শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫:৩২, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতীকি ছবি: সংগৃহীত।
মার্কিন আফ্রিকার কমান্ডের (AFRICOM) প্রধান জেনারেল মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাইজেরিয়ায় একটি ছোট সৈন্য দল পাঠিয়েছে। ক্রিসমাস ডে-তে ওয়াশিংটনের বিমান হামলার পর এই প্রথম দেশটিতে মার্কিন স্থলবাহিনীর উপস্থিতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হলো।
গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় তথাকথিত 'ইসলামিক স্টেট' লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতে সেখানে আরও সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, খবর রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনালের।
পশ্চিম আফ্রিকায় সন্ত্রাসবাদী হুমকি মোকাবিলায় উভয় দেশ একমত হওয়ার পর এই মার্কিন দলটি পাঠানো হয়েছে। AFRICOM-এর প্রধান জেনারেল ড্যাগভিন আর.এম. অ্যান্ডারসন সাংবাদিকদের জানান, "দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ফলে এই ছোট মার্কিন দলটি সেখানে গেছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশেষ সক্ষমতা (Unique capabilities) ব্যবহার করবে।"
প্রেসিডেন্টদের বৈঠক: অ্যান্ডারসন মিশনের আকার বা পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবে তিনি উল্লেখ করেন যে গত বছরের শেষের দিকে রোমে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবুর সাথে তার বৈঠকের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ক্রিস্টোফার মুসা নিশ্চিত করেছেন যে, একটি দল দেশে কাজ করছে, তবে তিনিও বিস্তারিত তথ্য দেননি।
একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, এই মার্কিন দলটি মূলত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নাইজেরীয় বাহিনীকে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালাতে সহায়তা করার কাজে নিবিড়ভাবে জড়িত। তবে এই দলটি ঠিক কবে নাইজেরিয়ায় পৌঁছেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ওয়াশিংটনের চাপ
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় ইসলামপন্থী জঙ্গিদের হাত থেকে খ্রিস্টানদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে নাইজেরিয়া সরকারের ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যাপক চাপ ছিল। মূলত সেই চাপের মুখেই এই সামরিক সহযোগিতা ত্বরান্বিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাইজেরীয় সরকারের অবস্থান ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
নাইজেরীয় সরকার খ্রিস্টানদের ওপর কোনো পরিকল্পিত নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সামরিক অভিযানগুলো কেবল ইসলামপন্থী যোদ্ধা এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে, যারা খ্রিস্টান ও মুসলিম—উভয় সম্প্রদায়ের বেসামরিক নাগরিকদের ওপরই হামলা চালায়।
সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু:
জঙ্গি গোষ্ঠী: বোকো হারাম এবং ইসলামিক স্টেট পশ্চিম আফ্রিকা প্রদেশ (ISWAP) বর্তমানে সামরিক বহর এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলা জোরদার করেছে। উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়া এখনও এই ১৭ বছরের দীর্ঘ ইসলামপন্থী বিদ্রোহের মূল কেন্দ্রবিন্দু (Epicentre) হয়ে আছে।সোকোতো হামলা: মার্কিন আফ্রিকা কমান্ড জানিয়েছে যে, নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে সোকোতো (Sokoto) রাজ্যে বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যাতে বেশ কয়েকজন আইএসআইএস (ISIS) জঙ্গি নিহত হয়েছে।
ট্রাম্পের সতর্কতা ও হস্তক্ষেপের কারণ
গত অক্টোবরের শেষের দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টধর্ম একটি "অস্তিত্ব রক্ষার সংকটের" (Existential threat) মুখোমুখি। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা বন্ধে নাইজেরিয়া ব্যর্থ হলে তিনি সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপ করবেন। মূলত সেই হুঁশিয়ারির পথ ধরেই ডিসেম্বরের এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে।
সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগ ও বিশেষজ্ঞ মতামদ
মার্কিন এই সামরিক পদক্ষেপ নাইজেরিয়ার সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করেছে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
"আমি মনে করি এটি একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত," বিশ্লেষক প্রিন্স চার্লস ডিকসন গত সপ্তাহে আরএফআই-কে (RFI) বলেন। "স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো বিদেশি শক্তি নাইজেরিয়ার মাটিতে একতরফাভাবে সরাসরি সামরিক হামলা চালিয়েছে এবং আমাদের সরকার মূলত সেটিকে গ্রহণযোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।"