শিরোনাম
বাসস
প্রকাশ: ২১:১৪, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৫, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতিনিধিত্বশীল ছবি: বাসস।
ইরানের নারীরা এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স নিতে পারবেন বলে বুধবার স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুই চাকার যানবাহন চালানোর ব্যাপারে দীর্ঘদিনের আইনি অস্পষ্টতার অবসান ঘটল।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ঢাকায় এখবর দিয়েছে বাসস।
আগের আইনে নারীদের মোটরবাইক ও স্কুটার চালানো স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা না হলেও কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স দিতে অস্বীকৃতি জানাতো। আইনি অস্পষ্টার কারণে নারীরা দুর্ঘটনার কবলে পড়লে তাদের নিজেদের দায়ভার বহন করতে হতো।
ট্রাফিক আইন স্পষ্ট করে ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ মঙ্গলবার একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। জানুয়ারির শেষ দিকে ইরানের মন্ত্রিসভা এ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বলে দেশটির ইলনা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
ইলনা জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ নারী আবেদনকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান, পুলিশের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা আয়োজন এবং নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স প্রদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন এসেছে। তেহরান স্বীকার করেছে, বিক্ষোভ চলাকালে ৩ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে তারা দাবি করেছে, নিহতের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং পথচারী।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানে নারীরা নানা সামাজিক বিধিনিষেধের মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে ড্রেস কোড মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
ইরানে নারীদের জনসম্মুখে মাথায় ওড়না দিয়ে চুল ঢেকে চলতে হয় এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হয়। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক নারী এসব নিয়ম মানছেন না এবং মোটরবাইকে নারীদের সংখ্যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দ্রুত বেড়েছে।
ইরানে পুলিশি হেফাজতে তরুণী মাহশা আমিনির মৃত্যুর ঘটনার পর এই প্রবণতা বেড়ে যায়। এই ইরানি নারীকে ড্রেস কোড লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।