান বিনিময় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি সারা বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল ঢাকা ওয়াসার কার্যক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং পানি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে। পরিকল্পনা কমিশন ইতিমধ্যে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে, এর সফল বাস্তবায়ন পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন খাতে কর্মরতদের জ্ঞান ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।