শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯:০০, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বুধবার পদত্যাগ করেছেন। ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বুধবার ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় টেলিভিশন সংবাদে নতুন সরকার তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে—এমন খবর দেখার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
ফোনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে মনসুর বলেন, "আমাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে—টিভিতে এমন সংবাদ দেখার পর আমি পদ ছেড়েছি। কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে, যা আমি পরে সম্পন্ন করব," খবর ব্লুমবার্গের।
বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয় এক পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করেছে এবং মোস্তাকুর রহমানকে চার বছরের জন্য নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। মোস্তাকুর রহমান একজন পেশাদার হিসাবরক্ষক এবং করপোরেট ফিন্যান্স খাতে তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
মনসুরের পদত্যাগের সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে এদিন সকালেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরে একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী তার বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচারী’ আচরণের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন এবং তার পদত্যাগ দাবি করেন। বিক্ষোভকারীরা সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই জানান যে, তিনি তাদের ‘ন্যায্য দাবি’ পূরণ করেননি।
টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, মনসুর রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবন ত্যাগ করছেন। তার বিদায়ের খবরের পর বাংলাদেশি টাকার মান ০.১% কমে প্রতি ডলার ১২২.৩০৩৯ টাকায় দাঁড়ায়।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শপথ গ্রহণের পরপরই এই পরিবর্তন এলো।
শেখ হাসিনার পতনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্টে আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ২০২৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত তার দায়িত্ব পালনের কথা ছিল।
মনসুরের দায়িত্বকাল ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতির এক কঠিন সময়, যখন দেশটি উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং পোশাক খাতের সরবরাহ শৃঙ্খল বিপর্যয়ের মোকাবিলা করছিল। তার মূল লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও গ্রহণযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা। তিনি সুদের হার কমানোর চাপ উপেক্ষা করে ডলারের বিপরীতে টাকার মান স্থিতিশীল রাখাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৯% করেন এবং পরবর্তীতে তা ১০%-এ উন্নীত করেছিলেন।