ঢাকা, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

২২ ফাল্গুন ১৪৩২, ১৭ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
গণমাধ্যম শিল্প বাঁচাতে সাংবাদিকদের সম্মানজনক ওয়েজবোর্ড জরুরি: তথ্যমন্ত্রী
Scroll
চীনকে দোলাচলে ফেলছে ইরান যুদ্ধ
Scroll
যানবাহনভিত্তিক জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং করেছে সরকার
Scroll
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
Scroll
র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ: নেপালের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বালেন্দ্র শাহ
Scroll
বিএনপি সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
Scroll
দিনাজপুর সীমান্তে তেল পাচার রোধে বিজিবি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
Scroll
লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ১৬৫ জন বাংলাদেশি
Scroll
নীরবতা শব্দের অনুপস্থিতি নয়, এটি বরং গভীর অর্থবহ বিষয়: মনোবিজ্ঞানী লরেন্স জোসেফ
Scroll
পাটপণ্যকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়ে নতুন সম্ভাবনা ও সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগান: রাষ্ট্রপতি
Scroll
সাফল্যে দেখাচ্ছে ‘ই-বেইলবন্ড’, আরও ৭ জেলায় চালুর উদ্যোগ
Scroll
ইউরোপের বনাঞ্চল ঝুঁকির মুখে, সতর্ক বার্তা বিজ্ঞানীদের
Scroll
পত্রিকা: ’রেশনিং করে জ্বালানি সংকট মোকাবেলার লক্ষ্য সরকারের’
Scroll
যুদ্ধের প্রভাব: বাংলাদেশে জ্বালানি, রেমিটেন্স, খাদ্যপণ্যের বাজার নিয়ে শঙ্কা
Scroll
‘ডুমসডে’ পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল যুক্তরাষ্ট্র
Scroll
ইরান আর আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডার কি কমে আসছে?
Scroll
অতিরিক্ত ভাড়া নিলে ব্যবস্থা, নিরাপদ ঈদযাত্রায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের
Scroll
ইরান ও উপসাগরজুড়ে নতুন হামলা, আরও বিস্তৃত হচ্ছে যুদ্ধ
Scroll
স্বাস্থ্যখাতে ধাপে ধাপে এক লাখ জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
Scroll
জাকজমকপূর্ণ ইফতার মাহফিল এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ

নেপালের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বালেন্দ্র শাহ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০:১৩, ৬ মার্চ ২০২৬

নেপালের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বালেন্দ্র শাহ

বালেন্দ্র শাহ, নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত।

গত সেপ্টেম্বরে নেপালের ঐতিহাসিক যুব-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে ৭৭ জন নিহত হওয়ার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর ৩৫ বছর বয়সী র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া বালেন্দ্র শাহ—যিনি 'বালেন' নামেই বেশি পরিচিত—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার লক্ষ লক্ষ অনুসারীদের উদ্দেশ্যে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা দেন।

তিনি লিখেছিলেন, "প্রিয় জেন-জি (Gen Z), তোমাদের হত্যাকারীর পদত্যাগ এসেছে। এখন তোমাদের প্রজন্মকেই দেশ পরিচালনা করতে হবে। প্রস্তুত থাক," খবর কাঠমান্ডু পোস্টের।

পাঁচ মাস পর, ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া এই সংগীতশিল্পী এখন নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে রয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরের অভ্যুত্থানের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম নির্বাচন।

শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, শাহর রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) প্রায় ১০০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যা তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক বেশি। ১৬৫টি সরাসরি ভোট এবং ১১০টি সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের আসনের চূড়ান্ত ফলাফল আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রত্যাশিত।

বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নেপালি কংগ্রেস ইতিমধ্যেই পরাজয় মেনে নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আরএসপির এই বিশাল ব্যবধানের অর্থ হলো তারাই পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ বিপিন অধিকারী বলেন, "বালেন শাহ এতটাই জনপ্রিয় যে এখন কাঠমান্ডু অভিমুখী বাসগুলোতে স্টিকার লাগানো থাকে—'বালেনের শহরের দিকে যাত্রা'।"

শাহ যদি ক্ষমতায় বসতে পারেন, তবে এটি হবে এমন এক ব্যক্তির নাটকীয় উত্থান যিনি মূলত এস্টাবলিশমেন্ট-বিরোধী র‍্যাপ সংগীতের মাধ্যমে জনসমক্ষে এসেছিলেন এবং নিজের সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে উচ্চ রাজনৈতিক পদে আসীন হচ্ছেন। এটি ভারত ও চীনের মাঝখানে অবস্থিত হিমালয় কন্যা নেপালের রাজনীতিকেও বদলে দিতে পারে, যা দীর্ঘদিন ধরে মুষ্টিমেয় কিছু প্রতিষ্ঠিত দলের দখলে ছিল।

'সহজ পথ নয়'

শাহর দেশব্যাপী এই জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে তার কাজ। সেখানে তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা উন্নত করার ওপর জোর দিয়েছিলেন।

তবে তিনি সমালোচনারও সম্মুখীন হয়েছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ অনেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন যে, তিনি পুলিশ ব্যবহার করে হকার ও ভূমিহীন মানুষের সম্পদ দখল করেছেন।

সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জানুয়ারিতে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করা শাহ রয়টার্সের সাক্ষাৎকারের অনুরোধ বা ইমেইল বার্তার কোনো জবাব দেননি। নেপালের প্রবীণ রাজনৈতিক অভিজাতদের মতো না হয়ে, শাহ সাধারণত মূলধারার সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করেন।

ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে ৩.৫ মিলিয়নেরও বেশি অনুসারী নিয়ে তার ব্যাপক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপস্থিতি তাকে সরাসরি নেপালি তরুণদের সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করে।

স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বিশ্লেষক পুরঞ্জন আচার্য বলেন, "বালেনকে যা অনন্য করে তুলেছে তা হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছোট ছোট বার্তার মাধ্যমে তরুণদের সাথে তার নিবিড় যোগাযোগ। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার পথ চলা অতটা সহজ হবে না।"

‘আমাকে বলতে দিন’

একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বাবা এবং গৃহিণী মায়ের সন্তান শাহর ছোটবেলা থেকেই কবিতার প্রতি ঝোঁক ছিল। তার একজন সহকারীর মতে, টুপাক শাকুর এবং কার্টিস "৫০ সেন্ট" জ্যাকসনের মতো মার্কিন শিল্পীদের প্রভাবে পরবর্তীতে তার সেই ঝোঁক র‍্যাপ সংগীতের প্রতি ভালোবাসায় রূপ নেয়।

নেপাল থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর, শাহ দক্ষিণ ভারতে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর পড়তে যান। ততদিনে তিনি নিজের দেশে একজন র‍্যাপ তারকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

নেপালের ৩০ মিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে। দেশটির শাসক শ্রেণির সমালোচনা করে লেখা তার গানগুলো সাধারণ মানুষের মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে।

২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া শাহর অন্যতম জনপ্রিয় গান "বলিদান" (নেপালি ভাষায় যার অর্থ উৎসর্গ) ইউটিউবে ১২ মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা হয়েছে।

গানটির কথাগুলো ছিল এমন:

"আমাকে বলতে দিন স্যার, এটি কোনো অপরাধ নয়,
আমাকে মন খুলতে দিন, আমি রাজপ্রাসাদের জন্য কোনো অভিশাপ নই,
আমার মন খারাপ নয়, সত্য বলতে এটি ভয় পায় না।"

‘উই পোকা ধরা কাঠ’

গত ডিসেম্বরে শাহ প্রাক্তন টিভি সঞ্চালক থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া রবি লামিছানের নেতৃত্বাধীন আরএসপি-তে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে যোগ দেন।

তাদের ইশতেহারে শাহর দল আরএসপি ১২ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাধ্যতামূলক অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বেকারত্ব এবং স্বল্প মজুরির কারণে লক্ষ লক্ষ নেপালি কর্মসংস্থানের খোঁজে বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছে—ইশতেহারে মূলত সেই ক্ষোভকেই পুঁজি করা হয়েছে।

দলটি আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নেপালের মাথাপিছু আয় ১,৪৪৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ ডলারে উন্নীত করবে, দেশের অর্থনীতিকে দ্বিগুণ করে ১০০ বিলিয়ন জিডিপিতে নিয়ে যাবে এবং পুরো জনসংখ্যার জন্য স্বাস্থ্যবিমার মতো সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

জাতীয় পর্যায়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শাহ যদি নির্বাচিত হন, তবে তার সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে তিনি তার চারপাশে কেমন দক্ষ লোক রাখছেন তার ওপর। দুর্নীতিতে জর্জরিত একটি স্থবির প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়াই হবে তার মূল চ্যালেঞ্জ।

আচার্য বলেন, "এর জন্য একটি দল, বিশেষজ্ঞ এবং সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অধীনে তিনি যদি কাজ করতে না পারেন, তবে উই পোকা ধরা কাঠের মতো তার অবস্থাও শেষ হয়ে যাবে।"

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন