শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮:১৭, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
ফ্রান্সের সংকটাপন্ন ওয়াইন শিল্পকে সহায়তা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) নতুন করে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত ওয়াইনের চাহিদা হ্রাস, পরিবর্তনশীল রুচি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে সৃষ্ট বাণিজ্যিক চাপের মুখে নীতিনির্ধারকরা এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃষি প্রধান ক্রিস্টোফ হ্যানসেন জানিয়েছেন, ফরাসি ওয়াইন উৎপাদনকারীদের সহায়তার জন্য ইইউ ৪০ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করবে। প্যারিসে বার্ষিক কৃষি মেলার আগে তিনি এই আশাব্যঞ্জক ঘোষণা দেন, খবর রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনালের।
২৭টি দেশের এই ব্লকের কৃষকরা বর্তমানে পশুপাখির রোগ, বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং পণ্যের ক্রমাগত কম দামের মতো বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। হ্যানসেন এই চাপের কথা স্বীকার করে একটি সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "বিভিন্ন কারণে এই খাতটি চাপের মধ্যে রয়েছে।" কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়টি বুঝতে পারলেও তিনি যোগ করেন যে, "রাগ কোনো সমাধান নয়।"
ফরাসি ওয়াইন শিল্পের জন্য এই তহবিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আসছে, কারণ শিল্পটি বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
উদ্বৃত্ত কমিয়ে স্থিতিশীলতা আনয়ন
ইইউ-এর এই হস্তক্ষেপের একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে অবিক্রিত ওয়াইনের মজুদ কমানোর কাজে, যা বর্তমানে বাজার দর কমিয়ে দিচ্ছে। হ্যানসেন জানান, অতিরিক্ত ওয়াইন পাতন (distillation) করে শিল্পে ব্যবহারযোগ্য ইথানলে রূপান্তর করতে এই জরুরি তহবিল ব্যবহার করা হবে। এটি মূলত বাজারে যোগান ও চাহিদার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। তিনি ব্যাখ্যা করেন, "এর ফলে বাজারের অতিরিক্ত পণ্য কমবে এবং দাম স্থিতিশীল হবে।"
এই পদক্ষেপটি মূলত ভোক্তাদের রুচির পরিবর্তনের প্রতিফলন। বর্তমানে তরুণ প্রজন্ম অ্যালকোহল পানের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার দিকে ঝুঁকছে। পাশাপাশি, ইউরোপীয় উৎপাদকরা ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময় আরোপিত শুল্কের কারণে রপ্তানি বাণিজ্যে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এর প্রভাব বেশ স্পষ্ট: গত বছর ফ্রান্সের ওয়াইন ও স্পিরিট রপ্তানির মূল্য প্রায় আট শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ব্রাসেলসের এই সহায়তা ফ্রান্সের জাতীয় প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে। ইতিমধ্যেই ফ্রান্স ১৩০ মিলিয়ন ইউরোর একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার আওতায় অলাভজনক আঙুর বাগানগুলো উপড়ে ফেলে উৎপাদনকে চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য চাষিদের ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন চলতি সপ্তাহে লেবেলিং বা মোড়কীকরণের নিয়ম সহজ করাসহ আরও কিছু অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নতুন পরিভাষা অনুযায়ী, এখন থেকে "অ্যালকোহল-লাইট" (alcohol-light) এর পরিবর্তে "রিডিউসড-অ্যালকোহল" (reduced-alcohol) শব্দটি ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে, যেসব পানীয়তে অ্যালকোহলের পরিমাণ ০.৫ শতাংশের কম, সেগুলোকে "অ্যালকোহল-মুক্ত" (alcohol-free) হিসেবে লেবেল করা হবে।
হ্যানসেন উল্লেখ করেন যে, "ভোক্তাদের আচরণ পরিবর্তিত হয়েছে এবং এই নতুন চাহিদার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এই খাতের পরিবর্তন প্রয়োজন।"
বাণিজ্যের সম্ভাবনা ও উত্তেজনা
রপ্তানির সুযোগের কথা তুলে ধরে হ্যানসেন ইউরোপীয় ওয়াইনের ওপর শুল্ক কমানোর লক্ষ্যে ইইউ-ভারত নতুন বাণিজ্য চুক্তির দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, "সেই বাজারে আমরা অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাজ্যের মতো প্রতিযোগীদের তুলনায় ভালো সুবিধা পাব।"
সস্তা আমদানির ভয়ে কৃষকদের প্রতিবাদ সত্ত্বেও তিনি ইইউ-মেরকোসুর (EU-Mercosur) চুক্তির পক্ষ সমর্থন করেন। তার মতে, কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
চাপ কমাতে ব্রাসেলস এক বছরের জন্য বেশিরভাগ সার আমদানির ওপর শুল্ক স্থগিত করেছে। একই সাথে উৎপাদন খরচ না বাড়িয়ে কীভাবে উৎপাদকদের সহায়তা করা যায়, তার পথ খুঁজছে প্রশাসন।
সবশেষে হ্যানসেন সতর্ক করে বলেন, "এই সমস্যার কোনো জাদুকরী সমাধান বা ধন্বন্তরি ওষুধ নেই।"