শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩:০৩, ১৬ মার্চ ২০২৬
ইরানের শাহেদ ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত।
সস্তা অথচ প্রাণঘাতী ইরানি নকশার শাহেদ ড্রোন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এগুলোতে জ্যামিং-প্রতিরোধী ব্যবস্থাসহ এমন কিছু সক্ষমতা রয়েছে যা এদের থামানো কঠিন করে তুলেছে, খবর রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনালের।
জ্যামিং-প্রতিরোধী কৌশল
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য শাহেদ-স্টাইলের ড্রোন তৈরি করছে। মার্কিন ভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি ২০২৩ সালে লক্ষ্য করেছে যে, এই ড্রোনগুলোতে অত্যাধুনিক 'অ্যান্টেনা ইন্টারফারেন্স সাপ্রেশন' প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি শত্রুপক্ষের জ্যামিং সিগন্যালকে সরিয়ে দিয়ে কাঙ্ক্ষিত জিপিএস সিগন্যাল সচল রাখতে সাহায্য করে।
ইউরোপীয় শিল্প সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের শুরুর দিকে সাইপ্রাসে আঘাত হানা একটি ইরানি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে জ্যামিং-প্রতিরোধী এই মেকানিজম পাওয়া গেছে।
টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক টড হামফ্রেস এএফপি-কে বলেন, "তারা সাধারণ বাজারজাত যন্ত্রাংশ দিয়েই শাহেদ তৈরি করেছে, কিন্তু এতে মার্কিন সামরিক জিপিএস সরঞ্জামের মতো অনেক সক্ষমতা রয়েছে।"
বর্তমানে এগুলো থেকে রক্ষা পেতে অত্যন্ত পরিশীলিত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইগনাট বলেন, "শাহেদ ড্রোনগুলোকে আরও উন্নত বা আপগ্রেড করা হয়েছে।"
স্টিলথ বা রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা
২০২৩ সালের একটি রুসি (RUSI) পেপার অনুযায়ী, শাহেদ ড্রোন তৈরিতে প্লাস্টিক এবং ফাইবারগ্লাসের মতো ওজনে হালকা ও রাডার-তরঙ্গ শোষণকারী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এদের ছোট আকৃতি এবং অত্যন্ত নিচু দিয়ে ওড়ার ক্ষমতা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সাহায্য করে।
অন্যান্য পজিশনিং সিস্টেম?
এসব ড্রোনের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য আরও বিকল্প ব্যবস্থা থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান একাধিক পজিশনিং সিস্টেম বা অবস্থান নির্ণয় পদ্ধতি ব্যবহার করছে, যার ফলে তাদের ড্রোনগুলোর জন্য জ্যামিং এড়ানো সহজ হয়ে যাচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রযুক্তি উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্টনভ জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে চীনের তৈরি 'বেইদু' (BeiDou) সিস্টেম ব্যবহার করছে, যা মূলত মার্কিন জিপিএস (GPS)-এর একটি প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবস্থা। তিনি আরও জানান, রাশিয়ার তৈরি শাহেদ ড্রোনগুলোতে বেইদু এবং রাশিয়ার নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম 'গ্লোনাস' (GLONASS)—উভয়ই ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ করছেন যে, ইরান হয়তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উদ্ভাবিত রেডিও নেভিগেশন সিস্টেম 'লোরান' (LORAN) ব্যবহার করছে। এই লোরান সিস্টেমের জন্য স্যাটেলাইটের প্রয়োজন হয় না। জিপিএস প্রযুক্তির উত্থানের পর এর ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
তবে ২০১৬ সালে ইরান জানিয়েছিল যে তারা এই প্রযুক্তিটি পুনরায় সচল করছে। এই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য বিশালাকার ভূ-ভিত্তিক ট্রান্সমিটারের নেটওয়ার্ক প্রয়োজন হয়। যদিও বিশেষজ্ঞরা এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি যে এই প্রযুক্তিটি বর্তমানে সক্রিয় আছে কি না।
প্রতিরোধ কৌশল
সামরিক বাহিনীগুলো সাধারণত কামান, মিসাইল এবং ইন্টারসেপ্টর ড্রোন দিয়ে শাহেদগুলোকে গুলি করে নামানোর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল বর্তমানে লেজার প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে।
তবে ইউক্রেন যেমনটা দেখিয়েছে, জ্যামিং প্রযুক্তিও বেশ কার্যকর হতে পারে। এছাড়া "স্পুফিং" (spoofing) পদ্ধতির মাধ্যমে ড্রোনের নেভিগেশন সিস্টেম হ্যাক করে এর গন্তব্য বদলে দেওয়াও সম্ভব।