ঢাকা, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, ১১ মুহররম ১৪৪৮

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়ায়

পাকিস্তান আফগানিস্তানের সাথে সীমান্ত খুলে দিয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১:০৮, ১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১১:২১, ১ এপ্রিল ২০২৬

পাকিস্তান আফগানিস্তানের সাথে সীমান্ত খুলে দিয়েছে

প্রতিনিধিত্বশীল ছবি: সংগৃহীত।

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সাথে আফগানিস্তানের পূর্ব নঙ্গরহার প্রদেশকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ তোরখাম সীমান্তটি মঙ্গলবার আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে।

দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর আটকে পড়া আফগান নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরার সুযোগ করে দিতে পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, খবর তুরস্কের ডেইলী সাবাহ’র। 

প্রাদেশিক সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, দুই পক্ষের মধ্যে একটি 'ফ্ল্যাগ মিটিং' বা পতাকা বৈঠকের পরদিন সীমান্তটি খুলে দেওয়া হয়। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে তীব্র সীমান্ত সংঘর্ষ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির কারণে দুই দেশের মধ্যকার প্রধান দুটি সীমান্ত পারাপারের অন্যতম এই তোরখাম সীমান্তটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বাণিজ্য এবং মানুষের চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে সীমান্ত খোলার বিষয়টি শুধুমাত্র পাকিস্তানে অবৈধভাবে অবস্থানের কারণে আটক আফগান নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে পরবর্তীতে বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের চলাচলসহ অন্যান্য কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে পুনরুদ্ধার করা হবে।

২০২৩ সালে পাকিস্তান অবৈধ আফগান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান শুরু করে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার এবং প্রত্যাবাসন করা হয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের মূলে ছিল তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) কর্তৃক পাকিস্তানে বেশ কিছু প্রাণঘাতী হামলা। ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছিল যে কাবুল এই জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে, তবে কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে টিটিপির আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। কাবুলের দাবি অনুযায়ী ওই হামলায় অনেক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, যদিও ইসলামাবাদ দাবি করেছে যে সেখানে ৫০০-র বেশি টিটিপি জঙ্গি নিহত হয়েছে।

তুরস্ক, সৌদি আরব এবং কাতারের অনুরোধে গত ১৮ মার্চ ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে উভয় পক্ষ এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। এর পাশাপাশি, মঙ্গলবার খাইবার পাখতুনখাওয়ার রাজধানী পেশোয়ারে দুই দেশের প্রবীণ নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি 'জির্গা' বা উপজাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা কয়েক সপ্তাহের আন্তঃসীমান্ত সহিংসতার পর দুই প্রতিবেশীর মধ্যে নতুন করে সংলাপের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য যে, পাকিস্তান এবং স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তানের মধ্যে ১৮টি সীমান্ত পারাপার পয়েন্ট রয়েছে, যার মধ্যে তোরখাম এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের চামান সবচেয়ে ব্যস্ততম।

 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন