শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ২১:২৪, ১৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২২:২৫, ১৬ মার্চ ২০২৬
দিনাজপুর সার্কিট হাউস মাঠে সুধী সমাবেশে ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দিনাজপুর অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
সোমবার দিনাজপুর সার্কিট হাউস মাঠে সুধী সমাবেশে ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দিনাজপুর তাঁর কাছে বিশেষ আবেগের জায়গা। এই শহরের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘মানুষ সাধারণত জিজ্ঞেস করে নানা বাড়ি কোথায়। কিন্তু দিনাজপুরের কথা মনে হলেই আমার কাছে নানি বাড়ির কথাটাই আগে মনে পড়ে। শহরের বালুবাড়ি ও ঘাসিপাড়ায় আমার নানা-নানির বাড়ির অনেক স্মৃতি রয়েছে।’
এলাকার প্রতি সেই টানেই, দায়িত্বের জায়গা থেকে দিনাজপুরের উন্নয়নে কাজ করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশে জেলা প্রশাসক, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তাঁরা তুলে ধরেছেন এবং সরকার সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার গঠনের পর থেকেই সেগুলোর বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সরকার গঠন করার পর প্রায় এক মাসের মধ্যে মানুষের কাছে যে ওয়াদা করেছি, তার অনেকগুলোর কাজ শুরু করেছি।’
এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুরের কাহারোল এলাকা থেকে আজ এই কর্মসূচির কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনেক বছর ধরে আমাদের নদী-নালা ও খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে, আবার বর্ষায় হঠাৎ পানি এলে তা আশপাশের ফসল ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
সরকার আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানান তিনি। এতে কৃষিকাজে পানি ব্যবহার সহজ হবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আজ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আগে যেখানে ১০০-১৫০ ফুট গভীরে পানি পাওয়া যেত, এখন অনেক ক্ষেত্রে ৬০০-৭০০ ফুট নিচে যেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘খাল ও নদী খননের মাধ্যমে যদি পানি ধরে রাখা যায়, তাহলে ভূগর্ভস্থ পানিও ধীরে ধীরে রিচার্জ হবে এবং আর্সেনিক সমস্যাও কমতে শুরু করবে।’
সমাবেশে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের প্রত্যেক নারী প্রধানদের জন্য একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারীদের পেছনে রেখে আমরা এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারব না।’
তিনি জানান, এই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দেশের ১৫টি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর-৬ আসনেও প্রকল্পটি চালু হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, প্রকল্পটি সফল হলে ধীরে ধীরে সারা দেশে এর পরিসর বাড়ানো হবে।
সমাজের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, যারা মসজিদে ইমাম, মোয়াজ্জেম, খতিব হিসেবে কাজ করেন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরু আছেন, তাদের জন্য একটা সম্মানীর ব্যবস্থা করব। আলহামদুলিল্লাহ, কয়েকদিন আগে আমরা সেই কাজটিও শুরু করেছি।’
প্রত্যাশিত দেশ গড়তে সরকার সর্বাত্মক কাজ করে যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত সুধীজন ও এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।