ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১৪ ফাল্গুন ১৪৩২, ০৯ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
Scroll
এবার ঈদে কতদিনের ছুটি পাবেন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা?
Scroll
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সরানো ও নিয়োগ নিয়ে এত আলোচনা কেন?
Scroll
সাতক্ষীরায় জেলি পুশকৃত ১৬৪ কেজি বাগদা চিংড়ি জব্দ
Scroll
উদ্বোধনের আগেই সড়ক ধস, গাজীপুরে দুদকের অভিযান
Scroll
শিগগিরই পুলিশে নতুন ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Scroll
নেপালে নির্বাচন: প্রধান দলের নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যটন খাতের বিশেষ গুরুত্ব
Scroll
ফরাসি ওয়াইনে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ইইউ
Scroll
১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত: মন্ত্রিপরিষদ সচিব
Scroll
জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন
Scroll
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিশ্চয়ই একদিন বিশ্বজগতে আলো ছড়াবে: প্রধানমন্ত্রী
Scroll
টিউলিপকে গ্রেফতারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ
Scroll
ব্যান্ড দল ও ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে একুশে পদক প্রদান প্রধানমন্ত্রীর
Scroll
কক্সবাজারে নবনির্মিত গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ১৫
Scroll
এই সংকটে এবং তার পরেও ভারত দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে আছে: নরেন্দ্র মোদি
Scroll
ড্রাগ কার্টেলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মেক্সিকোর কুলিয়াকান শহর এখন রণক্ষেত্র
Scroll
পাসপোর্টের ’দালাল’ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তে সমালোচনা কেন
Scroll
পত্রিকা: ’বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবাদ, মব; গভর্নরের বিদায়’
Scroll
বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ, সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন অনিশ্চয়তায়
Scroll
বৃহষ্পতিবার অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ইস্রায়েলের পার্লামেন্টে মোদি বললেন

’এই সংকটে এবং তার পরেও ভারত দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে আছে’

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০:৫১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

’এই সংকটে এবং তার পরেও ভারত দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে আছে’

ছবি: সংগৃহীত।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইসরায়েলের পার্লামেন্ট 'নেসেট'-এ দেওয়া এক ভাষণে দুই দেশের বন্ধুত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, বর্তমানের এই কঠিন সময়ে এবং ভবিষ্যতের প্রতিটি পদক্ষেপে ভারত অবিচলভাবে ইসরায়েলের পাশে থাকবে। এই বক্তব্য কেবল একটি কূটনৈতিক বিবৃতি নয়, বরং এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের এক বলিষ্ঠ প্রতিফলন।
বন্ধুত্বের এক নতুন মাত্রা

ভরতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফরকে টাইমস অফ ইসরায়েল 'ঐতিহাসিক' বলে অভিহিত করেছে। নেসেটের মঞ্চ থেকে তিনি যখন হিব্রু ভাষায় তাঁর বক্তব্য শুরু করেন, তখন পুরো হলরুম করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, "ভারত ও ইসরায়েল কেবল দুটি রাষ্ট্র নয়, বরং দুটি প্রাচীন সভ্যতা যারা আধুনিক বিশ্বে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে," খবর টাইমস অফ ইস্রায়েলের। 

মোদীর ভাষণে উঠে আসে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিন্ন সংকল্প। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত এবং ইসরায়েল উভয় দেশই দীর্ঘকাল ধরে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের শিকার। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, "সন্ত্রাসবাদ কোনো সীমানা মানে না এবং এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনো আপস হতে পারে না।" ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের এই স্পষ্ট অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
'এই মুহূর্ত এবং তার পরেও'

মোদীর বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল—"In this moment and beyond"। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বা যেকোনো ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভারতের সমর্থন কেবল সাময়িক নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত প্রতিশ্রুতি।

তিনি বলেন, "ইসরায়েলের মানুষের সাহস ও সহনশীলতা সারা বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণা। যখনই ইসরায়েল কোনো বিপদের সম্মুখীন হয়েছে, ভারত তার বন্ধু হিসেবে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে।" এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভারতের পূর্ববর্তী মধ্যপন্থা বা দ্বিধা কাটিয়ে ইসরায়েলের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের জানান দিলেন।
অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা

ভাষণে কেবল নিরাপত্তার কথা নয়, বরং উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের বিষয়গুলোও প্রাধান্য পেয়েছে। মোদী উল্লেখ করেন যে:

 কৃষি ও জল ব্যবস্থাপনা: ইসরায়েলের উন্নত প্রযুক্তি ভারতের কৃষি খাতে বিপ্লব আনতে পারে।

 প্রতিরক্ষা: দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখন কেবল ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি যৌথ উৎপাদন ও গবেষণার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

 আইটি ও স্টার্টআপ: বেঙ্গালুরু এবং তেল আবিবের মধ্যে যে প্রযুক্তিগত সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে, তা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভারতের ভূমিকা

টাইমস অফ ইসরায়েল তাদের প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করেছে যে, ভারতের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন। মোদী স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত যেমন ফিলিস্তিন সংকটের একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তেমনি ইসরায়েলের অস্তিত্ব এবং তার নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। ভারতের এই 'ডি-হাইফেনেশন' নীতি (দুই দেশের সাথে সম্পর্ককে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়া) এখন অনেক বেশি ইসরায়েল-মুখী বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর এবং নেসেটে দেওয়া ভাষণটি প্রমাণ করে যে, ভারত এখন বৈশ্বিক রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সম্পর্কে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মোদীর এই সফরকে "ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য নিদর্শন" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নেসেটের অধিবেশন শেষে দেখা যায় এক আবেগঘন পরিবেশ, যেখানে দুই দেশের নেতারাই একে অপরকে আলিঙ্গন করে বন্ধুত্বের বার্তা দেন। টাইমস অফ ইসরায়েলের মতে, মোদীর এই বার্তা কেবল ইসরায়েলি সরকারের জন্য নয়, বরং প্রতিটি ইসরায়েলি নাগরিকের জন্য এক বিশাল আশার আলো, যা নিশ্চিত করে যে প্রতিকূল সময়ে ভারত তাদের একা ছাড়বে না।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন