শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:৫১, ৩ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫২, ৩ মার্চ ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইর হত্যাকাণ্ডের পর পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ বিক্ষোভের জেরে দেশটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় খামেনেই নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি শহরে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে এবং শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চলে তিন দিনের কারফিউ জারি করেছে, খবর ডিডাব্লিউ-এর।
দেশজুড়ে এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
গিলগিত-বালতিস্তানের পরিস্থিতি
উত্তরাঞ্চলীয় গিলগিত-বালতিস্তান অঞ্চলের স্কার্দু শহরে হাজার হাজার শিয়া বিক্ষোভকারী জাতিসংঘ (UN) কার্যালয়ে হামলা চালায়। অন্যদিকে, গিলগিত শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি থানায় আগুন ধরিয়ে দেয় এবং একটি স্কুল ভাঙচুর করে। পুলিশ জানিয়েছে, শুধুমাত্র এই অঞ্চলেই অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৮০ জন আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, কাশ্মীর সীমান্তের যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণকারী স্কার্দুর জাতিসংঘ সামরিক পর্যবেক্ষক দলটির ফিল্ড স্টেশন বিক্ষোভকারীদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত জাতিসংঘ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
করাচি ও অন্যান্য শহরের অবস্থা
বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে দক্ষিণের বন্দর নগরী করাচি পর্যন্ত। সেখানে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা চালিয়ে জানালা ভাঙচুর করে এবং ভবনে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে করাচিতে ১০ জন নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত হন। এছাড়া রাজধানী ইসলামাবাদে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
প্যারাচিনার, ডেরা ইসমাইল খান এবং পেশোয়ারেও হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ জানালেও সেখানে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
জনসংখ্যার পরিসংখ্যান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ইরানের পর পাকিস্তান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া সম্প্রদায়ের দেশ। যদিও পুরো পাকিস্তানে শিয়ারা সংখ্যালঘু, তবে গিলগিত-বালতিস্তানের মতো উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ সারাদেশে মার্কিন ও ব্রিটিশ কূটনৈতিক মিশনগুলোর চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। করাচি, লাহোর এবং ইসলামাবাদে কনস্যুলেট ও দূতাবাসের দিকে যাওয়ার রাস্তাগুলো পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
আফগানিস্তানের সাথে সীমান্ত সংঘর্ষের উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানে এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা শুরু হলো। গত বৃহস্পতিবার থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।