ঢাকা, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

৩ চৈত্র ১৪৩২, ২৭ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
দেশজুড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত
Scroll
আর্থিক জালিয়াতি: বিশ্ব অর্থনীতির ৪৪২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি
Scroll
নেপালে শুরু হচ্ছে হিমালয়ান ইউনিভার্সিটি কনসোর্টিয়াম রিট্রিট
Scroll
ঈদের আগে-পরে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরী চলাচল বন্ধ থাকবে
Scroll
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত
Scroll
ইসরায়েলের বিমান হামলায় শীর্ষ ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত
Scroll
ঢাবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম
Scroll
ঢাকা দক্ষিণ শহরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাঝে ঈদ অনুদান বিতরণ
Scroll
বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তার অঙ্গীকার বিশ্বব্যাংকের
Scroll
পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪০০ আফগান নিহত
Scroll
শিল্প খাতে ভারত ও চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার: অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা
Scroll
পত্রিকা: ’সাহাবুদ্দিনকে আরো এক বছর রাষ্ট্রপতি রাখতে চায় বিএনপি!’
Scroll
হরমুজ প্রণালীকে পাহারা দিতে ইউরোপের আগ্রহ নেই: কাজা কাল্লাস
Scroll
ইরান যুদ্ধ থেকে কে কী পেতে চাইছে?
Scroll
তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে স্থলভাগ ও সাগরে আন্তর্জাতিক দরপত্রে যেতে চায় সরকার
Scroll
ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে আজ
Scroll
দিনাজপুরে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী
Scroll
কেন প্রাণঘাতী ইরানী ড্রোন থামানো যাচ্ছে না?
Scroll
দেশের ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি নদী ও খাল খনন করা হবে: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
Scroll
আইসিটি খাতে দশ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

শিল্প খাতে ভারত ও চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার

বাসস

প্রকাশ: ১৭:৩৬, ১৭ মার্চ ২০২৬

শিল্প খাতে ভারত ও চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর । ফাইল ছবি

দেশের শিল্প খাতে ভারত ও চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

গতকাল সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিতুমীর জানান, অতীতে ভারত ও চীনের সহায়তায় বাংলাদেশে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ করনীয় নিয়ে পর্যালোচনা করছে সরকার।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার অর্থনীতিকে ভঙ্গুর অবস্থায় রেখে গেছে। বর্তমান প্রশাসনের কাজ হচ্ছে অর্থনীতিতে নতুন প্রাণসঞ্চার করা। ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ইশতেহারের আলোকে আমাদের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে,’ বলেন তিনি।

উপদেষ্টা আরো বলেন, বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং রাজস্ব আয়ও বাড়বে। ‘রাজস্ব বাড়লে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে,’ যোগ করেন তিনি।

এই লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করছে সরকার, জানান ড. তিতুমীর। এরই অংশ হিসেবে ভারত ও চীনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে আলোচনায় মূলত ঋণসুবিধার (এলওসি) আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং সেগুলোকে দেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি।

আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তা উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার নীতিতে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের মধ্যে বিশেষ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, অতীতে করা কিছু জ্বালানি চুক্তি ছিল অসম। ‘আমরা চাই, ভবিষ্যতে ভারত বা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে কোনো চুক্তি যেন বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হয়,’ বলেন তিনি।

ড. তিতুমীর বলেন, ভারতে বিদ্যুৎ বিনিময় বাজার রয়েছে, যা বাংলাদেশ বিবেচনা করতে পারে। ‘নেপাল, ভুটান বা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মতো বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারলে নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সেবা একীভূত করে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ ব্যবস্থা চালুর দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে ভারতের আধার ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।

চীনের প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা এবং যথাযথ পর্যালোচনা ও মনিটিরিংয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিশেষ করে শিল্পায়নমুখী বিনিয়োগ বাড়ানো।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার, চীনা সরকার, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলোকে নিয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ড. তিতুমীর বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও এখন শুধু বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না বাংলাদেশ। ‘দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য থাকবে, তবে আমাদের প্রয়োজন বেশি শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ। আমরা ঋণনির্ভর সংস্কৃতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর সংস্কৃতিতে যেতে চাই,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে আলোচনায় একই বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন