ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২৯ মাঘ ১৪৩২, ২২ শা'বান ১৪৪৭

শিরোনাম

Scroll
ভোট কেনাবেচার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে ইসি
Scroll
সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানালেন সিইসি
Scroll
আলেম-ওলামাদের প্রতি তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা
Scroll
নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে র‌্যাব
Scroll
নির্বাচনে নারীদের নিরাপদ ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান জাতিসংঘের
Scroll
ভোটের আগে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার, ব্যাপক টহল শুরু
Scroll
প্রধান উপদেষ্টার উদাত্ত আহ্বান: নির্বাচনে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন
Scroll
ব্রিটনি স্পিয়ার্স ২০ কোটি ডলারে গানের স্বত্ব বিক্রি করেছেন
Scroll
ঢাকার পানিদূষণ কমাতে ৩৭০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের
Scroll
পশ্চিম কানাডায় গণগুলিতে সাতজন স্কুলছাত্রসহ অন্তত নয়জন নিহত
Scroll
বরিশালে নির্বাচনের সরঞ্জাম বিতরণ
Scroll
শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : সিইসি
Scroll
ভোট পর্যবেক্ষণে ঢাকায় ৩৯৪ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, ১৯৭ বিদেশি সাংবাদিক
Scroll
সাগর–রুনি হত্যার ১৪ বছর: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও নেই অগ্রগতি
Scroll
উপদেষ্টাদের কার কত সম্পদ
Scroll
নির্বাচনী মাঠে তৎপর আনসার বাহিনীর ১,১৯১টি স্ট্রাইকিং টিম
Scroll
পত্রিকা: ২৯০৬ কেন্দ্রে সংঘাতের শঙ্কা, ব্যালটের ভোটে বুলেটের থ্রেট
Scroll
অধ্যাপক ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার কতটা সফল আর কতটা ব্যর্থ
Scroll
নির্বাচিত সরকার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করবে : প্রধান উপদেষ্টা
Scroll
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর স্টল ভাড়া ৫৫ শতাংশ মওকুফ

ঢাকার পানিদূষণ কমাতে ৩৭০ মি. ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের

বাসস

প্রকাশ: ১৬:৪৮, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ঢাকার পানিদূষণ কমাতে ৩৭০ মি. ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের

যুত্করাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকের মূল ভবন। ছবি: সংগৃহীত।

ঢাকায় স্যানিটেশন ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করে পানিদূষণ কমানো এবং নদী-খাল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালনা পর্ষদ।

‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ বৃহত্তর ঢাকায় পানিদূষণ কমাতে স্থানীয় ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা জোরদার করবে। দেশের মোট আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের প্রায় অর্ধেক এবং জিডিপির এক-তৃতীয়াংশই আসে বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চল থেকে।

বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কর্মসূচিতে ফলাফলভিত্তিক পদ্ধতি চালু করা হবে, যাতে সিটি কর্পোরেশন এবং পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) মাঠ পর্যায়ে পরিমাপযোগ্য উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। এর আওতায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্যানিটেশন সেবা এবং ৫ লাখ মানুষকে উন্নত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা দেওয়া হবে। দূষণ ও সেবা ঘাটতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, ‘বৃহত্তর ঢাকায় বসবাসকারী লাখো মানুষের জীবনরেখা হলো জলাশয়গুলো। কিন্তু দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন এ শহরের বর্জ্য ও দূষণ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই কর্মসূচি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দূষণ কমানো এবং ঢাকার নদী-খালের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।’

ঢাকা গুরুতর বর্জ্যপানি ও পানিদূষণ সমস্যায় রয়েছে। মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ বাসিন্দার পাইপলাইনভিত্তিক পয়ঃনিষ্কাশন সংযোগ রয়েছে, আরও ২ শতাংশ কার্যকর ফিকাল স্লাজ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। অপরিশোধিত বর্জ্যপানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ৮০ শতাংশের বেশি সরাসরি ঢাকার নদী ও খালে গিয়ে পড়ে। এছাড়া, ঢাকার অর্ধেকেরও বেশি খাল বিলুপ্ত, ভরাট বা অবরুদ্ধ হওয়ায় দূষণ আরও বেড়েছে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্মসূচিটি সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে সেবা প্রদান উন্নত করা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং দূষণ কমিয়ে ও প্রবাহক্ষমতা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ঢাকার নদী-খাল পুনরুজ্জীবিত করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিল্প দূষণও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানার প্রায় ৮০ শতাংশ ঢাকায় অবস্থিত। ৭ হাজারের বেশি কারখানা প্রতিদিন আনুমানিক ২ হাজার ৪০০ মিলিয়ন লিটার অপরিশোধিত বর্জ্যপানি জলপথে নিঃসরণ করে। এর ফলে চর্মরোগ, ডায়রিয়া ও স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়।

কর্মসূচিতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ জোরদার হবে। বিশেষত ঢাকার ভেতর ও আশপাশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিল্প বর্জ্যপানি শোধন ও পানি পুনর্ব্যবহারে দক্ষতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করা হবে। এতে পানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং দূষণ কমবে।

প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন বিশেষজ্ঞ হর্ষ গোয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক পানি নিরাপত্তা ও সহনশীলতা এজেন্ডা সমর্থনে এটি বহুধাপের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির অংশ।’

তিনি বলেন, ‘এই ধাপে ঢাকার জলাশয়ে দূষণ নিঃসরণ কমানো অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়ন্ত্রক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। এর মধ্যে থাকবে নদীগুলোর জন্য সমন্বিত পানি মান সূচক প্রণয়ন, ডিজিটাল রিয়েল-টাইম দূষণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং ঢাকার চারটি প্রধান নদীর জন্য সমন্বিত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা।’

প্রথম ধাপে কর্মসূচিটি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নির্বাচিত এলাকায় বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রধান খাল ও নদীর আশপাশের সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহের আওতা বাড়ানো এবং পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা উন্নত করা হবে।

সাথে কঠিন বর্জ্য ফেলা, ড্রেনেজ নেটওয়ার্কে সরাসরি পয়ঃনিষ্কাশন এবং নদী-খালে শিল্প বর্জ্যপানি নিঃসরণ বন্ধে কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন সচেতনতা কার্যক্রম ও আইন প্রয়োগ জোরদার করা হবে।

স্বাধীনতার পর থেকে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের একটি প্রধান সহায়তাকারী উন্নয়ন অংশীদার। এ পর্যন্ত সংস্থাটি অনুদান, সুদমুক্ত ও স্বল্পসুদে ঋণ হিসেবে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে ৪৩টি প্রকল্পে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন চলমান রয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন