ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

গ্রিনল্যান্ড ও শুল্ক আরোপ

ট্রাম্পের পদক্ষেপের পর স্থিতিশীলতা চায় ইউরোপ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯:১২, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

ট্রাম্পের পদক্ষেপের পর স্থিতিশীলতা চায় ইউরোপ

প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।

গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ এবং নতুন শুল্ক আরোপের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পিছু হটার সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে তারা এই স্বস্তি প্রকাশের পাশাপাশি ইউরোপীয় স্বার্থ রক্ষায় সতর্কতা এবং ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন।

দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্প যখন ঘোষণা করেন যে তিনি শুল্কের হুমকি স্থগিত করছেন এবং ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে শক্তি প্রয়োগ করবেন না, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়, খবর রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনালের।  

ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সাথে একটি চুক্তি হয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রকে আর্কটিক এই দ্বীপে 'পূর্ণ প্রবেশাধিকার' দেবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেয়েন ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন সম্পর্কে বলেন যে, ইউরোপ কঠোর অবস্থানে ছিল বলেই তারা সফল হয়েছে। তবে ইইউ কর্মকর্তা ও নেতারা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই হুমকিগুলো অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইউরোপের আস্থাকে মারাত্মকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।

ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস মন্তব্য করেছেন যে, গত এক সপ্তাহে ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্ক নিশ্চিতভাবেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ পরিস্থিতি শান্ত হওয়াকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করে বলেছেন যে, আবারও হুমকির লক্ষ্যবস্তু হলে তারা তাদের হাতে থাকা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর ব্যবস্থাগুলো ব্যবহার করতে প্রস্তুত।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেছেন যে, এই অনিশ্চয়তার সময়েও ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক অংশীদারিত্ব রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ইউরোপীয় নেতারা বিশ্বাস করেন।

কস্তাও সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার থাকবে এবং যেকোনো ধরনের বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে জোটের সদস্য রাষ্ট্র, নাগরিক ও কোম্পানিগুলোকে রক্ষা করবে।

ইইউ-মার্কিন সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার জন্য ডাকা এই জরুরি সম্মেলনে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে আন্তোনিও কস্তা বলেন, তাদের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো ২০২৫ সালের জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত ইইউ-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা। সাংবাদিকদের তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তাদের মূল লক্ষ্য হলো এই বাণিজ্য সম্পর্কের কার্যকর স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তার হুমকি তুলে নেওয়ায় ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা এখন এই বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদনের কাজ পুনরায় শুরু করতে পারেন।
গ্রিনল্যান্ডের জন্য বাড়তি সমর্থন

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন স্বীকার করেছেন যে, ইউরোপ আর্কটিক অঞ্চল এবং এর নিরাপত্তার জন্য খুব সামান্যই বিনিয়োগ করেছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, কমিশন ২০২৮ সাল থেকে পরবর্তী বাজেটে গ্রিনল্যান্ডের জন্য আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করতে চায় এবং শীঘ্রই বিনিয়োগের একটি বিস্তারিত প্যাকেজ প্রস্তাব করবে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বকে সম্পূর্ণ সম্মান জানানো হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তিনি গ্রিনল্যান্ডসহ আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর স্থায়ী উপস্থিতির আহ্বান জানান। অন্যদিকে, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপের কথা না জানালেও বলেছেন যে, পশ্চিমা মিত্ররা এই অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন