শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০:১৪, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবি: সংগৃহীত।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক সফরে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের মতে, চলতি বছরে এটি তার দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির বিমানবন্দরে শেখ মোহাম্মদকে স্বাগত জানান। জানুয়ারি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই নেতা ব্যক্তিগত সফরে পাকিস্তানে এলেও, প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেখ মোহাম্মদ এবং শাহবাজ শরিফ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করবেন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। কর্মকর্তারা আশা করছেন যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রগুলোতে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে, খবর খেবর ডেইলী টাইমস ও আমু টিভি’র।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আরও জোরদার করা, যারা আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই সফর উপলক্ষে পাকিস্তানের রাজধানীতে সরকারি ছুটি পালন করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ১৭ থেকে ১৯ লক্ষ পাকিস্তানি বসবাস ও কর্মরত রয়েছেন, যা ভারতীয়দের পর দেশটিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রবাসী জনগোষ্ঠী। পাকিস্তানিরা মূলত নির্মাণ, বাণিজ্য, সেবা, ব্যাংকিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিয়োজিত। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স পাকিস্তানের বৈদেশিক আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।
পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং বিনিয়োগ প্রকল্পে নিবিড়ভাবে সহযোগিতা করে থাকে এবং আবু ধাবি অতীতেও পাকিস্তানকে আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। গত এপ্রিলে উভয় দেশ সংস্কৃতি, কনস্যুলার বিষয়ক এবং একটি বাণিজ্য কাউন্সিল গঠনের লক্ষ্যে তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল।
এই আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উভয় পক্ষ অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন পথ খোঁজার বিষয়েও আলোচনা করতে পারে।
সফর উপলক্ষে ইসলামাবাদ জেলা প্রশাসন ফেডারেল রাজধানীতে স্থানীয় সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, ২৬ ডিসেম্বর ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরির রাজস্ব সীমার মধ্যে ছুটি থাকবে। ইসলামাবাদের ডেপুটি কমিশনার ইরফান নওয়াজ মেমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ স্পষ্ট করেছেন যে, হাসপাতাল, পুলিশ, প্রশাসন, সিডিএ এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহকারী পরিষেবার মতো জরুরি সেবাগুলো চালু থাকবে।
পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে, যার মূলে রয়েছে ঐতিহাসিক যোগসূত্র এবং আমিরাতে থাকা বিশাল প্রবাসী পাকিস্তানি সম্প্রদায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের একটি প্রধান উৎস।
চলতি বছরের শুরুর দিকে উভয় দেশ সংস্কৃতি, কনস্যুলার বিষয়ক সহযোগিতা এবং একটি যৌথ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের লক্ষ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, যা তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার ইচ্ছাকেই প্রমাণ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ মোহাম্মদের পররাষ্ট্রনীতিতে নিরাপত্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তারা মনে করছেন, পাকিস্তান যদি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে, তবে এই সফর সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির পথ সুগম করবে।
সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকলেও, কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে ইসলামাবাদ এবং আবুধাবির মধ্যে এই ধরনের কোনো চুক্তির ইঙ্গিত নেই। বর্তমানে পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা মূলত প্রশিক্ষণ, যৌথ সামরিক মহড়া এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর আলোকপাত করে।
উভয় দেশ নিয়মিত যৌথ মহড়া ও সন্ত্রাসবিরোধী মহড়া আয়োজন করে থাকে। এছাড়া, চলতি বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তান সংযুক্ত আরব আমিরাতের নৌবাহিনী প্রধানকে দেশটির একটি শীর্ষ সামরিক সম্মাননায় ভূষিত করেছে।