শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭:৫৭, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৫৯, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টেক্সাসের এল পাসো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবি: সংগৃহীত।
টেক্সাসের এল পাসো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট আগামী ১০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) বুধবার ভোরে জানিয়েছে, "বিশেষ নিরাপত্তা জনিত কারণে" এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:এলাকা: এই নির্দেশনার ফলে এল পাসো এবং এর পার্শ্ববর্তী নিউ মেক্সিকোর সান্তা তেরেসা এলাকার আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে, খবর এনবিসি নিউজের।
সময়সীমা: নিষেধাজ্ঞাটি বুধবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নিরাপত্তা সতর্কতা: আকাশসীমাটিকে 'জাতীয় প্রতিরক্ষা আকাশসীমা' (National Defense Airspace) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এফএএ সতর্ক করেছে যে, কোনো বিমান যদি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তবে সেটির বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি (Deadly Force) ব্যবহার করা হতে পারে। এছাড়া নির্দেশ অমান্যকারী পাইলটদের আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
রহস্যময় কারণ: এতো দীর্ঘ সময়ের জন্য বড় একটি বিমানবন্দরের ফ্লাইট কেন বন্ধ করা হলো, সে বিষয়ে এফএএ বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। তারা কেবল "বিশেষ নিরাপত্তা কারণ" শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছে।
এল পাসো শহরটি মেক্সিকো সীমান্তের পাশে অবস্থিত এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনবহুল শহর। এই হঠাৎ নিষেধাজ্ঞার ফলে হাজার হাজার যাত্রী এবং পণ্যবাহী বিমান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে।
মেক্সিকোর ওপর প্রভাব নেই:এ ল পাসো বিমানবন্দর মেক্সিকো সীমান্তের ঠিক পাশেই অবস্থিত। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমার জন্য কার্যকর। অর্থাৎ, সীমান্তের ওপারে হুয়ারেজ (Juárez) এবং মেক্সিকোর আকাশসীমায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকছে।
বিশাল যাত্রী ভোগান্তি: ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসেই এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রায় ৩৪.৯ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেছেন। সাউথওয়েস্ট, ডেল্টা, ইউনাইটেড এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্সের মতো বড় সংস্থাগুলোর সব ফ্লাইট এখন বন্ধ।
আকস্মিক বন্ধ: মঙ্গলবার রাত ১০:৫৭ মিনিটে শিকাগো থেকে আসা আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটই ছিল এল পাসোতে নামা শেষ বিমান। এরপর রাত ১:১৩ মিনিটে ওয়াশিংটন থেকে আসা একটি বেসরকারি বিমানকে অবতরণ করতে না দিয়ে নিউ মেক্সিকোর লাস ক্রুসেস (Las Cruces) বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
জাতীয় নিরাপত্তা সতর্কতা: যেহেতু এলাকাটিকে 'ন্যাশনাল ডিফেন্স এয়ারস্পেস' বলা হয়েছে, তাই ১৮,০০০ ফুটের নিচে সব ধরনের বাণিজ্যিক, মালবাহী (Cargo) এবং ব্যক্তিগত বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি জরুরি মেডিকেল হেলিকপ্টার চলাচলের ওপরও বিধিনিষেধ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই নিষেধাজ্ঞার কারণ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক ব্যাখ্যা না আসায় জনমনে কৌতূহল ও উদ্বেগ বাড়ছে।