ঢাকা, রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬

৭ চৈত্র ১৪৩২, ০১ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
Scroll
দল-মত নির্বিশেষে সকলে মিলে দেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর
Scroll
শাহজালাল বিমানবন্দর পরিদর্শন করলেন বিমান প্রতিমন্ত্রী
Scroll
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের মধ্যদিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত
Scroll
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঈদুল ফিতর, পার্সি নওরোজের শুভেচ্ছা
Scroll
ঈদের দিনে জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ঢল
Scroll
ঈদুল ফিতরে ইন্দোনেশিয়া দেড় লাখ বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা প্রদান করেছে
Scroll
সমুদ্রে জাহাজে থাকা ইরানী তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র
Scroll
ঈদের দিন বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী
Scroll
গৌরনদীতে নিজ এলাকায় ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় তথ্যমন্ত্রীর
Scroll
বিরোধীদলীয় নেতার ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় ও শুভেচ্ছা বিনিময়
Scroll
কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর
Scroll
তারেক রহমান-শাহবাজ শরিফের ফোনালাপ, ঈদের শুভেচ্ছা বি‌নিময়
Scroll
ঈদের ছুটিতে রেকর্ড পর্যটক বরণে প্রস্তুত কক্সবাজার
Scroll
জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করলেন রাষ্ট্রপতি
Scroll
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন
Scroll
বিজবাংলা পরিবারের পক্ষ থেকে সকলকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা
Scroll
সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
Scroll
কিউবা: গভীরতর জ্বালানি সংকটে বছরের প্রথম রুশ তেল পেতে যাচ্ছে
Scroll
কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বালেন্দ্র শাহ নেপালের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ২৭ মার্চ

স্কটল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আইসিসি-এর

বিবিসি নিউজ বাংলা

প্রকাশ: ০৮:৪৪, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

স্কটল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আইসিসি-এর

কোলাজ: বিবিসি বাংলার সৌজন্যে।

শেষ পর্যন্ত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের। বাংলাদেশ দলের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে এই টুর্নামেন্টে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেনর নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

শনিবার সন্ধ্যায় একটি বিবৃতি দিয়ে আইসিসি এই খবর নিশ্চিত করে।

এর আগে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় ই–মেইলের মাধ্যমে বিসিবিকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে আইসিসি।

ভারতের মাটিতে খেলতে না চাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান নিয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ আলোচনা চলার পর এই সিদ্ধান্ত এলো।

এর আগে বিসিবি আইসিসিকে জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ সরকার ভারত সফরের অনুমতি দেয়নি ক্রিকেটারদের।

আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।

এর আগে বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আইসিসি বোর্ডের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অধিকাংশ পরিচালক মত দেন, বাংলাদেশ যদি ভারতে খেলতে রাজি না হয় এবং ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর দাবিতে অনড় থাকে, তাহলে তাদের পরিবর্তে অন্য দল নেওয়া হবে।

বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে সূচি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বোর্ডের মতে, ভারতের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি না থাকা সত্ত্বেও সূচি বদলালে ভবিষ্যৎ আইসিসি ইভেন্টগুলোর জন্য নজির তৈরি হবে এবং সংস্থাটির নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার আইসিসির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিসিবি জানিয়েছে, বিষয়টি আইসিসির ডিসপিউট রেজুলেশন কমিটিতে নেওয়া হবে। তবে ঠিক কোন অভিযোগ নিয়ে বিসিবি এই কমিটিতে যাচ্ছে বা এ বিষয়ে আইসিসির প্রতিক্রিয়া কী, তা জানা যায়নি।

ডিআরসি আইসিসির অধীনে গঠিত একটি স্বাধীন প্যানেল, যা সদস্য বোর্ড ও আইসিসির মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকে।

এছাড়াও বিরোধ নিষ্পন্ন করার জন্য, কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট বা সিএএস নামে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে। এর প্রধান কাজ হলো খেলাধুলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ ও আইনি জটিলতা নিষ্পত্তি করা।

কোনো খেলোয়াড়, কোচ, ক্লাব, ফেডারেশন বা ক্রীড়া সংস্থার মধ্যে চুক্তি, শৃঙ্খলাভঙ্গ, নিষেধাজ্ঞা, নির্বাচনী সিদ্ধান্ত কিংবা টুর্নামেন্ট সংক্রান্ত বিরোধ তৈরি হলে সিএএস সেই বিষয়গুলোর শুনানি করে। নিরপেক্ষভাবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তারা চূড়ান্ত রায় দেয়।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার অধীনে সিএএসের রায় সাধারণত বাধ্যতামূলক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তবে, এই সংস্থার দ্বারে বাংলাদেশ যাবে কি না সে বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

বাংলাদেশকে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে বিসিবির দাবি পূরণ করা বাস্তবসম্মত ছিল না বলেই এই 'কঠিন সিদ্ধান্ত' নিতে হয়েছে।

আইসিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতে নির্ধারিত ম্যাচ আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যে উদ্বেগ জানিয়েছিল, তা সমাধানের জন্য তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা চালানো হয়। এই সময়ে একাধিক দফায় বৈঠক হয়েছে- কখনো ভার্চুয়ালি, কখনো সরাসরি।

বিবৃতিতে বলা হয়, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল স্বচ্ছ ও গঠনমূলক। বিসিবির উত্থাপিত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সব বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে। এ জন্য আইসিসি নিজস্ব বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বাইরের স্বাধীন নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছ থেকেও মূল্যায়ন করিয়েছে।

আইসিসি আরও জানায়, ভারতের কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মাঠ ও দলের চলাচল সংক্রান্ত পরিকল্পনা এবং বাড়তি নিরাপত্তা প্রটোকল- সবকিছুই বিস্তারিতভাবে বিসিবিকে জানানো হয়েছিল।

এমনকি আইসিসি বিজনেস করপোরেশন (আইবিসি) বোর্ডের আলোচনাতেও এই নিশ্চয়তাগুলো পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এই সব মূল্যায়নের পর আইসিসির সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্ট। তাদের দাবি, বাংলাদেশ দল, কর্মকর্তাদের কিংবা সমর্থকদের জন্য ভারতে কোনো "বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি" পাওয়া যায়নি।

এই প্রেক্ষাপটে আইসিসি মনে করে, প্রকাশিত বিশ্বকাপ সূচিতে পরিবর্তন আনা যুক্তিসংগত হবে না। বিস্তৃত আলোচনার পরও সূচি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়।

গত বুধবারের বৈঠকের পর বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছিল- তারা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতে খেলবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো নিশ্চিত বার্তা না আসায় আইসিসি তাদের নিজস্ব নিয়ম ও যোগ্যতা প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিকল্প দল খুঁজতে এগিয়ে যায়।

সেই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে সুযোগ দেওয়া হয় স্কটল্যান্ডকে।

আইসিসির তথ্য অনুযায়ী, স্কটল্যান্ডই ছিল সর্বোচ্চ র‍্যাংকিংধারী দল, যারা মূলত বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বর্তমানে টি–টোয়েন্টি র‍্যাংকিং-এ তাদের অবস্থান ১৪তম।

এই তালিকায় স্কটল্যান্ডের পেছনে রয়েছে নামিবিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ওমান ও ইতালি- যা থেকে বোঝা যায়, কাগজে-কলমে স্কটল্যান্ডই ছিল স্বাভাবিক পছন্দ।

সব মিলিয়ে, আইসিসির দাবি–– এটি আবেগের নয়, বরং প্রক্রিয়া ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত। তবে মাঠের বাইরের এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বিশ্বে যে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
পাকিস্তান খেলবে কি না সিদ্ধান্ত নেবে সরকার

এদিকে, আসন্ন ২০২৬ সালের পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনা শেষে।

আইসিসি বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই এ বিষয়ে কথা বলেন নকভি। তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনায় আইসিসি ভারতের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা অন্যায়।

মহসিন নকভি বলেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান নির্ভর করবে সরকারের নির্দেশনার ওপর। তার ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আইসিসির নয়, সরকারের।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে তার সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। নকভির বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে, পিসিবি সেটিই অনুসরণ করবে।
অনড় অবস্থানে ছিল বিসিবি ও আইসিসি

আইসিসি বলছে, বিসিবিকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দিয়েছিল, যাতে বাংলাদেশ সরকার সঙ্গে আলোচনা করে বর্তমান সূচি অনুযায়ী ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। গ্রুপ সিতে থাকা বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতায় এবং চতুর্থ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে।

তবে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি আবারও জানায়, তারা ভারতে যাবে না। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার কথাও তোলে বাংলাদেশ।

এই সিদ্ধান্তের পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম আইসিসির বিরুদ্ধে 'ডাবল স্ট্যান্ডার্ড'-এর অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতে না যাওয়ার বিষয়ে বিসিসিআইয়ের অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসির আচরণ ভিন্ন।

নিরাপত্তা ইস্যুটি সামনে আসে গত তেসরা জানুয়ারি, যখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিসিআই আইপিএল ২০২৬ স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়তে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয়। সে সময় এর কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, যদিও ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল।

এর পরদিন, চৌঠা জানুয়ারি, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না। পরবর্তী আলোচনাগুলোতেও এই অবস্থান অপরিবর্তিত থাকে।

তবে, আইসিসি মোস্তাফিজুর রহমানের বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য কারণ হিসেবে মানেনি।

সংস্থাটির বক্তব্য, একটি একক ও বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে বিসিবি। আইসিসির মতে, কোনো খেলোয়াড়ের ঘরোয়া লিগে খেলার বিষয়টির সঙ্গে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা বা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে আইসিসির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়ে দেন, ভারতে টি– টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা আইসিসি থেকে সুবিচার পাইনি। আমরা আশা করবো, আইসিসি আমাদের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে শ্রীলঙ্কায় খেলার আবেদন মেনে নেবে"।

অন্যদিকে, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে তারা গর্ববোধ করলেও আইসিসির ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

"বিশ্ব ক্রিকেটে জনপ্রিয়তা যখন কমছে, তখন প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশকে এভাবে উপেক্ষা করা হতাশাজনক," বলেন তিনি।
এর আগে অন্য দলের ক্ষেত্রে কী করেছে আইসিসি

এর আগে ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে খেলতে শ্রীলঙ্কায় যায়নি অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারত এবং পাকিস্তানের সাথে শ্রীলঙ্কাও ঐ টুর্নামেন্টের যৌথ আয়োজক ছিল। কিন্তু কলকাতায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরপরই অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তার ভয়ে তারা শ্রীলঙ্কায় দল পাঠাবে না।

অন্যদিকে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে জিম্বাবুয়েতে খেলতে যায়নি ইংল্যান্ড আর কেনিয়ায় যায়নি নিউজিল্যান্ড।

ওই সব ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ওয়াকওভার বা জয়ের পয়েন্ট দিয়েছিল আইসিসি।

সবক্ষেত্রেই অনুপস্থিত দলের প্রতিপক্ষ ম্যাচে ওয়াকওভার বা পয়েন্ট পেয়েছে।

আর ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ে সরে যাওয়ায় স্কটল্যান্ডকে সেবার টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করেছিল আইসিসি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন