শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০:২৬, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৭, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে দায়িত্ব দিয়েছেন এবং একটি নতুন নিরাপত্তা বাহিনী পরিচালনার জন্য একজন মার্কিন কর্মকর্তাকে নিয়োগ করেছেন।
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিতর্কিত রূপরেখা বাস্তবায়নের লক্ষে ট্রাম্প একটি তদারকি বোর্ড গঠন করেছেন, যেখানে আমেরিকানদের প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে, খবর ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোর ডট কম-এর।
গাজা শাসনের জন্য গঠিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির প্রথম বৈঠক কায়রোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। উক্ত বৈঠকে ট্রাম্পের জামাতা এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাম্প ইতিপূর্বে নিজেকে "বোর্ড অফ পিস"-এর চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন এবং শুক্রবার এর পূর্ণাঙ্গ সদস্য তালিকা প্রকাশ করেছেন। এই বোর্ডে টনি ব্লেয়ার ছাড়াও রয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও জ্যেষ্ঠ মার্কিনীরা— জ্যারেড কুশনার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রাম্পের ব্যবসায়িক অংশীদার থেকে নেগোশিয়েটর বনে যাওয়া স্টিভ উইটকফ।
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের ভূমিকার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে টনি ব্লেয়ার একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। ট্রাম্প নিজেই গত বছর বলেছিলেন যে, তিনি নিশ্চিত করতে চান যেন ব্লেয়ার "সবার কাছে গ্রহণযোগ্য পছন্দ" হন। উল্লেখ্য যে, ২০০৭ সালে ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ার পর ব্লেয়ার জাতিসংঘ, ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার সমন্বয়ে গঠিত "মিডল ইস্ট কোয়ার্টেট"-এর প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ সময় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে কাজ করেছেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই 'বোর্ড অফ পিস' গাজার শাসন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সম্পর্ক, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বড় ধরনের মূলধন সংগ্রহের মতো বিষয়গুলো তদারকি করবে।
আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প এর আগে বিধ্বস্ত গাজাকে 'রিভিয়েরা-স্টাইলের' রিসোর্ট এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে তিনি জনসংখ্যাকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার আহ্বান থেকে সরে এসেছেন।
বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ (ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্যবসায়ী), মার্কিন ধনকুবের মার্ক রোওয়ান এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে দায়িত্বরত ট্রাম্পের বিশ্বস্ত সহকারী রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।
ইসরায়েলি হামলা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুক্রবার জানিয়েছে, অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি "লঙ্ঘন" করার প্রতিক্রিয়ায় তারা গাজা উপত্যকায় পুনরায় হামলা চালিয়েছে।
ওয়াশিংটন গাজা পরিকল্পনার 'দ্বিতীয় পর্যায়ে' (যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা থেকে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ) প্রবেশের ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও এই নতুন হামলার ঘটনা ঘটল। উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পরই ইসরায়েলি বাহিনী এই বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করেছিল।
শুক্রবার ট্রাম্প মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্সকে 'ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স'-এর প্রধান হিসেবে মনোনীত করেছেন। এই বাহিনীর কাজ হবে গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামাসের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য একটি নতুন পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের স্পেশাল অপারেশনস থেকে আসা জেফার্স ২০২৪ সালের শেষের দিকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। যদিও সেখানে হিজবুল্লাহ জঙ্গিদের লক্ষ্য করে ইসরায়েল এখনও মাঝেমধ্যে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এই নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণ চাইছে, যেখানে ইন্দোনেশিয়া প্রথম দিকেই স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছে। তবে কূটনীতিকরা মনে করছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য দেশগুলোর সেনা পাঠাতে দ্বিধা থাকবে।
কমিটির কার্যক্রম শুরু
গাজায় জন্মগ্রহণকারী এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলি শাথকে শাসন কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কায়রোতে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বুলগেরিয়ান কূটনীতিক নিকোলে ম্লাদানোভও উপস্থিত ছিলেন। তাকে নতুন এই শাসক সংস্থা এবং ট্রাম্পের 'বোর্ড অফ পিস'-এর মধ্যে লিয়াজোঁ বা সমন্বয়কারী হিসেবে 'উচ্চ প্রতিনিধি'র (High Representative) ভূমিকা দেওয়া হয়েছে।
কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপি-কে জানান, শনিবার তারা পুনরায় বৈঠকে বসবেন। তিনি বলেন, "আমরা আগামী সপ্তাহে বা তার পরের সপ্তাহে গাজায় যাওয়ার আশা করছি; আমাদের মূল কাজ সেখানেই, এবং আমাদের সেখানে থাকা প্রয়োজন।"
দ্বিতীয় 'নির্বাহী বোর্ড' গঠন
ট্রাম্প একটি দ্বিতীয় "নির্বাহী বোর্ড" (Executive Board) গঠন করেছেন, যা মূলত পরামর্শক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে হচ্ছে। এই বোর্ডে ব্লেয়ার, উইটকফ এবং ম্লাদানোভের পাশাপাশি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও থাকবেন।
যদিও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ইসরায়েল-বিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে ইসরায়েল নিরাপত্তা বাহিনীতে তুরস্কের কোনো ভূমিকা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এই বোর্ডে মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর ও কাতার এবং ২০২০ সালে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরাও থাকবেন। এছাড়া, ট্রাম্প এই বোর্ডে গাজার জন্য জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়কারী সিগ্রিড কাগকেও রেখেছেন, যদিও ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে চলার চেষ্টা করে আসছে।