শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫:০৫, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৫:১৩, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার সৌজন্যে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) মঙ্গলবার গাজা, সুদান, হাইতি এবং আফগানিস্তানসহ বিশ্বের ৩৬টি ভয়াবহ জরুরি অবস্থার স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় চলতি বছরের জন্য ১০০ কোটি ডলারের আবেদন জানিয়েছে। ধনী দেশগুলোর বৈদেশিক সাহায্য হ্রাসের কারণে সংস্থাটি তাদের এই জরুরি অনুরোধ গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে, খবর ডেকান ক্রনিকলের।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, কত টাকা আসতে পারে সে বিষয়ে তাদের বাস্তববাদী হতে হয়েছে।
জেনেভায় সাংবাদিকদের কথা বলার সময় সংস্থাটির জরুরি স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান চিকওয়ে ইহেকওয়াজু বলেন, "বিশাল এই চাহিদা এবং কীভাবে তা পূরণ করব তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।" সংস্থাটির অনুমান অনুযায়ী, এ বছর ২৩ কোটি ৯০ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন হবে এবং এই অর্থ তাদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখতে সহায়তা করবে।
ইহেকওয়াজু সতর্ক করে বলেন, "প্রায় ২৫ কোটি মানুষ এমন মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যা তাদের নিরাপত্তা, আশ্রয় এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সুরক্ষাগুলো কেড়ে নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আঘাত, রোগের প্রাদুর্ভাব, অপুষ্টি বা দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণে স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা বহুগুণ বেড়ে গেছে।"
যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে সংস্থাটির সবচেয়ে বড় দাতা হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে তারা বৈদেশিক সাহায্য কমিয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফিরে আসার প্রথম দিনেই ট্রাম্প ডব্লিউএইচও থেকে নাম প্রত্যাহারের এক বছরের নোটিশ প্রদান করেন। গত বছর সংস্থাটি ১৫০ কোটি ডলারের আবেদন জানালেও মাত্র ৯০ কোটি ডলার পেয়েছিল—যা ২০১৬ সালের চাইতেও কম।
ইহেকওয়াজু জানান, বর্তমান পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে তারা তাদের আবেদনের অংক কিছুটা কমিয়েছেন। সংস্থাটি এখন যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রাণ বাঁচানো সম্ভব এমন উচ্চ-প্রভাবশালী সেবাগুলোতে "অতি-অগ্রাধিকার" দিচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কাজ করার জন্য সংস্থাটি এখন ১,৫০০ স্থানীয় অংশীদারকে আরও বেশি সক্ষম করে তোলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
২০২৬ সালের অগ্রাধিকারমূলক জরুরি প্রতিক্রিয়ার তালিকায় কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, মিয়ানমার, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া, ইউক্রেন এবং ইয়েমেনের পাশাপাশি চলমান কলেরা ও এমপক্স প্রাদুর্ভাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইহেকওয়াজু সতর্ক করে বলেন যে অর্থ না আসলে বিশ্ব মহামারী এবং অতিমারীর ঝুঁকিতে পড়বে। তিনি বলেন, "বৈশ্বিক সংহতি ছাড়া এই চ্যালেঞ্জগুলো এমনিতেই দূর হয়ে যাবে বলে ভাবাটা নিছক কল্পনা। এর পরিণতি শুধু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য ভয়াবহ হতে পারে।"
গত বছরের শীর্ষ দাতাদের মধ্যে ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, জাপান, ইতালি এবং ব্রিটেন। ইহেকওয়াজু বলেন, এবারের আবেদনের প্রাথমিক সাড়া বেশ আশাব্যঞ্জক। তিনি মন্তব্য করেন, "বিশ্বের অনেক দেশ আছে যারা আরও বেশি সাহায্য করতে পারে এবং করা উচিত... কখনও কখনও যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি কথা বলে, তারা কাজে সবচেয়ে কম অবদান রাখে।"
গত বছর ডব্লিউএইচও ৮২টি দেশে ৫০টি স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থায় সাড়া দিয়ে ৩ কোটি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দিয়েছে। তবে অর্থ সংকটের কারণে ২২টি মানবিক পরিস্থিতিতে ৬,৭০০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ বা সেবা কমাতে বাধ্য হয়েছে, যার ফলে ৫ কোটি ৩০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সংস্থাটি এখন দেশগুলোর শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে আশা করছে এবং একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বিশ্বের জন্য বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছে।