শিরোনাম
পিটিআই
প্রকাশ: ২১:৫৯, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বুধবার দুই দিনের সফরে ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। ছবি: সংগৃহীত।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বুধবার দুই দিনের সফরে ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে স্বাগত জানান।
নয় বছরের মধ্যে এটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বিতীয় ইসরায়েল সফর। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তাঁর প্রথম সফরের সময় ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্তরে উন্নীত হয়েছিল।
তেল আবিব থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত বিমানবন্দরে নেতানিয়াহু মোদীকে উষ্ণ আলিঙ্গনে স্বাগত জানান এবং এরপর তাঁকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী দিনের শেষভাগে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ভাষণ দেবেন এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হবেন। বৃহস্পতিবার দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনায় বসবেন।
দেশ ছাড়ার আগে এক বিবৃতিতে মোদী বলেন, তিনি আত্মবিশ্বাসী যে এই সফর ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের জন্য নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করবে।
মোদী বলেন, ভারত ও ইসরায়েল একটি শক্তিশালী এবং বহুমুখী কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশীদার, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ও গতিশীলতা অর্জন করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনার অপেক্ষায় আছি।
মোদী জানান, তিনি এবং নেতানিয়াহু পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়েও মতবিনিময় করবেন।
মোদী বলেন, আমি নিশ্চিত যে আমার এই রাষ্ট্রীয় সফর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে, কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন লক্ষ্য স্থির করবে এবং একটি স্থিতিস্থাপক, উদ্ভাবনী ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, সাইবার নিরাপত্তা এবং উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রগুলোতে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
দুই দেশের অংশীদারিত্বের একটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আবির্ভূত হয়েছে। ইসরায়েল ভারতকে প্রচুর পরিমাণে সামরিক প্ল্যাটফর্ম এবং অস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ করছে।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা
গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি: গত বছরের (২০২৫) নভেম্বরে ভারতের প্রতিরক্ষা সচিবের ইসরায়েল সফরের সময় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো উন্নত প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম যৌথভাবে তৈরি ও উৎপাদন করা।
সুদর্শন চক্র ও আয়রন ডোম: ভারত বর্তমানে 'সুদর্শন চক্র' নামে একটি নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ঢাল তৈরির কাজ করছে। জানা গেছে যে, ক্ষেপণাস্ত্র এবং আর্টিলারি শেল ধ্বংস করতে সক্ষম ইসরায়েলের বিশ্বখ্যাত 'আয়রন ডোম' (Iron Dome) ব্যবস্থার নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত উপাদান এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA): ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের ইসরায়েল সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সংক্রান্ত আলোচনার রূপরেখা বা 'টার্মস অফ রেফারেন্স' (ToR) স্বাক্ষরিত হয়। বর্তমানে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিল্লিতে এই চুক্তির প্রথম ধাপের আলোচনা চলছে।
দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি (BIA): অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুই দেশ একটি দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
জনগণের মধ্যে সম্পর্ক
প্রবাসী ভারতীয়: দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ৪১,০০০-এর বেশি প্রবাসী ভারতীয় এক বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন। এ ছাড়া, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৫,৮০০ জন 'বনী মেনাশে' (Bnei Menashe) সম্প্রদায়কে ২০৩০ সালের মধ্যে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়ার একটি বড় পরিকল্পনাও অনুমোদিত হয়েছে।